¦

এইমাত্র পাওয়া

  • বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পার্শ্বে কোনাবাড়ি এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলা: ৬ যাত্রী দগ্ধ ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক
তিস্তার পানি প্রবাহ ১০০ কিউসেকে নেমে এসেছে

ডিমলা প্রতিনিধি ১৯ ফেব্রুয়ারি : | প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

তিস্তা ব্যারাজের সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার কৃষকদের মাঝে সেচের পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। বোরো ধানের ক্ষেতে যেখানে ৬ ইঞ্চি পানি থাকার কথা, সেখানে তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার  বোরো ক্ষেতগুলো এখন শুকনো খটখটে, ধুলোময়। পানির অভাবে হাজার হাজার একর জমির বোরো আবাদ নষ্ট হতে বসেছে।
ভারত পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারেজ নির্মাণ করে তিস্তার পানি প্রবাহ পুরোটাই সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার এখন মরুভুমিতে পরিনত হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিস্তার পানি প্রবাহ ১০০কিউসেকে নেমে আসে। বর্তমানে তিস্তা ব্যারেজের পানি প্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ করার সর্বনি¤œ পর্যায়ে। বর্তমানে তিস্তায় যে পানি রয়েছে তাদিয়ে ১৬৩ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে।
 বৃহস্পতিবার উজানের নদী প্রমত্ত্বা তিস্তা আর তিস্তা ছিল না। পানি কমতে কমতে একশত কিউসেকে নেমেছে। উজানের প্রবাহ থমকে গেছে। চুয়ানো পানির সরু নালায় পরিনত হয়েছে তিস্তা। ফলে যতদূর চোখ যায় শুধু ধূ-ধূ বালুচর। এতে নদীর পানির অভাবে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকার কৃষকরা পাচ্ছে না সেচ। সেচ নির্ভর বোরো আবাদে পানি অভাবে কৃষকরা পড়েছে চরম বিপাকে। সেচের দাবিতে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া ডিভিশনের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে কৃষকরা ছুটছেন দলে দলে। কিন্তু নদীর দিকে তাকিয়ে তারা হয়ে ফিরে আসছেন।
একইসাথে চরম দুঃসময় চলছে তিস্তা অববাহিকার ২০ হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের।  নদীর পানি সংকটের প্রভাব পড়েছে জীব বৈচিত্র রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্যতায়। নদীতে পানি না থাকায় অকেজো পড়ছে সেচ কার্যক্রম। স্মরনকালে ৩২ বছরে সব রেকর্ডভঙ্গ করে পানি শুন্যতায় পড়েছে তিস্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানালেন, বৃহস্পতিবার তারা তিস্তায় পানি পেয়েছে মাত্র একশত কিউসেক। যে পানি দিয়ে সেচ প্রকল্পের একশত হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সমম্ভ নয়।
বাংলাদেশে তিস্তার প্রবেশদ্বার নীলফামারী ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্টে দিয়ে। এখান থেকে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা হয়ে নদীটি গিয়ে মিলেছে ব্রহ্মপুত্রে। কিন্তু জিরো পয়েন্ট থেকে ২০ কিলোমিটার অদুরে তিস্তা ব্যারাজ পর্যন্ত নদীটি নালায় পরিনত হলেও ব্যারাজের ভাটি পুরোটাই পানি শুন্য। যে টুকু উজানের চুয়ানো পানি এসেছে তা ব্যারাজের ৪৪টি সুইচ গেট বন্ধ করে আটকিয়ে সেই পানি সেচখালে নেয়া হয়। এ দিন সেচ দেয়া হয় মাত্র ১৬৩ হেক্টর জমিতে। অথচ চলতি মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টরে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল। সুত্রমতে গত বছর এই সময় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও নদীর পানি প্রাপ্ততার উপর সেচ প্রদান করা হয়েছিল ২৫ হাজার হেক্টরে। এবার উজানের পানি প্রাপ্ততা একেবারেই না থাকায় সেচ প্রদান এক প্রকার থমকে গেছে।
শুধু তিস্তা নদী নয় পানি সংকটে উত্তরজনপদের সকল নদী এখন মরতে বসেছে। অনেকে বলছেন তিস্তা নদীর পানি সংকটের প্রভাব যে কত নদীতে গিয়ে পড়েছে তার ঠিক নেই। তাই উত্তরের সকল নদী মরুভুমিতে পরিনত হয়েছে।
 

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close