¦
চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানের সলিল সমাধি!

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি, ২২ ফেব্রুয়ারি | প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাওয়া লঞ্চটি ডুবতে দেখলেন পুলিশ সদস্য লিটু মিয়া। অসহায়ভাবে চেয়ে থাকা আর বুক চাপড়ে কান্না করা ছাড়া তার কিছুই করার ছিল না।
রোববার দুপুরে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ছেড়ে এসে কার্গোর ধাক্কায় মাঝ নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মোস্তফা-৩ এর যাত্রী ছিল লিটু মিয়ার স্ত্রী রুমা খাতুন (২৮), একমাত্র ছেলে উৎসব (৭) ও মাত্র দুই মাস বয়সী কন্যা সন্তান উষ্ণ।
লিটুর পিতা গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আকবার হোসেন জানান, তার ছেলে লিটু মানিকগঞ্জে ডিবি পুলিশে কর্মরত আছে। রোববার সকালে লিটুর নানী শাশুরী রাজবাড়ীর মিজানপুর এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান। তাকে দেখতে লিটুর স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে মানিকগঞ্জের বাসা থেকে রওনা দেন। লিটু স্ত্রী সন্তানকে বাসে তুলে দিয়ে অফিসিয়াল কাজ শেষ করে কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেল যোগে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্তু ততক্ষনে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে লঞ্চ এমভি মোস্তফায় উঠে পড়ে। লঞ্চ মিস করে লিটু ওঠে একটি ফেরিতে। লঞ্চটি ঘাট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার যাওয়ার পর একটি কার্গোর ধাক্কায় মুহর্তের মধ্যে ডুবে যায়। পুরো ঘটনাটি লিটু নিজ চোখে দেখতে পান।
লিটুর বড় ভাই মন্টু মিয়া পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফোনে জানান, রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৩৭টি লাশ উদ্ধার হয়। তবে এদের মধ্যে তার ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানের এখনো কোন সন্ধান মেলেনি। লিটুর চোখের সামনে ঘটনাটি ঘটায় সে কথা বলার অবস্থায় নেই বলে জানান।
নিখোঁজ রুমার ভগ্নিপতি দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, সারাদিন খোঁজাখুজির পরও রুমা ও তার সন্তানদের কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। কোন ভাল আশাও করতে পারছি না।

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close