jugantor
হাওর-টিলাঘেরা পর্যটন কেন্দ্র

  সিলেট ব্যুরো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

মুহম্মদ তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে

টিলা আর হাওর-বাঁওড়বেষ্টিত প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস, বোল্ডার ও নুড়িপাথরে ভরপুর আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভারতের সীমান্তঘেঁষা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলাটি পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে তোলার মতো এক অতুলনীয় এলাকা। উপজেলার উত্তর দিকে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের সুউচ্চ মেঘালয় পাহাড়। মেঘালয় থেকে নেমে আসা ছোটবড় অনেক নদ-নদী বিস্তৃত হয়ে আছে চারিদিকে। বিকেলের পরন্ত রোদে নদীর পাড়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মধুময় সময়টি কাটে গভীর আনন্দে। এখানে রয়েছে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড, ব্রিটিশ ট্রামরোড, পান্ডারখাল বাঁধ, বাঁশতলা হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, আদিবাসী পাহাড়, মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক ও তাদের সমাধি। সীমান্তঘেঁষা বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রাম পেরুলেই আকাশের সঙ্গে পাহাড়ের মিলনমেলা চোখে পড়ে। তখনই কবির গানের কথাগুলো মনে পড়ে- ‘একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, যেথায় কুকিল ডাকে কুহুকুহু, দোয়েল ডাকে মুহুমুহু, নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়...’। কবির এই গানের পঙ্ক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে এখানে। বাঁশতলা হকনগরে রয়েছে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৩ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১১টি সেক্টরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৫নং বাঁশতলা সাব-সেক্টর এটি। ভারত থেকে নেমে আসা চিলাই নদীর ওপর নির্মিত মনোরম স্লুইচ গেট, তিনদিকে মেঘালয় পাহাড়ে ঘেরা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ, পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি সে াতস্বিনী নদীর কলতান আর পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। এককথায়, মনোমুগ্ধকর এক অসাধারণ পরিবেশ এখানে বিদ্যমান। তিনদিকে পাহাড়বেষ্টিত এ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন হেলাল ৫নং বাঁশতলা সাব-সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন। বর্তমান দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক ও বীরাঙ্গনা কাকন বিবিসহ অনেকেই তার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ’৭১-এর শহীদদের স্মরণে তাদের স্মৃতি অম্লান রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশতলা হকনগর স্মৃতিসৌধ। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল রেস্ট হাউস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদ। স্মৃতিসৌধের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করা যায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী।



সাবমিট

হাওর-টিলাঘেরা পর্যটন কেন্দ্র

 সিলেট ব্যুরো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
মুহম্মদ তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে

টিলা আর হাওর-বাঁওড়বেষ্টিত প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস, বোল্ডার ও নুড়িপাথরে ভরপুর আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভারতের সীমান্তঘেঁষা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলাটি পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে তোলার মতো এক অতুলনীয় এলাকা। উপজেলার উত্তর দিকে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের সুউচ্চ মেঘালয় পাহাড়। মেঘালয় থেকে নেমে আসা ছোটবড় অনেক নদ-নদী বিস্তৃত হয়ে আছে চারিদিকে। বিকেলের পরন্ত রোদে নদীর পাড়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মধুময় সময়টি কাটে গভীর আনন্দে। এখানে রয়েছে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড, ব্রিটিশ ট্রামরোড, পান্ডারখাল বাঁধ, বাঁশতলা হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, আদিবাসী পাহাড়, মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক ও তাদের সমাধি। সীমান্তঘেঁষা বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রাম পেরুলেই আকাশের সঙ্গে পাহাড়ের মিলনমেলা চোখে পড়ে। তখনই কবির গানের কথাগুলো মনে পড়ে- ‘একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, যেথায় কুকিল ডাকে কুহুকুহু, দোয়েল ডাকে মুহুমুহু, নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়...’। কবির এই গানের পঙ্ক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে এখানে। বাঁশতলা হকনগরে রয়েছে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৩ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১১টি সেক্টরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৫নং বাঁশতলা সাব-সেক্টর এটি। ভারত থেকে নেমে আসা চিলাই নদীর ওপর নির্মিত মনোরম স্লুইচ গেট, তিনদিকে মেঘালয় পাহাড়ে ঘেরা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ, পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি সে াতস্বিনী নদীর কলতান আর পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। এককথায়, মনোমুগ্ধকর এক অসাধারণ পরিবেশ এখানে বিদ্যমান। তিনদিকে পাহাড়বেষ্টিত এ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন হেলাল ৫নং বাঁশতলা সাব-সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন। বর্তমান দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক ও বীরাঙ্গনা কাকন বিবিসহ অনেকেই তার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। ’৭১-এর শহীদদের স্মরণে তাদের স্মৃতি অম্লান রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশতলা হকনগর স্মৃতিসৌধ। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল রেস্ট হাউস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদ। স্মৃতিসৌধের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করা যায় ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র