jugantor
বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব
কুড়িগ্রামে অবৈধ সংযোগ জড়িত পিডিবি

  আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম থেকে  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

কুড়িগ্রামে প্রকাশ্যে চলছে বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব। একাধিক মামলার পরও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় গণভাবে সেচ লাইন থেকে নেয়া হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। এখন আড়াল বলতে কিছুই নেই। পিডিবি কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করলেও নেয়া হয়নি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের উদ্যোগ। ফলে বেপরোয়া অসাধু কর্মকর্তাসহ লাইনম্যানরা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর পকেট ভারি হচ্ছে দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের। মাঝখানে লোডশেডিংয়ের ধকল পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীদের। শুধু তাই নয় সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব ও সরকারি বিধি-বিধান মানা হয়নি। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত পিডিবির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

সরজমিন কুড়িগ্রাম পৌরসভার পূর্বচর ভেলাকোপা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এ হরিলুট অবস্থা। এখানে প্রায় ২ শতাধিকেরও অধিক মানুষ কৃষিজমিতে সেচ সংযোগ নিয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান ভেঙে সেচ পাম্প সংযোগ থেকে সবাই বসতবাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছে। শুধু তাই নয় নিয়মের তোয়াক্কা না করে দুশ’ গজের মধ্যে বসানো হয়েছে এসব অগভীর নলকূপ। গত সেপ্টেম্বরে সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করার পর অবৈধ সংযোগের মাত্রা যেন বেড়ে গেছে। বর্তমানে কৃষিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩ টাকা ৮১ পয়সা এবং আবাসিকে ৯ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করায় অবৈধ সংযোগ হার বেড়েছে। সেচ পাম্পের সংযোগ

থেকে বছরব্যাপী চলছে আবাসিক সংযোগ। পূর্বচর ভেলাকোপা গ্রামের সুবিধাভোগী লালমিয়া, মাহাবুর, এরশাদুল, পিয়ার বখস্, জহুরুল, মমিনুল, আমিনুল, নজরুলসহ অনেকে জানান, সেচের লাইনের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী খালেক ঠিকাদার পিডিবিকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে লাইন সংযোগ নেন। সেখান থেকে সবাই সেচের সংযোগ বাড়িতে লাগিয়েছে। এজন্য আলাদাভাবে পোল বা লাইন নিতে হয়নি। পিডিবির লোকজন বিষয়টি জানে। তাদের সবাই মিনিমাম চার্জ পরিশোধ করছে। এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না তারা। এই কাজের ফলে বাঁশ ও বিভিন্ন গাছের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৫শ’ গজ দূর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ লাইন টেনে নেয়া হয়। কেন অবৈধভাবে সংযোগ নেয়া এ ব্যাপারে কেউ সদুত্তর দেয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন, গ্রামের কিছু লোক সেচের কথা বলে বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। দুর্বল লাইনের কারণে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পিডিবির অসাধু লোকজন নিজেদের পকেট ভারি করতে থাকছে নিরব। ফলে সরকার প্রতিমাসে এ গ্রাম থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। কৃষিজমিতে সেচ সংযোগ নিয়ে অনায়াসে বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ ব্যবহার অন্যায় জেনেও প্রতিমাসে মাসোহারা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করছে পিডিবির কর্মকর্তা ও লাইনম্যানরা। গড়ে ২০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ করে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সংযোগ নিচ্ছে। সেচ লাইনে বিদ্যুৎ বিল কম আসায় তারা এই সংযোগ নেয়। পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল খালেক জানান, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে দলের সহযোগিতায় ২০১১ সালে ৭টি পোলের মাধ্যমে পূর্বচর ভেলাকোপায় আমার ৮ একর জমির জন্য সেচ লাইন নিয়েছি। এখন এই লাইন আসার পর কে কীভাবে সংযোগ নিচ্ছে আমি জানি না। যারা সংযোগ নিচ্ছে তারা কাদের কাছে লেনদেন করছে সেটা আমার জানা নেই। পিডিবি অফিস সূত্র জানায়, জেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের চাহিদা মোতাবেক গ্রীষ্মকালীন ৮ মেগাওয়াট এবং শীতকালীন ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এখানে মোগলবাসা ইউনিয়নসহ সংযোগ লাইন রয়েছে ৩৪১ কিলোমিটার। এতে মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৯ হাজার ৫শ’। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা ১৫ হাজার ৮০টি, বিদ্যুৎ চালিত সেচ ৮৫৪টি, শিল্পকারখানা ২০৪টি, মাঝারি শিল্প ৮টি, বাণিজ্যিক ৩ হাজার ১৫৫টি, অনাবাসিক ১৭৮টি এবং রাস্তাসহ অন্যান্য ২১টি সংযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল অবৈধ সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আসছে। আমরা ইতিমধ্যে অবৈধ লাইন ও বকেয়া বিল আদায় এবং সেচ পাম্প সংযোগ নিয়ে আবাসিকে ব্যবহার করার ওপর ৬৩টি মামলা করেছি।



সাবমিট

বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব

কুড়িগ্রামে অবৈধ সংযোগ জড়িত পিডিবি
 আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম থেকে 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
কুড়িগ্রামে প্রকাশ্যে চলছে বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব। একাধিক মামলার পরও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় গণভাবে সেচ লাইন থেকে নেয়া হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। এখন আড়াল বলতে কিছুই নেই। পিডিবি কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করলেও নেয়া হয়নি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের উদ্যোগ। ফলে বেপরোয়া অসাধু কর্মকর্তাসহ লাইনম্যানরা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর পকেট ভারি হচ্ছে দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের। মাঝখানে লোডশেডিংয়ের ধকল পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীদের। শুধু তাই নয় সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব ও সরকারি বিধি-বিধান মানা হয়নি। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত পিডিবির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

সরজমিন কুড়িগ্রাম পৌরসভার পূর্বচর ভেলাকোপা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এ হরিলুট অবস্থা। এখানে প্রায় ২ শতাধিকেরও অধিক মানুষ কৃষিজমিতে সেচ সংযোগ নিয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান ভেঙে সেচ পাম্প সংযোগ থেকে সবাই বসতবাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছে। শুধু তাই নয় নিয়মের তোয়াক্কা না করে দুশ’ গজের মধ্যে বসানো হয়েছে এসব অগভীর নলকূপ। গত সেপ্টেম্বরে সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করার পর অবৈধ সংযোগের মাত্রা যেন বেড়ে গেছে। বর্তমানে কৃষিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩ টাকা ৮১ পয়সা এবং আবাসিকে ৯ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করায় অবৈধ সংযোগ হার বেড়েছে। সেচ পাম্পের সংযোগ

থেকে বছরব্যাপী চলছে আবাসিক সংযোগ। পূর্বচর ভেলাকোপা গ্রামের সুবিধাভোগী লালমিয়া, মাহাবুর, এরশাদুল, পিয়ার বখস্, জহুরুল, মমিনুল, আমিনুল, নজরুলসহ অনেকে জানান, সেচের লাইনের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী খালেক ঠিকাদার পিডিবিকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে লাইন সংযোগ নেন। সেখান থেকে সবাই সেচের সংযোগ বাড়িতে লাগিয়েছে। এজন্য আলাদাভাবে পোল বা লাইন নিতে হয়নি। পিডিবির লোকজন বিষয়টি জানে। তাদের সবাই মিনিমাম চার্জ পরিশোধ করছে। এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না তারা। এই কাজের ফলে বাঁশ ও বিভিন্ন গাছের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৫শ’ গজ দূর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ লাইন টেনে নেয়া হয়। কেন অবৈধভাবে সংযোগ নেয়া এ ব্যাপারে কেউ সদুত্তর দেয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন, গ্রামের কিছু লোক সেচের কথা বলে বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। দুর্বল লাইনের কারণে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পিডিবির অসাধু লোকজন নিজেদের পকেট ভারি করতে থাকছে নিরব। ফলে সরকার প্রতিমাসে এ গ্রাম থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। কৃষিজমিতে সেচ সংযোগ নিয়ে অনায়াসে বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ ব্যবহার অন্যায় জেনেও প্রতিমাসে মাসোহারা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করছে পিডিবির কর্মকর্তা ও লাইনম্যানরা। গড়ে ২০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ করে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সংযোগ নিচ্ছে। সেচ লাইনে বিদ্যুৎ বিল কম আসায় তারা এই সংযোগ নেয়। পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল খালেক জানান, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে দলের সহযোগিতায় ২০১১ সালে ৭টি পোলের মাধ্যমে পূর্বচর ভেলাকোপায় আমার ৮ একর জমির জন্য সেচ লাইন নিয়েছি। এখন এই লাইন আসার পর কে কীভাবে সংযোগ নিচ্ছে আমি জানি না। যারা সংযোগ নিচ্ছে তারা কাদের কাছে লেনদেন করছে সেটা আমার জানা নেই। পিডিবি অফিস সূত্র জানায়, জেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের চাহিদা মোতাবেক গ্রীষ্মকালীন ৮ মেগাওয়াট এবং শীতকালীন ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এখানে মোগলবাসা ইউনিয়নসহ সংযোগ লাইন রয়েছে ৩৪১ কিলোমিটার। এতে মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৯ হাজার ৫শ’। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা ১৫ হাজার ৮০টি, বিদ্যুৎ চালিত সেচ ৮৫৪টি, শিল্পকারখানা ২০৪টি, মাঝারি শিল্প ৮টি, বাণিজ্যিক ৩ হাজার ১৫৫টি, অনাবাসিক ১৭৮টি এবং রাস্তাসহ অন্যান্য ২১টি সংযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল অবৈধ সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আসছে। আমরা ইতিমধ্যে অবৈধ লাইন ও বকেয়া বিল আদায় এবং সেচ পাম্প সংযোগ নিয়ে আবাসিকে ব্যবহার করার ওপর ৬৩টি মামলা করেছি।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র