jugantor
সিলেটে বিউটিশিয়ান মুন্নির মৃত্যুতে গুঞ্জন : শ্বশুরবাড়ির লোকজন উধাও

  সিলেট ব্যুরো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

সিলেটে পেশাদার বিউটিশিয়ান মুন্নি দেবনাথ শিল্পীর (২৬) রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। পিতৃপক্ষ ও শ্বশুরবাড়ি মুখোমুখি রহস্যজনক এ মৃত্যু নিয়ে। এ ঘটনায় বাড়ি ছেড়ে উধাও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুরের স্বামীর বাড়িতে এক সন্তানের জননী মুন্নি দেবনাথের মৃত্যু ঘটে। মুন্নির পিতৃপক্ষের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যার পরই আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগেও মুন্নির ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল পরকীয়া ও মাদকাসক্ত স্বামী। এমনকি হত্যার পর পুলিশকেও তারা ম্যানেজ করে নেয়। এ কারণেই ঘটনার পর দেয়া হত্যার অভিযোগ গায়েব করেন মোগলাবাজার থানার এসআই কামরুজ্জামান। এমন অভিযোগ মুন্নির বোন জয়ন্তী বালা দেবনাথের। এদিকে, শাশুড়ি শেফালী রানী দেবনাথের দাবি, মুন্নি মানসিক রোগী। সে নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, পুলিশ মুন্নির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, গলায় রশি লাগানো ফ্লোরে শোয়ানো অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসক এলে গলার রশি খোলা এবং লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পেলে হত্যা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। পুলিশ হত্যার অভিযোগ গায়েব করেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, মামলাটি এসআই কামরুজ্জামান তদন্ত করছেন বলে জানান তিনি। এসআই কামরুজ্জামান বলেন, মুন্নির ভাইয়েরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমরা দেয়নি। ঘটনার সময় মুন্নির স্বামী বাড়িতেই ছিলেন না। তাছাড়া মামলার লিখিত অভিযোগ গায়েবের প্রশ্নই ওঠে না। মুন্নি মোগলাবাজার থানার আসামপুর গুলারকান্দি গ্রামের ক্ষিরদ দেবনাথের ছেলে লিটন দেবনাথের স্ত্রী। ৬ ডিসেম্বর এক সন্তানের জননী মুন্নির রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। মুন্নির বোন জয়ন্তী দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, ২৬ জুন স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতর সহ্য করতে না পেরে ভোরবেলা মুন্নি পিত্রালয়ে চলে এসেছিল। পরে বুঝিয়ে সুজিয়ে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। মুন্নি একজন পেশাদার বিউটিশিয়ান। তাই স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন তার কাছে প্রায়ই টাকা-পয়সা চেয়ে নিত। তাদের কথামতো টাকা না দিলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। মুন্নির স্বামী লিটন মাদকাসক্ত ও চরিত্রহীন।

মুন্নিকে প্রেম করে বিয়ে করার পরও রত্না নামের এক মহিলার সঙ্গে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছে। মুন্নির স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে লিটন নেশা করায় এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো। এরই মধ্যে ২ মাস আগে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয় মুন্নি। ৬ ডিসেম্বর মুন্নিকে হত্যা করে ধরাধরপুর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চলে যায় স্বামী লিটন। সেখান থেকে রাত ২টায় লিটন তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জানান মুন্নি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সেখানে দেখা যায় মুন্নির লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। এতে সন্দেহ জাগে মুন্নিকে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে মুন্নির মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও গ্রেফতার আতংক তার স্বামীর পরিবারে।



সাবমিট

সিলেটে বিউটিশিয়ান মুন্নির মৃত্যুতে গুঞ্জন : শ্বশুরবাড়ির লোকজন উধাও

 সিলেট ব্যুরো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
সিলেটে পেশাদার বিউটিশিয়ান মুন্নি দেবনাথ শিল্পীর (২৬) রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। পিতৃপক্ষ ও শ্বশুরবাড়ি মুখোমুখি রহস্যজনক এ মৃত্যু নিয়ে। এ ঘটনায় বাড়ি ছেড়ে উধাও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুরের স্বামীর বাড়িতে এক সন্তানের জননী মুন্নি দেবনাথের মৃত্যু ঘটে। মুন্নির পিতৃপক্ষের দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যার পরই আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগেও মুন্নির ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল পরকীয়া ও মাদকাসক্ত স্বামী। এমনকি হত্যার পর পুলিশকেও তারা ম্যানেজ করে নেয়। এ কারণেই ঘটনার পর দেয়া হত্যার অভিযোগ গায়েব করেন মোগলাবাজার থানার এসআই কামরুজ্জামান। এমন অভিযোগ মুন্নির বোন জয়ন্তী বালা দেবনাথের। এদিকে, শাশুড়ি শেফালী রানী দেবনাথের দাবি, মুন্নি মানসিক রোগী। সে নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মোগলাবাজার থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, পুলিশ মুন্নির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, গলায় রশি লাগানো ফ্লোরে শোয়ানো অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসক এলে গলার রশি খোলা এবং লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পেলে হত্যা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। পুলিশ হত্যার অভিযোগ গায়েব করেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, মামলাটি এসআই কামরুজ্জামান তদন্ত করছেন বলে জানান তিনি। এসআই কামরুজ্জামান বলেন, মুন্নির ভাইয়েরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমরা দেয়নি। ঘটনার সময় মুন্নির স্বামী বাড়িতেই ছিলেন না। তাছাড়া মামলার লিখিত অভিযোগ গায়েবের প্রশ্নই ওঠে না। মুন্নি মোগলাবাজার থানার আসামপুর গুলারকান্দি গ্রামের ক্ষিরদ দেবনাথের ছেলে লিটন দেবনাথের স্ত্রী। ৬ ডিসেম্বর এক সন্তানের জননী মুন্নির রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। মুন্নির বোন জয়ন্তী দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, ২৬ জুন স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতর সহ্য করতে না পেরে ভোরবেলা মুন্নি পিত্রালয়ে চলে এসেছিল। পরে বুঝিয়ে সুজিয়ে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। মুন্নি একজন পেশাদার বিউটিশিয়ান। তাই স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন তার কাছে প্রায়ই টাকা-পয়সা চেয়ে নিত। তাদের কথামতো টাকা না দিলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। মুন্নির স্বামী লিটন মাদকাসক্ত ও চরিত্রহীন।

মুন্নিকে প্রেম করে বিয়ে করার পরও রত্না নামের এক মহিলার সঙ্গে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছে। মুন্নির স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে লিটন নেশা করায় এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো। এরই মধ্যে ২ মাস আগে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয় মুন্নি। ৬ ডিসেম্বর মুন্নিকে হত্যা করে ধরাধরপুর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চলে যায় স্বামী লিটন। সেখান থেকে রাত ২টায় লিটন তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জানান মুন্নি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সেখানে দেখা যায় মুন্নির লাশ মেঝেতে পড়ে আছে। এতে সন্দেহ জাগে মুন্নিকে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে মুন্নির মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও গ্রেফতার আতংক তার স্বামীর পরিবারে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র