¦
মাইক ব্যবসায় খরা

আলাউদ্দিন আরিফ | প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৫

কল-রেডি। নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ঐতিহ্য, অনেক ইতিহাস। কিন্তু এ নির্বাচনী প্রচারের ভরা মৌসুমেও সেই ঐতিহাসিক কল-রেডি মাইকের ব্যবসায় চরম মন্দা। পুরান ঢাকার ৩৬, ঋষিকেশ দাস লেনে গিয়ে দেখা গেছে, কল-রেডির সারি সারি মাইকের হর্ন, সাউন্ড সিস্টেম, সাউন্ড কন্ট্রোলার, এমপ্লিফায়ার, ব্যাটারি সব অলস পড়ে আছে। এ সময় মাইকের দোকানিদের দম ফেলার ফুরসত থাকার কথা নয়; তার বদলে ঢাকার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও বড় দোকাটির এ দশা! এমনিভাবে তাহের মাইক হাউজ, তাজমহল, সহিদ মাইক, তাজ মাইক, হাবীব মাইক, লুচি মাইক অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম ও তরঙ্গসহ মাইকের সব বড় বড় দোকানির অবস্থাও একই।
জানতে চাইলে কল-রেডির স্বত্বাধিকারী সাগর ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, সারা দিনে দুই থেকে তিনটা মাইক ভাড়া হয়। কারণ নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী মাত্র একটি মাইক ও মেয়র প্রার্থী তার এলাকায় মাত্র চারটি মাইক ব্যবহার করতে পারেন। তাও দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের নানা বিধিনিষেধের ফলে মাইকের ব্যবহার খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে ব্যবসায় মন্দা কাটছে না।
সাগর ঘোষের মতো একই তথ্য দিলেন কাঁটাবন বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটের তরঙ্গ সাউন্ড সার্ভিস লিমিটেডের মালিক মো. আকতার হোসাইন। তিনিও জানালেন ব্যবসায়িক মন্দার কথা। তিনি বলেন, যেভাবে নির্বাচনী প্রচার হওয়ার কথা সেভাবে প্রচার চলছে না। এবার লা৭িম, কেক, কাঁটাচামচ, কেটলি- এ জাতীয় কিছু প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে প্রচারে প্রার্থীরাও আগ্রহ দেখান না। তাছাড়া মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ নির্বাচনে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন। ফলে তারা টাকা খরচ করে ভোটের উৎসব কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করছেন না।
যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের তাজমহল মাইকের স্বত্বাধিকারী মাইনুদ্দীন বাচ্চুও নির্বাচন আচারণবিধির কারণে মাইক ব্যবসার মন্দার কথা বলেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই দুই-তিনটি করে মাইকের দোকান আছে। একজন প্রার্থী একটির বেশি মাইক প্রচারণায় ব্যবহারের নিয়ম নেই। তারা ছোটখাটো দোকান থেকেই মাইক নিয়ে প্রচারণার কাজ চালান।
লালবাগের ঐতিহ্যবাহী তাহের মাইকের কর্মচারী ফিরোজ জানান, আগে নির্বাচন কেন্দ্রিক বড় সভা-সমাবেশ হতো। কিন্তু এখন সমাবেশ নিষিদ্ধ। নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয় না। ফলে মাইকেরও ভাড়া পাওয়া যায় না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ নির্বাচনে পয়সা খরচ করতে আগ্রহী না হওয়ায় মাইকের ব্যবহার কম। প্রার্থীরা ছোট প্রচারের জন্য রিকশা বা অটোরিকশায় একটি মাইক ব্যবহার করেন। সেটি তারা পাড়ার দোকান বা মহল্লার মসজিদ থেকেই ভাড়া নিয়ে নেন। সেজন্য বড় দোকান পর্যন্ত আসেন না। প্রায় একই বক্তব্য দিলেন সহিদ মাইকের দোকান কর্মচারী বাবু।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী মঙ্গলবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ সময় জমজমাট প্রচারণার মধ্যে মাইক ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু সেটা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে উঠছে না। পুরান ঢাকার হাবিব মাইক সার্ভিসের কর্মচারী ইমরান জানালেন, দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫টি মাইক ভাড়া যাচ্ছে। দুয়েকটি ছোট ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাইক ভাড়ার অর্ডার আসছে। কিন্তু নির্বাচন কেন্দ্রিক সেরকম ব্যস্ততা নেই। কমলাপুরের লুচি মাইক অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেমের কর্মচারী তারেকও জানালেন মাইক ব্যবসার মন্দার কথা।
মাইক ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীর টঙ্গী, উত্তরা থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় প্রায় দেড় থেকে দুশ আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের দোকান রয়েছে। আর হর্ন বা মাইকের দোকান আছে প্রায় দুশ। ব্যবসা মন্দার কারণে গত কয়েক বছরে প্রায় অর্ধশত দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে কাঁটাবন এলাকার তাজ, পুরান ঢাকার রাহমাত মাইক সার্ভিস, ওয়াইজঘাটের মিতালী মাইক সার্ভিস, শাঁখারীবাজারের বলাকা মাইক সার্ভিস, ইসলামপুর লায়ন মাইক সার্ভিস, নওয়াবপুর রোডের বিজলী মাইক অ্যান্ড সাউন্ড, এজাজ মাইক সার্ভিস, রকেট মাইক সার্ভিস ও মগবাজারের বিডিটি মাইক সার্ভিসের মতো বড় বড় নামি প্রতিষ্ঠান।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close