jugantor
মাদারগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের সাইড লাইন বাণিজ্য

  মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইড লাইন (পার্শ্বসংযোগ) বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রাহকের মিটার থেকে পার্শ্বসংযোগ দিতে গিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে দুর্বল বাঁশের খুঁটি ও গাছের ডাল। এতে প্রায়ই তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিনিময়ে পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসে আয় হচ্ছে অন্তত ১২ লাখ টাকা। জানা গেছে, মাদারগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা ১৫ হাজার। এর মধ্যে অন্তত ৪ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের মিটার থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে যাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশে খুঁটি ও গাছের ডাল ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে আধা কিলোমিটার থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিদ্যুতের তার টেনে নেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে। সম্প্রতি এ ধরনের সংযোগ থেকে ছিঁড়ে পড়া তারে পা জড়িয়ে তারতাপাড়া গ্রামে মরিয়ম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পার্শ্ব বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিমাসে অন্তত ১২ লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জরিমানার টাকার কিছু অংশ পল্লীবিদ্যুতের তহবিলে জমা হলেও ওই টাকার একটা বড় অংশ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। যে কারণে এসব পার্শ্বসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে লোড বেশি হওয়ায় তাদের এলাকায় প্রায়ই বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার জ্বলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দিনের পর দিন এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে থাকে। পরে সাধারণ গ্রাহকদেরই আবার চাঁদা দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লীবিদ্যুতের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান জানান, তারা প্রায়ই পার্শ্বসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু এলাকাবাসী পরে আবারও সংযোগ দিয়ে নেন। এ অবস্থায় তাদের আর কিছু করার থাকে না। তিনি জানান, সাইড লাইনের জরিমানার টাকা রসিদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ অফিসে জমা হয়। এছাড়া যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদ্যুতের সাইড লাইন দিয়ে টাকা গ্রহণ করেন তাহলে তার দায়দায়িত্ব তারাই বহন করবেন।



সাবমিট

মাদারগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের সাইড লাইন বাণিজ্য

 মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইড লাইন (পার্শ্বসংযোগ) বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রাহকের মিটার থেকে পার্শ্বসংযোগ দিতে গিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে দুর্বল বাঁশের খুঁটি ও গাছের ডাল। এতে প্রায়ই তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিনিময়ে পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসে আয় হচ্ছে অন্তত ১২ লাখ টাকা। জানা গেছে, মাদারগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা ১৫ হাজার। এর মধ্যে অন্তত ৪ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের মিটার থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে যাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশে খুঁটি ও গাছের ডাল ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে আধা কিলোমিটার থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিদ্যুতের তার টেনে নেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে। সম্প্রতি এ ধরনের সংযোগ থেকে ছিঁড়ে পড়া তারে পা জড়িয়ে তারতাপাড়া গ্রামে মরিয়ম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পার্শ্ব বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিমাসে অন্তত ১২ লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জরিমানার টাকার কিছু অংশ পল্লীবিদ্যুতের তহবিলে জমা হলেও ওই টাকার একটা বড় অংশ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। যে কারণে এসব পার্শ্বসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে লোড বেশি হওয়ায় তাদের এলাকায় প্রায়ই বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার জ্বলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দিনের পর দিন এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে থাকে। পরে সাধারণ গ্রাহকদেরই আবার চাঁদা দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লীবিদ্যুতের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান জানান, তারা প্রায়ই পার্শ্বসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু এলাকাবাসী পরে আবারও সংযোগ দিয়ে নেন। এ অবস্থায় তাদের আর কিছু করার থাকে না। তিনি জানান, সাইড লাইনের জরিমানার টাকা রসিদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ অফিসে জমা হয়। এছাড়া যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদ্যুতের সাইড লাইন দিয়ে টাকা গ্রহণ করেন তাহলে তার দায়দায়িত্ব তারাই বহন করবেন।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র