jugantor
সিলেটের ৩ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আ’লীগ
দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি এলেও তারা থেমে নেই

  আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

সিলেটে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৩ পৌরসভায় রয়েছে তাদের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি এলেও তারা থেমে নেই। মনোনীত প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে চালাচ্ছেন প্রচারণা। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অপরদলের পাশাপাশি লড়তে হচ্ছে নিজ দলের প্রার্থীদের সঙ্গেও। এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। মেয়র পদে সিলেটের ২ পৌরসভায় দলটির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। তাই এ ব্যাপারে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন দলের প্রার্থীরা। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের ভয় রয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের। নানামুখী শংকার কথা মাথায় রেখেই এলাকার নেতাকর্মী সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

সিলেটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন কানাইঘাটে দু’জন, জকিগঞ্জে একজন ও গোলাপগঞ্জে দু’জন। ১৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠছাড়া করতে কেন্দ্রের নির্দেশ রয়েছে জেলা কমিটির ওপর। ফলে ৩টি পৌরসভার বিদ্রোহীদের থামিয়ে একক প্রার্থী রাখার ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের একটি টিম কানাইঘাটে যায়। তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। পর্যায়ক্রমে গোলাপগঞ্জে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক জানান, কেন্দ্রের নির্দেশে সিলেটের ৩টি পৌরসভাতেই দলের একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা করছে জেলা আওয়ামী লীগ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ১৪ ডিসেম্বর এর আগেই দলীয় কোন্দল নিবারণের চেষ্টা করছেন।

সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন আল মিজান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম। তবে এ পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী আবদুর রহিম।

জকিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খলিল উদ্দিন। তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফারুক আহমদকে। ফারুক আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। তিনি মনোনয়নপত্র বহাল রাখতে আপিল করেছেন। এ পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী অধ্যাপক বদরুল হক বাদল।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। স্বতন্ত্র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল। এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহীন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বাছাইকালে তা বাতিল হয়ে যায়।

সিলেটের এ ৩ পৌরসভায় মোট প্রার্থী রয়েছেন ১০৫ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ১৭, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৫ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২২ জন প্রার্থী রয়েছেন। গোলাপগঞ্জে মেয়র পদে ৪, ৯টি কাউন্সিলর পদে ৩৬ ও ৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে ১০ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৫, ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩১ ও ৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। কানাইঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে ৮, ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।



সাবমিট

সিলেটের ৩ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আ’লীগ

দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি এলেও তারা থেমে নেই
 আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
সিলেটে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৩ পৌরসভায় রয়েছে তাদের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি এলেও তারা থেমে নেই। মনোনীত প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে চালাচ্ছেন প্রচারণা। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অপরদলের পাশাপাশি লড়তে হচ্ছে নিজ দলের প্রার্থীদের সঙ্গেও। এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। মেয়র পদে সিলেটের ২ পৌরসভায় দলটির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। তাই এ ব্যাপারে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন দলের প্রার্থীরা। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও মামলা, হামলা ও জেল-জুলুমের ভয় রয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের। নানামুখী শংকার কথা মাথায় রেখেই এলাকার নেতাকর্মী সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে প্রচারণা।

সিলেটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন কানাইঘাটে দু’জন, জকিগঞ্জে একজন ও গোলাপগঞ্জে দু’জন। ১৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠছাড়া করতে কেন্দ্রের নির্দেশ রয়েছে জেলা কমিটির ওপর। ফলে ৩টি পৌরসভার বিদ্রোহীদের থামিয়ে একক প্রার্থী রাখার ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের একটি টিম কানাইঘাটে যায়। তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। পর্যায়ক্রমে গোলাপগঞ্জে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক জানান, কেন্দ্রের নির্দেশে সিলেটের ৩টি পৌরসভাতেই দলের একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা করছে জেলা আওয়ামী লীগ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ১৪ ডিসেম্বর এর আগেই দলীয় কোন্দল নিবারণের চেষ্টা করছেন।

সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন আল মিজান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম। তবে এ পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী আবদুর রহিম।

জকিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী খলিল উদ্দিন। তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফারুক আহমদকে। ফারুক আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। তিনি মনোনয়নপত্র বহাল রাখতে আপিল করেছেন। এ পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী অধ্যাপক বদরুল হক বাদল।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। স্বতন্ত্র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল। এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহীন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বাছাইকালে তা বাতিল হয়ে যায়।

সিলেটের এ ৩ পৌরসভায় মোট প্রার্থী রয়েছেন ১০৫ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ১৭, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৫ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২২ জন প্রার্থী রয়েছেন। গোলাপগঞ্জে মেয়র পদে ৪, ৯টি কাউন্সিলর পদে ৩৬ ও ৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে ১০ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৫, ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩১ ও ৩টি সংরক্ষিত নারী আসনে ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। কানাইঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে ৮, ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র