¦
মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে তিস্তা নদী

ডিমলা (নীলফামারী) ২ ফেব্রুয়ারি: | প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

পানি অভাবে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে তিস্তা নদী। উজান ও ভাটি এখন পরিণত হয়েছে ধু- ধু বালুচরে। ভয়াবহ পানি সংকটে পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ। চলতি রবি ও খারিপ-১ মৌসুমে ২৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের টার্গেট করা হলেও বর্তমানে যে পরিমান পানি রয়েছে তাতে করে মাত্র ৭ শত হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব। তিস্তা ব্যারেজে সিল্টট্রাপ থেকে ৫কিলোমিটার পর্যন্ত সেচ খালের তুহিন বাজার এসওয়ান টি ক্যানেলেরর পর পানি দিয়ে পারছে না পাউবো কর্তৃপক্ষ। অবশিস্ট ক্যানেলের পানি প্রবাহ বন্ধ করায় তারা কৃষকদের আন্দোলনের মুখে পড়তে পরেন।
জানা যায়, তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি থমকে রয়েছে। এ অবস্থায় স্বল্প পানির প্রবাহের উপর ভর করে চলতি রবি ও খারিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম ২১ জানুয়ারি শুরু করা হয়েছে। তবে এবার সেচ প্রদানে রংপুর ও দিনাজপুর জেলার কমান্ড এলাকাকে সেচ সুবিধা থেকে বাদ রেখে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সেচ নির্ভর বোরো আবাদে পানি দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। ফলে সেচের জন্য তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকার কৃষকরা পানির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিস্তার নদীর উজান ও সিল্টট্রাপ খনন না হওয়ায় কারনে পলি জমে ভরাট হয়েছে। তিস্তার সেচের পানি সিলট্রাপে জমা রেখে পর্যায়ক্রমে প্রধান ক্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন সেচ ক্যানেলে সরবরাহ করে আসত। সিল্টট্রাপ পলি অপসারন না হওয়ায় পর্যাপ্ত পান্ িসংরক্ষন করতে পারছে না পাউবো।
গত ২১ জানুয়ারী সেচ ক্যানেলে পানি সরববাহের সময় তিস্তার পানি প্রবাহ ৯শ কিউসেক থাকলেও বোবরাব ৫শ কিউসেকে নেমে এসেছে। সোমবার পানি প্রবাহ আরও কমে দাড়িয়েছে ২শ কিউসেকে।
সম্ভাবনা জাগিয়েও বারবার থেমে থাকছে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কৃষকদের মাঝে হতাশা বিদ্যমান রয়েছে।  
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার ব্যারেজের ৫২টি সুইচ গেটে সুইচ গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। তিস্তার উজান ও ভাটিতে বিশাল বালুর চর পড়েছে। উজানে একটি সরু ক্যানেলে শুধূ মাত্র পানি লক্ষ্য করা যায়। উজানে জেলেদের মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকাগুলো বেধে রাখা হয়েছে। নদীতে মাছ ধরতে না পারায় কয়েকশত জেলে পরিবার অনাহারে অধাহারে দিনাতিপাত করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন গত বছর এই মৌসুমে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৬৫ হাজার হেক্টরে সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু এবার তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ দিন দিন কমতে থাকায় গত বছরের চেয়ে এবারের চলতি রবি ও খারিপ-১ মৌসুমে সেচ প্রদানে জমির পরিমান ৩৭ হাজার ৫শত হেক্টর কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে দিনাজপুর ও রংপুরের কমান্ড এলাকা সেচ কার্য্যক্রম থেকে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র নীলফামারী জেলার ডিমলা, জলঢাকা, নীলফামারী সদর ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ২৮ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
তিস্তা বাঁচাও রক্ষা কমিটির সভাপতি ও খালিশা চাপানি কৃষক আতাউর রহমান জানান, তিস্তা সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে নামে মাত্র পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রধান ক্যানেলে পানি না থাকায় সেচ ক্যানেলের উপকারভোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।  
তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারন কর্মকর্তা রাফিউল বারী যুগান্তরকে জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকায় আনুষ্ঠানিক ভাবে সেচ প্রদান শুরু করা হয়। উজানের প্রবাহ কম থাকার কারনে মাত্র ৭'শ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close