jugantor
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে এইচআরডব্লিউ\'র আহবান

  অনলাইন ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারি:  

২৮ জানুয়ারি ২০১৪, ১২:০৭:৫৩  | 

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য সরকারের স্বাধীন তদন্ত বিভাগকে নির্দেশ দেয়া উচিত বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থাটি।
বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ পুলিশি হেফাজতে যাদের নেয়া হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া উচিত বলে জানিয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানায়, পুলিশ ও র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজেপি) মিলে গঠিত যৌথবাহিনী বিরোধী দলের সমর্থকদের গ্রেফতার করেছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই ‘ক্রসফায়ার’-এ নিহত হয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। তবে এর আগেও ক্রসফায়ারের সমালোচনা করেছে এইচআরডব্লিউ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশে ক্রসফায়ারের নামে বিরোধী দলের সমর্থকদের হত্যার ভীতিকর নমুনা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এসব হত্যার স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের নির্দেশ দেয়া।
এর আগে ২১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, যৌথবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এইচআরডব্লিউ আক্রান্তদের স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে সমপ্রতি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পর্যালোচনা করছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণের শিকার হওয়ার পর তারা পাল্টা আক্রমণ করেছে।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের দাবি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী গ্রেফতারের পর তাদের হত্যা করছে। হত্যার আগে তাদের নির্যাতনও করা হয়েছে বলে নিহতদের কয়েকজনের স্বজন দাবি করেছে।
এইচআরডব্লিউ সরকারের প্রতি নিরাপত্তারক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মূলনীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের এই নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আগে অহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করার কথা বলা হয়েছে। আর যদি শক্তি প্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ঠেকানো না যায় তাহলে যতো সম্ভব কম হতাহতের বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।
বিবৃতিতে ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি মানবাধিকার সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে। নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে এসব সন্দেহজনক হত্যার বিষয়টি সমপ্রতি দেখা যায়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বিরোধী দলে থাকতে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের অভিযোগ এসেছিল। তবে এখন ক্ষমতায় থেকেও তারা এসব বন্ধের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর এখনই জনসম্মুখে বিবৃতি দিয়ে এসব হত্যাকান্ড ও নির্যাতনের নিন্দা জানানো উচিত ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীকে আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও বিবৃতিতে জানান ব্রাড অ্যাডামস।
 

সাবমিট

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে এইচআরডব্লিউ\'র আহবান

 অনলাইন ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারি:  
২৮ জানুয়ারি ২০১৪, ১২:০৭ পিএম  | 

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য সরকারের স্বাধীন তদন্ত বিভাগকে নির্দেশ দেয়া উচিত বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থাটি।
বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ পুলিশি হেফাজতে যাদের নেয়া হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া উচিত বলে জানিয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানায়, পুলিশ ও র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজেপি) মিলে গঠিত যৌথবাহিনী বিরোধী দলের সমর্থকদের গ্রেফতার করেছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই ‘ক্রসফায়ার’-এ নিহত হয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। তবে এর আগেও ক্রসফায়ারের সমালোচনা করেছে এইচআরডব্লিউ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশে ক্রসফায়ারের নামে বিরোধী দলের সমর্থকদের হত্যার ভীতিকর নমুনা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এসব হত্যার স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের নির্দেশ দেয়া।
এর আগে ২১ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, যৌথবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এইচআরডব্লিউ আক্রান্তদের স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে সমপ্রতি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পর্যালোচনা করছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ জানিয়েছে, আক্রমণের শিকার হওয়ার পর তারা পাল্টা আক্রমণ করেছে।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের দাবি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী গ্রেফতারের পর তাদের হত্যা করছে। হত্যার আগে তাদের নির্যাতনও করা হয়েছে বলে নিহতদের কয়েকজনের স্বজন দাবি করেছে।
এইচআরডব্লিউ সরকারের প্রতি নিরাপত্তারক্ষীদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মূলনীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের এই নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্তি প্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আগে অহিংস উপায়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করার কথা বলা হয়েছে। আর যদি শক্তি প্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ঠেকানো না যায় তাহলে যতো সম্ভব কম হতাহতের বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।
বিবৃতিতে ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি মানবাধিকার সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে। নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে এসব সন্দেহজনক হত্যার বিষয়টি সমপ্রতি দেখা যায়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বিরোধী দলে থাকতে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের অভিযোগ এসেছিল। তবে এখন ক্ষমতায় থেকেও তারা এসব বন্ধের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর এখনই জনসম্মুখে বিবৃতি দিয়ে এসব হত্যাকান্ড ও নির্যাতনের নিন্দা জানানো উচিত ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীকে আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও বিবৃতিতে জানান ব্রাড অ্যাডামস।
 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র