jugantor
গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল
মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা
১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণে অনুমোদন মিললেও এখানে ৫০ শয্যার বরাদ্দৃকত জনবলও এখন নেই

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

একদিকে জনবল, ওষুধপত্র ও পথ্য সংকট, অপরদিকে স্থানাভাব ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাকটিসের ঝোঁক ইত্যাদি কারণে গাইবান্ধার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে না আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়ার কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। ইসিজি, এক্স-রে এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন চালু থাকাসত্ত্বেও রোগীদের বাইরে ছুটতে হয় স্টাফদের অসহযোগিতার কারণে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রশাসনিক অনুমোদন মিললেও এখানে ৫০ শয্যার বরাদ্দৃকত জনবলও এখন নেই। অথচ এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ জন রোগী ভর্তি থাকছে এবং আউটডোরে সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যেখানে মেডিকেল অফিসার থাকার কথা মোট ২০ জন, সেখানে আছে ৭ জন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২২টি সেখানে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৬ জন। গাইনি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম-যৌন, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট, আয়ুর্বেদ চিকিৎসক পদে কোনো চিকিৎসক নেই। নার্স এবং অন্যান্য স্টাফের অবস্থাও একইরূপ। সেখানেও রয়েছে প্রচুর সংকট। এছাড়া হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়কের পদটি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। এখানে এনালগ এক্সরে থাকলেও কোনো ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই। এ কারণে ডাক্তারদের পরামর্শে বাইরে থেকে ডিজিটাল এক্সরে করে আনতে হয়েছে বলে সাইদুর রহমান নামে সদর উপজেলার বালাআটা গ্রামের এক রোগী অভিযোগ করেছেন।

এদিকে জনবল সংকটের কারণে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ৬ জন চিকিৎসক যারা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে কর্মরত তাদের অস্থায়ী ভিত্তিতে সপ্তাহে ৩ দিন অথবা ৬ দিনের জন্য গাইবান্ধা হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাতেও এখানকার সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। অপরদিকে হাসপাতালের মূল ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতাল ভবনের সংস্কার না হওয়ায় নিচের তলা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তাছাড়া, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারণে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এর বাসভবনটি ড্যামেজ (পরিত্যক্ত) ঘোষণা করায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই ২০ কিমি. দূরে অবস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে নিজস্ব বাসভবনে বসবাস করে আরএমও জেলা হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য প্রায়ই তিনি বিলম্বে হাসপাতালে আসেন। আর এ সুযোগটাই অন্যান্য চিকিৎসকরা কাজে লাগাচ্ছেন। অপরদিকে পুরাতন স্টাফ কোয়ার্টার ভবনটি যা দু’জন ডাক্তারের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো সেই ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নতুন একটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে যা দুটি ফ্যামিলির থাকার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটি ফাঁকা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কোনো ডাক্তার সেখানে উঠছেন না।

এ হাসপাতালে মাত্র ৩টি কেবিন রুম রয়েছে। এর মধ্যে ১টি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য, ১টি ভিআইপি পারসনের জন্য এবং অপরটিও স্টাফদের আত্মীয়স্বজন রোগীরাই ব্যবহার করে থাকেন। ফলে সাধারণ রোগীরা কেবিন ব্যবহারের সুযোগ পান না। তাই কেবিন সংখ্যার বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ রোগীরা। এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে গোটা হাসপাতালে এক ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। একটি স্বল্প ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর দিয়ে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বাল্ব জ্বালানোর ব্যবস্থা রাখা হলেও বড় বড় কক্ষের কারণে টিম টিম আলোতে আলো আঁধারি অবস্থা বিরাজ করে। এ কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে হয়। অপেক্ষা করতে হয় কখন বিদ্যুৎ আসে। এ হাসপাতালের ৪০ কেভির একটি জেনারেটর রয়েছে। ২০০৩ সালে এটি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের স্থাপনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এর ভবন, সংযোগ তারসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করে মোট ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু শুরু থেকেই একটি অব্যবহৃত অবস্থা পড়ে রয়েছে। এ জেনারেটরটি স্টার্ট দিতে ১৩ লিটার এবং প্রতি ঘণ্টায় ব্যয় হয় ১৮ লিটার ডিজেল। তাছাড়া জেনারেটরের চালকও নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই শুরু থেকে জেনারেটরটি অচল অবস্থা পড়ে রয়েছে।



সাবমিট
গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল

মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণে অনুমোদন মিললেও এখানে ৫০ শয্যার বরাদ্দৃকত জনবলও এখন নেই
 গাইবান্ধা প্রতিনিধি 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
একদিকে জনবল, ওষুধপত্র ও পথ্য সংকট, অপরদিকে স্থানাভাব ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাকটিসের ঝোঁক ইত্যাদি কারণে গাইবান্ধার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে না আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়ার কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। ইসিজি, এক্স-রে এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন চালু থাকাসত্ত্বেও রোগীদের বাইরে ছুটতে হয় স্টাফদের অসহযোগিতার কারণে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রশাসনিক অনুমোদন মিললেও এখানে ৫০ শয্যার বরাদ্দৃকত জনবলও এখন নেই। অথচ এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ জন রোগী ভর্তি থাকছে এবং আউটডোরে সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যেখানে মেডিকেল অফিসার থাকার কথা মোট ২০ জন, সেখানে আছে ৭ জন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২২টি সেখানে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৬ জন। গাইনি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম-যৌন, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট, আয়ুর্বেদ চিকিৎসক পদে কোনো চিকিৎসক নেই। নার্স এবং অন্যান্য স্টাফের অবস্থাও একইরূপ। সেখানেও রয়েছে প্রচুর সংকট। এছাড়া হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়কের পদটি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। এখানে এনালগ এক্সরে থাকলেও কোনো ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই। এ কারণে ডাক্তারদের পরামর্শে বাইরে থেকে ডিজিটাল এক্সরে করে আনতে হয়েছে বলে সাইদুর রহমান নামে সদর উপজেলার বালাআটা গ্রামের এক রোগী অভিযোগ করেছেন।

এদিকে জনবল সংকটের কারণে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ৬ জন চিকিৎসক যারা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সাব-সেন্টারে কর্মরত তাদের অস্থায়ী ভিত্তিতে সপ্তাহে ৩ দিন অথবা ৬ দিনের জন্য গাইবান্ধা হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাতেও এখানকার সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। অপরদিকে হাসপাতালের মূল ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতাল ভবনের সংস্কার না হওয়ায় নিচের তলা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। তাছাড়া, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারণে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এর বাসভবনটি ড্যামেজ (পরিত্যক্ত) ঘোষণা করায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই ২০ কিমি. দূরে অবস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে নিজস্ব বাসভবনে বসবাস করে আরএমও জেলা হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য প্রায়ই তিনি বিলম্বে হাসপাতালে আসেন। আর এ সুযোগটাই অন্যান্য চিকিৎসকরা কাজে লাগাচ্ছেন। অপরদিকে পুরাতন স্টাফ কোয়ার্টার ভবনটি যা দু’জন ডাক্তারের আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো সেই ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নতুন একটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে যা দুটি ফ্যামিলির থাকার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটি ফাঁকা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কোনো ডাক্তার সেখানে উঠছেন না।

এ হাসপাতালে মাত্র ৩টি কেবিন রুম রয়েছে। এর মধ্যে ১টি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য, ১টি ভিআইপি পারসনের জন্য এবং অপরটিও স্টাফদের আত্মীয়স্বজন রোগীরাই ব্যবহার করে থাকেন। ফলে সাধারণ রোগীরা কেবিন ব্যবহারের সুযোগ পান না। তাই কেবিন সংখ্যার বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ রোগীরা। এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা একেবারে নাজুক। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে গোটা হাসপাতালে এক ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। একটি স্বল্প ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর দিয়ে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বাল্ব জ্বালানোর ব্যবস্থা রাখা হলেও বড় বড় কক্ষের কারণে টিম টিম আলোতে আলো আঁধারি অবস্থা বিরাজ করে। এ কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে হয়। অপেক্ষা করতে হয় কখন বিদ্যুৎ আসে। এ হাসপাতালের ৪০ কেভির একটি জেনারেটর রয়েছে। ২০০৩ সালে এটি হাসপাতাল ক্যাম্পাসের স্থাপনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এর ভবন, সংযোগ তারসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করে মোট ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু শুরু থেকেই একটি অব্যবহৃত অবস্থা পড়ে রয়েছে। এ জেনারেটরটি স্টার্ট দিতে ১৩ লিটার এবং প্রতি ঘণ্টায় ব্যয় হয় ১৮ লিটার ডিজেল। তাছাড়া জেনারেটরের চালকও নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই শুরু থেকে জেনারেটরটি অচল অবস্থা পড়ে রয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র