jugantor
জেলহত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু

  অনলাইন ডেস্ক, ২৬ মার্চ:  

২৬ মার্চ ২০১৫, ১৮:০১:২০  | 

জেলখানায় বন্দী অবস্থায় চার জাতীয় নেতাকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামী ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) কিসমত হাশেম মারা গেছেন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় কানাডার মন্ট্রিলে তিনি মারা যান। বাংলাদেশে তার পরিবারের তরফ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
কিসমতের স্ত্রীর নাম পারভীন হাসেম। কোনো ছেলে-মেয়ে নেই তাদের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তার পৈতৃক বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের ডনচেম্বার এলাকায়।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান এবং মনসুর আলীকে। এই হত্যা মামলায় কিসমত হাশেমকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় আদালত। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও আসামি ছিলেন কিসমত। তবে রায়ে তিনি খালাস পান।
কিসমত হাসেমের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু জানান, কানাডার মন্ট্রিলে নিজের বাসায় হৃদরোগে মারা যান তার ভাই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাযা শেষে তাকে মন্ট্রিলে দাফন করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীর একাংশ। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ক্ষমতা দখল নিয়ে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যে ওই বছর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। হত্যাকান্ডের পর দেশ ছাড়েন এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি কানাডায় বসবাস করছিলেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। ২০০৪ সালের অক্টোবরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ হত্যায় তিন সেনা কর্মকর্তা  রিসালদার (অব.) মুসলেমউদ্দিন, দফাদার (বহিষ্কৃত) মারফরত আলী শাহ ও দফাদার (বহিষ্কৃত) আব্দুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।কিসমত হাসেমসহ ১২ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। তাদের তিনজনকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পরে হাই কোর্ট হয়ে মামলাটি আপিল বিভাগে এলে চূড়ান্ত রায়েও কিসমত হাসেমের দণ্ড বহাল থাকে।
আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিসমতকে গ্রেফতারে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। কানাডা থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও।

সাবমিট

জেলহত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু

 অনলাইন ডেস্ক, ২৬ মার্চ: 
২৬ মার্চ ২০১৫, ০৬:০১ পিএম  | 

জেলখানায় বন্দী অবস্থায় চার জাতীয় নেতাকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামী ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) কিসমত হাশেম মারা গেছেন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় কানাডার মন্ট্রিলে তিনি মারা যান। বাংলাদেশে তার পরিবারের তরফ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
কিসমতের স্ত্রীর নাম পারভীন হাসেম। কোনো ছেলে-মেয়ে নেই তাদের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তার পৈতৃক বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের ডনচেম্বার এলাকায়।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান এবং মনসুর আলীকে। এই হত্যা মামলায় কিসমত হাশেমকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় আদালত। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও আসামি ছিলেন কিসমত। তবে রায়ে তিনি খালাস পান।
কিসমত হাসেমের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু জানান, কানাডার মন্ট্রিলে নিজের বাসায় হৃদরোগে মারা যান তার ভাই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাযা শেষে তাকে মন্ট্রিলে দাফন করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীর একাংশ। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ক্ষমতা দখল নিয়ে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যে ওই বছর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। হত্যাকান্ডের পর দেশ ছাড়েন এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি কানাডায় বসবাস করছিলেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। ২০০৪ সালের অক্টোবরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ হত্যায় তিন সেনা কর্মকর্তা  রিসালদার (অব.) মুসলেমউদ্দিন, দফাদার (বহিষ্কৃত) মারফরত আলী শাহ ও দফাদার (বহিষ্কৃত) আব্দুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।কিসমত হাসেমসহ ১২ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। তাদের তিনজনকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পরে হাই কোর্ট হয়ে মামলাটি আপিল বিভাগে এলে চূড়ান্ত রায়েও কিসমত হাসেমের দণ্ড বহাল থাকে।
আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিসমতকে গ্রেফতারে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। কানাডা থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও।

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র