¦
পুঠিয়ায় মাদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ

কেএম রেজা, পুঠিয়া থেকে | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

পুঠিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ফরহাদ আখন্দ এখন নিজেই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চার উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসোয়ারা হিসেবে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটককৃত বেশিরভাগ মাদকদ্রব্য তিনি গোপনে বিক্রি করছে। আবার অনেক মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচারকারীকে আটকের পর মোটা অংকের অর্থের বিনিময় ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, রাজশাহীর পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা ও নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পুঠিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সার্কেল অফিস। অফিসে পরিদর্শক ফরহাদ আখন্দসহ মোট চারজন সদস্য কর্মরত আছেন। তিনি প্রায় দুবছর পূর্বে এই সার্কেলের দায়িত্বে নেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় ওই মাদক কর্মকর্তার সোর্স নামক আদায়কারী শক্তি শাওতালেয় অধিনে চামেলী, সেফালী, বিরেন, রামলাল ও ভারতী কয়েকটি চোলাইমদ কারখানা গড়ে তুলেছে। বেলপুকুরে রয়েছে আরও অর্ধশত চোলাই মদ তৈরির কারখানা। এসব কারখানা পরিচালনা করে, দুলাল, নাসির, হালি, কাশেম, মমিন, মোনতাজ ও সুফিয়া বেগম। বানেশ্বর পূর্বপাড়ায় গড়ে উঠেছে হেরোইনপাড়া। সেখানে বিমল, মোরশেদ, সেলিম, আফজাল, সাইফুলসহ দুডজন হেরোইন বিক্রেতা রয়েছে। বেলপুকুরে তিনটি স্থানে জাহিম বাদশা লাল ভানু ফেনসিডিল পাড়া গড়ে তুলেছে। এছাড়া আটভাগ, ধোপাপাড়া, ভালুকগাছিতে একাধিক চোলাই মদ ও হেরোইন পাড়া গড়ে উঠেছে। দুর্গাপুর উপজেলার সিংড়া এলাকার মইদুল, গোড়খাই এলাকার জালাল, কানপাড়া এলাকার শহিদুল, মনিরুল, আনারুল মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। বাগমারা উপজেলার দেউলিয়া, মহব্বতপুর, মাদারীগঞ্জ, চাঁনপুর ও ভবানীগঞ্জ এলাকায়ও মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। এছাড়া নাটোর জেলার লালপুর বাজার পাড়া ও নবীনগরে গনেশ, খগেন, গোপাল, সান্তী রানী ও হেরোইন ব্যবসায়ী বেলাল প্রকাশ্যে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীরা মাদক সার্কেল কর্মকর্তার সঙ্গে গোপনে মাসিক চুক্তিতে দেদার তাদের ব্যবসা করে আসছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকার ভেদে ওই কর্মকর্তাকে মাসিক ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিচ্ছে। আর চাঁদার বেশিরভাগ টাকা লেনদেন হচ্ছে ওই কর্মকর্তার মোবাইলের বিকাশ নম্বরে। বাকি টাকা বিভিন্ন স্থান থেকে আদায় করছে মাদক ব্যবসায়ী ও সোর্স নামধারী শক্তি শাওতাল। পুঠিয়ার ভরুয়াপাড়া এলাকার চোলাই মদ তৈরির কারিগর ফজিলা বেগম জানায়, ১৭ ফেব্র“য়ারি ওই মাদক কর্মর্কতা এই এলাকায় অভিযান চালায়। পরে দেড়শ লিটার চোলাইমদসহ তাকে আটক করা হয়। সে সময় ওই কর্মকর্তার তাকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকার চাঁদা দাবি করেন। তার চাহিদা মোতাবেক বিকাশের মাধ্যমে তার নম্বরে টাকা দেয়া হলেও তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেন। এ ব্যাপারে জেলা মাদক কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, জনবল সংকটের কারণে আমাদের সেবা কিছু ব্যাহত হচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলাও দেয়া হচ্ছে। আর ওই কর্মকর্তার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close