jugantor
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা রফতানি হচ্ছে বিদেশেও

  আজমল খান, সিলেট ব্যুরো  

২০ অক্টোবর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা একটি প্রসিদ্ধ খাদ্যের নাম। এই সাতকরার দেশ-বিদেশে রয়েছে অনেক খ্যাতি। ধনী-গরিবের ব্যবধান ঘুচিয়ে এটি সবার খাদ্য তালিকার প্রথম সারিতে। সিলেটে আতিথেয়তার জন্য এর জুড়ি নেই। যে কোনো ধরনের খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পুরো ১২ মাসই খেতে পারেন।

সিলেট ছাড়া অন্য কোথাও এটি পাওয়া যায় না। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এটি বিদেশেও রফতানি করা হয়। ইউরোপ আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যেও রফতানি করা হয়। এটি সিলেটের একটি অর্থকরী ফসল। তার বিশেষ গুণাগুণ, আলাদা বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি রয়েছে। এ সাতকরা মাছ ভোনা, মাংস ভোনার সঙ্গে কিংবা আচার তৈরি করেও খাওয়া যায়। সুস্বাধু খাবারের ঐতিহ্যের বিশাল একটি অংশ দখল করে রয়েছে এ খাদ্য। সাতকরা রান্না করা হলে তার ঘ্রাণ ও সুগন্ধিতে জিভে পানি এসে যায়। এর কদরও অনেক বেশি। একটু ভালো হাতে রান্না করা হলে না খেয়ে উপায় নেই।

নামিদামি খাবারের সঙ্গে সাতকরার তরকারি অথবা আচার না থাকলে খাবার যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তবে মজার ব্যাপার হল এ সাতকরা কীভাবে খেতে হয় তা জানা না থাকলে বিপত্তি দেখা দেয়। যে রান্না করবে অবশ্য তাকে আগেভাগেই জেনে নিতে হবে। রান্না প্রাণালি জানা না থাকলে যে রাঁধবে তাকে দুর্নামের দায় নিতে হবে। যদি সারা বছর খেতে চান তাহলে ফ্রিজে রাখতে পারেন অথবা লেবুরমতো টুকরো টুকরো করে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। ভালো করে শুকানোর পর তেল ও পরিমানমতো রসুন দিয়ে ভাজতে হবে। এরপর ধনিয়া ও হলুদ দিতে হবে। ভাজা শেষ হলে পাঁচফোড়ন, লবঙ্গ, গোল মরিচ এলাচি মশলা মাখিয়ে তেল ও শিরকা দিয়ে চুবিয়ে রাখতে হবে। যে কৌটায় রাখা হবে কৌটাটি ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর কৌটায় ভরে প্রখর রোদে কমপক্ষে সপ্তাহ শুকানোর পরই তৈরি হবে সুস্বাধু আচার।

যদি এটি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখতে চান তাহলে সপ্তাহে অন্তত একদিন শুকাতে হবে। এর পর এটি সারা বছর খেতে পারেন। অন্য প্রণালিতেও আচার তৈরি করা যায়। লেবুর মতো টুকরো করে রোদে না শুকিয়ে তেলে ভাজতে হবে। ভাজার পর এটাকে রোদে শুকাতে হবে। এভাবে একাধিক রকমের সুস্বাধু আচার তৈরি হয়। কাঁচা টুকরো করে মাছ মংসতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। বাবুর্চি এলাইচ মিয়া জানান, সাতকরা রান্নার বিভিন্ন ধরনের প্রণালি রয়েছে। একাধিক আইটেম তৈরি করা যায়। মাংস দিয়ে রান্না করে খাবার পরিবেশন করা হলে যে কেউ খেতে চাইবে। তিনি খেতে চাননা তারও খাবারের আগ্রহ বেড়ে যায় রুচিশীল সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার পর। তিনি জানান, সাতকরার আচারের কোনো তুলনা হয় না। এছাড়া এর ঔষধি গুণও রয়েছে। এভাইে এটি দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে সমাদৃত।



সাবমিট

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা রফতানি হচ্ছে বিদেশেও

 আজমল খান, সিলেট ব্যুরো 
২০ অক্টোবর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাতকরা একটি প্রসিদ্ধ খাদ্যের নাম। এই সাতকরার দেশ-বিদেশে রয়েছে অনেক খ্যাতি। ধনী-গরিবের ব্যবধান ঘুচিয়ে এটি সবার খাদ্য তালিকার প্রথম সারিতে। সিলেটে আতিথেয়তার জন্য এর জুড়ি নেই। যে কোনো ধরনের খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পুরো ১২ মাসই খেতে পারেন।

সিলেট ছাড়া অন্য কোথাও এটি পাওয়া যায় না। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এটি বিদেশেও রফতানি করা হয়। ইউরোপ আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যেও রফতানি করা হয়। এটি সিলেটের একটি অর্থকরী ফসল। তার বিশেষ গুণাগুণ, আলাদা বৈশিষ্ট্য ও পরিচিতি রয়েছে। এ সাতকরা মাছ ভোনা, মাংস ভোনার সঙ্গে কিংবা আচার তৈরি করেও খাওয়া যায়। সুস্বাধু খাবারের ঐতিহ্যের বিশাল একটি অংশ দখল করে রয়েছে এ খাদ্য। সাতকরা রান্না করা হলে তার ঘ্রাণ ও সুগন্ধিতে জিভে পানি এসে যায়। এর কদরও অনেক বেশি। একটু ভালো হাতে রান্না করা হলে না খেয়ে উপায় নেই।

নামিদামি খাবারের সঙ্গে সাতকরার তরকারি অথবা আচার না থাকলে খাবার যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তবে মজার ব্যাপার হল এ সাতকরা কীভাবে খেতে হয় তা জানা না থাকলে বিপত্তি দেখা দেয়। যে রান্না করবে অবশ্য তাকে আগেভাগেই জেনে নিতে হবে। রান্না প্রাণালি জানা না থাকলে যে রাঁধবে তাকে দুর্নামের দায় নিতে হবে। যদি সারা বছর খেতে চান তাহলে ফ্রিজে রাখতে পারেন অথবা লেবুরমতো টুকরো টুকরো করে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। ভালো করে শুকানোর পর তেল ও পরিমানমতো রসুন দিয়ে ভাজতে হবে। এরপর ধনিয়া ও হলুদ দিতে হবে। ভাজা শেষ হলে পাঁচফোড়ন, লবঙ্গ, গোল মরিচ এলাচি মশলা মাখিয়ে তেল ও শিরকা দিয়ে চুবিয়ে রাখতে হবে। যে কৌটায় রাখা হবে কৌটাটি ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর কৌটায় ভরে প্রখর রোদে কমপক্ষে সপ্তাহ শুকানোর পরই তৈরি হবে সুস্বাধু আচার।

যদি এটি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখতে চান তাহলে সপ্তাহে অন্তত একদিন শুকাতে হবে। এর পর এটি সারা বছর খেতে পারেন। অন্য প্রণালিতেও আচার তৈরি করা যায়। লেবুর মতো টুকরো করে রোদে না শুকিয়ে তেলে ভাজতে হবে। ভাজার পর এটাকে রোদে শুকাতে হবে। এভাবে একাধিক রকমের সুস্বাধু আচার তৈরি হয়। কাঁচা টুকরো করে মাছ মংসতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। বাবুর্চি এলাইচ মিয়া জানান, সাতকরা রান্নার বিভিন্ন ধরনের প্রণালি রয়েছে। একাধিক আইটেম তৈরি করা যায়। মাংস দিয়ে রান্না করে খাবার পরিবেশন করা হলে যে কেউ খেতে চাইবে। তিনি খেতে চাননা তারও খাবারের আগ্রহ বেড়ে যায় রুচিশীল সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার পর। তিনি জানান, সাতকরার আচারের কোনো তুলনা হয় না। এছাড়া এর ঔষধি গুণও রয়েছে। এভাইে এটি দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে সমাদৃত।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র