jugantor
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
উদ্বোধনের পরেও ঝুলছে তালা

  এনামুল হক, ধর্মপাশা থেকে  

২০ অক্টোবর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনের ৩ মাস পরও তালা ঝুলছে ১৯ শয্যার নতুন ভবনে। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ১৯ শয্যার ৩তলা একটি ভবন ৩ মাস আগে উদ্বোধন করা হলেও এটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের আসন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অনেক রোগীকেই নিরুপায় হয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আড়াই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গত বছরের ৩০ জুন তিনতলা বিশিষ্ট ১৯ শয্যার একটি ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ৩০ মে স্থানীয় এমপি সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ওই ভবনটি উদ্বোধন করেন। ভবনটি উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ভবনটি রোগীদের ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৬ মার্চ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি ও ৫০ শয্যা ভবনের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হলেও এ নিয়ে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নবনির্মিত ১৯ শয্যার তিনতলা ভবনটির ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এ অবস্থায় রোগীদের নিরুপায় হয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, বর্তমান সরকার রোগীদের চিকিৎসার মানোন্নয়নের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করলেও এ ভবনটি রোগীদের কোনো কাজেই আসছে না। তাই প্রচণ্ড গরমে বারান্দায় থেকে চিকিৎসাসেবা পেতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নানাবিধ সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগাক্রান্ত। এটি হাওর এলাকা হওয়ায় এ হাসপাতালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খুব বেশি নজর পড়ে না।

মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম খান জানান, নতুন ভবনটি চালু করা সম্ভব হলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র না থাকায় ভবনটি উদ্বোধন হলেও এটিতে তালা ঝুলিয়ে রাখতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাবতীয় সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মো. আবদুল হাকিম বলেন, হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।



সাবমিট
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

উদ্বোধনের পরেও ঝুলছে তালা

 এনামুল হক, ধর্মপাশা থেকে 
২০ অক্টোবর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধনের ৩ মাস পরও তালা ঝুলছে ১৯ শয্যার নতুন ভবনে। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ১৯ শয্যার ৩তলা একটি ভবন ৩ মাস আগে উদ্বোধন করা হলেও এটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীদের আসন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় অনেক রোগীকেই নিরুপায় হয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আড়াই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গত বছরের ৩০ জুন তিনতলা বিশিষ্ট ১৯ শয্যার একটি ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ৩০ মে স্থানীয় এমপি সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ওই ভবনটি উদ্বোধন করেন। ভবনটি উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ভবনটি রোগীদের ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৬ মার্চ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি ও ৫০ শয্যা ভবনের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হলেও এ নিয়ে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নবনির্মিত ১৯ শয্যার তিনতলা ভবনটির ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এ অবস্থায় রোগীদের নিরুপায় হয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, বর্তমান সরকার রোগীদের চিকিৎসার মানোন্নয়নের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করলেও এ ভবনটি রোগীদের কোনো কাজেই আসছে না। তাই প্রচণ্ড গরমে বারান্দায় থেকে চিকিৎসাসেবা পেতে গিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নানাবিধ সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগাক্রান্ত। এটি হাওর এলাকা হওয়ায় এ হাসপাতালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খুব বেশি নজর পড়ে না।

মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ হাসপাতালের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম খান জানান, নতুন ভবনটি চালু করা সম্ভব হলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র না থাকায় ভবনটি উদ্বোধন হলেও এটিতে তালা ঝুলিয়ে রাখতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাবতীয় সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মো. আবদুল হাকিম বলেন, হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র