jugantor
অটোরিকশাই ভরসা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নবীরের

  শাওন খান, বরিশাল ব্যুরো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের যুদ্ধে নেমেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নবীর হোসেন। সে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার যখন নিবিড় মনে অধ্যয়ন করার কথা ঠিক তখনই নবীর হোসেন লেখাপড়ার খরচ চালাতে অটোরিকশার স্টিয়ারিং ধরে রাস্তায় নামে। প্রতিদিন নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে নবীর হোসেনকে দেখা যায় হলুদ রঙের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী ওঠাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে নবীর হোসেন শুরু করে প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ। নবীর হোসেন যুগান্তরকে জানায়, তার বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মুসাপুর গ্রামে। বাবা মাছ ধরে সংসার চালাতেন, তিনি মারা যান ১৯৯৮ সালে। বাবার মৃত্যুর পর ৪ ভাই ও ৩ বোনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন মা মাজেদা বেগম। তার পরেও মা ক্ষেতখামারে কাজ করে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ পূরণ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সংসারে মায়ের আগ্রহে এতদিন লেখাপড়া চালিয়ে এসেছি। এতিমখানায় লেখাপড়ার হাতেখড়ি। তারপর থেকে এলাকার শুভাকাক্সক্ষী মানুষদের দানে দয়ায় এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। নবীর হোসেন অশ্র“ভেজা কণ্ঠে বলেন, এতদিন লেখাপড়া কোনো রকম চলে আসলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর লেখাপড়ার খরচ বেড়ে গেছে। নবীর জানায়, তার মা অনেক ধারদেনা করে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি কেনার খরচ দিয়েছেন। আর আয়ের একমাত্র উৎস এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ আটক করলে কোনো কোনো দিন উপোস থাকতে হয় তাকে। ঠিকমতো গাড়ি চালাতে না পারায় ১ম শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি দেয়া হয়নি। তাই টিউশন ফি দিতে না পারায় ২য় সেমিস্টার পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন মু. মুহসিন উদ্দিন জানান, ২য় সেমিস্টারে পরীক্ষা দেয়ার জন্য বকেয়া মওকুফ বিষয়ে তাকে ভিসি বরাবরে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল। নবীর জানায়, তার মায়ের স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার।



সাবমিট

অটোরিকশাই ভরসা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নবীরের

 শাওন খান, বরিশাল ব্যুরো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের যুদ্ধে নেমেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নবীর হোসেন। সে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার যখন নিবিড় মনে অধ্যয়ন করার কথা ঠিক তখনই নবীর হোসেন লেখাপড়ার খরচ চালাতে অটোরিকশার স্টিয়ারিং ধরে রাস্তায় নামে। প্রতিদিন নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে নবীর হোসেনকে দেখা যায় হলুদ রঙের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী ওঠাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে নবীর হোসেন শুরু করে প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ। নবীর হোসেন যুগান্তরকে জানায়, তার বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মুসাপুর গ্রামে। বাবা মাছ ধরে সংসার চালাতেন, তিনি মারা যান ১৯৯৮ সালে। বাবার মৃত্যুর পর ৪ ভাই ও ৩ বোনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন মা মাজেদা বেগম। তার পরেও মা ক্ষেতখামারে কাজ করে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ পূরণ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের সংসারে মায়ের আগ্রহে এতদিন লেখাপড়া চালিয়ে এসেছি। এতিমখানায় লেখাপড়ার হাতেখড়ি। তারপর থেকে এলাকার শুভাকাক্সক্ষী মানুষদের দানে দয়ায় এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। নবীর হোসেন অশ্র“ভেজা কণ্ঠে বলেন, এতদিন লেখাপড়া কোনো রকম চলে আসলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর লেখাপড়ার খরচ বেড়ে গেছে। নবীর জানায়, তার মা অনেক ধারদেনা করে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি কেনার খরচ দিয়েছেন। আর আয়ের একমাত্র উৎস এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ আটক করলে কোনো কোনো দিন উপোস থাকতে হয় তাকে। ঠিকমতো গাড়ি চালাতে না পারায় ১ম শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি দেয়া হয়নি। তাই টিউশন ফি দিতে না পারায় ২য় সেমিস্টার পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন মু. মুহসিন উদ্দিন জানান, ২য় সেমিস্টারে পরীক্ষা দেয়ার জন্য বকেয়া মওকুফ বিষয়ে তাকে ভিসি বরাবরে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল। নবীর জানায়, তার মায়ের স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র