¦
বগুড়ায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ চরমে : বিদ্যুৎ নেই ৪ দিন

বগুড়া ব্যুরো | প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৫

বগুড়ায় শনিবার সন্ধ্যায় প্রলংকারী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় চারদিন বিদ্যুৎ না থাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির জন্য তাদের ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ওইসব এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক এলাকায় ছিনতাই এবং বাড়িতে চালা ও বেড়া না থাকায় চুরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ স্থানে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া ঝড়ে ৯১ হাজার ৮৯৪টি পরিবারের ৯৮ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা চার লাখ ১৩ হাজার ৭০৪ জন। ঝড়ের সময় দেয়াল ও গাছ চাপা, বিদ্যুতায়িত এবং নৌকা ডুবিতে নারী-শিশুসহ ১৯ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। জেলা প্রশাসনের হিসাবে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৬৭ এবং আংশিক ৭০ হাজার ৩০১টি। ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ এবং ১৪৭টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে নিহত প্রতি পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও সহায়তা পেতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘরের চালা উপড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে আছে। তারা বৃষ্টিতে ভিজছেন ও রোদে পুড়ছেন। কোনো কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীরা মাঠে ক্লাস করছে। গত চারদিনে ৭০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শহরে বাসাবাড়িতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির জন্য জনগণকে বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেককে পানি কিনে ব্যবহার করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার রিকশা চলাচল কমে গেছে। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা মোমবাতির দাম বৃদ্ধি করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক চন্ডিদাস জানান, ঝড়ে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা, ৫০০ হেক্টর জমির শাকসবজি ও ১০০ হেক্টর জমির কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র জানান, সামাজিক বনায়নের ১০ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি সবমিলেয়ে অর্ধ লক্ষাধিক গাছ পড়ে গেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে খুঁটি উপড়ে পড়ে ও তার ছিঁড়ে যায়।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close