¦
বৃষ্টি ঝরে রহমত হয়ে

প্রিন্ট সংস্করণ, ৩ এপ্রিল | প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৫

ক’দিন আগে এক কৃষককে ভারাক্রান্ত দেখে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আপনি কি কোনো সমস্যায় পড়েছেন? তিনি বড়ই দুঃখের সঙ্গে ফসলের মাঠের দিকে ইশারা করে বললেন, দেখুন না কত টাকা খরচ করে ফসল বুনেছি আর এখন পানির অভাবে ফসল পুড়ে যাচ্ছে। এমনই হাজারো কৃষক বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছেন। এই চৈত্র-বৈশাখের খরতপ্ত মাঠ নবধারা জলে সিঞ্চিত হলে কৃষক জমিতে হালকর্ষণ করে বীজ বোনে, আশায় বুক বাঁধে সোনালি ফসলের। সব কিছুর মূল হল পানি। চৈত্র-বৈশাখে মাটি ফেটে যখন চৌচির, তখন কৃষক আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে বৃষ্টির আশায়। আল্লাহপাকের ইচ্ছা হলে তিনি তার ধরণীকে মৃত থেকে জীবন্ত করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর আল্লাহ আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ করেছেন এবং পৃথিবীকে মৃত্যুর পর এর মাধ্যমে জীবিত করে তুলেছেন। নিশ্চয় এতে সে সব লোকের জন্য রয়েছে এক বড় নিদর্শন যারা কথা শোনে’ (সূরা নাহল : ৬৫)। ‘তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ করেছেন। এতে রয়েছে সুপেয় পানি। আর এ থেকেই সে সব গাছপালা উৎপন্ন হয় যেগুলোতে তোমরা গবাদি পশু চরিয়ে থাক’ (সূরা নাহল : ১০)। ‘তিনিই পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আকাশকে ছাদরূপে বানিয়েছেন এবং মেঘ থেকে পানি অবতীর্ণ করেছেন। এরপর তা দিয়ে তিনি তোমাদের জন্য রিজিকরূপে নানা ধরনের ফলফলাদি উৎপন্ন করেছেন। অতএব, তোমরা জেনে-শুনে
কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করাবে না’ (সূরা বাকারা : ২২)।
চৈত্র-বৈশাখের রৌদ্রকরোজ্জ্বল তাপদাহে তপ্ত ধরণী যেমন সঞ্চিত তাপশক্তি ধারণ করে পরে আল্লাহপাকের বর্ষার বারিধারায় হয়ে উঠে সুজলা-সুফলা, তেমনি ধর্ম জগতে নিষ্ফলা এক কালোত্তীর্ণ হওয়ার পর মৃতকে জীবিত করতে এসেছিলেন মহানবী (স.)। তিনিও ঐশী পানি দিয়ে ধরণীকে করেছিলেন শীতল। আল্লাহতায়ালা জমিনকে যেমন সার দিয়ে উর্বর করে সম্পদশালী করেছেন অর্থাৎ সুজলা-সুফলা করেছেন, তেমনি নবী-রাসূল পাঠিয়ে মানবাত্মাকে করেছিলেন সজিব-সতেজ। সেই আত্মাগুলো আধ্যাত্মিক পানি গ্রহণের ফলে চির বসন্তের স্বাদ উপভোগ করেছিলেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্তৃক উদ্ঘাটিত বাস্তব ঘটনা হল, নক্ষত্র থেকে নব নব শক্তি এবং উর্বরতা পৃথিবী লাভ করতে থাকে। নক্ষত্ররাজি থেকে জড়-পদার্থের অণু-পরমাণু উল্কাপিণ্ডের ধূলি বা গুঁড়া আকারে পতিত হয় এবং তা পৃথিবীর উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির কাজ করে। খাদ্যসশ্য উৎপন্ন করার জন্য মাটিতে প্রচুর পানি প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালা পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন, যা পানি সংরক্ষণে জলাধাররূপে কাজ করে, অর্থাৎ বরফ আকারে পানি জমা করে রাখে এবং নদ-নদী প্রবাহের মধ্য দিয়ে মাটির বুকে তা বিতরণ করে। যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি পৃথিবীকে নিষ্প্রাণ দেখতে পাও। এরপর আমি যখন এর ওপর পানি বর্ষণ করি তখন তা সক্রিয় হয়ে ওঠে ও ফেঁপে-ফুলে ওঠে এবং প্রত্যেক প্রকার উদ্ভিদের সবুজ শ্যামল শোভামণ্ডিত জোড়া উৎপন্ন করে’ (সূরা হজ : ৫)। এখানে বলা হয়েছে, ‘শুকনো মাটির ওপর পানি বর্ষণ করে আমরা পৃথিবীকে জীবন দান করেছিলাম’ বিজ্ঞানীরাও অনুসন্ধান করে বিস্ময়কর এ তথ্য জেনেছেন, শুষ্ক মাটিতে যখন পানি বর্ষিত হয় তখন প্রকৃতপক্ষে এতে জীবনের লক্ষণাদি সৃষ্টি হয়ে যায়।
তারপর বলা হয়েছে, ‘তুমি কি দেখনি, নিশ্চয় আল্লাহ আকাশ থেকে পানি অবতীর্ণ করেন যার ফলে পৃথিবী সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে? নিশ্চয় আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ’ (সূরা হজ : ৬৩)। এখানে প্রকৃতির বিস্ময়কর নিয়মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আরবের ঊষর মরুভূমি এবং আধ্যাত্মিকভাবে মৃত ভূমির ওপর ঐশী রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার কারণে সেখানে নব জীবনের স্পন্দন শুরু হয়েছে এবং সর্বত্র তাজা ও সবুজ গাছপালা বিরাজ করছে। দেশের সর্বত্র আধ্যাত্মিক জাগরণ পরিলক্ষিত হয় যার ফলে সেখানে ইসলাম গভীরভাবে আপন শিকড় গেড়ে বসেছে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বোঝা যায়, পৃথিবীতে প্রাণ তথা জীবনের প্রাচীনতম নিদর্শনের প্রথম হচ্ছে উদ্ভিদজগৎ। প্রাণী জীবনের আবির্ভাব ঘটে এর কিছু পরে। আর সেই প্রাণী জীবনেরও উদ্ভব ঘটেছিল সমুদ্র থেকেই। আর উদ্ভিদজগৎ এবং প্রাণী জীবনের অপরিহার্য উপাদান হল পানি। পানিই হল সব কিছুর মূল।
অপর দিকে যারা পাপাচারে লিপ্ত এবং সীমালঙ্ঘন করে তাদের আল্লাহপাক পানি বর্ষণের মাধ্যমে শাস্তিও দিয়ে থাকেন। যেভাবে হজরত লুত (আ.)-এর শহর সদোম, যা আরব থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে অবস্থিত ছিল সেই শহর এবং জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করেছিলেন, বলা হয়েছে ‘এরপর এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প তাদের আঘাত করল এবং তারা তাদের ঘর-বাড়িতে মুখ থুবড়ে লাশ হয়ে পড়ে রইল’ (সূরা আরাফ : ৭৮)। ‘আমি তাদের ওপর পাথরের প্রচণ্ড বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। অতএব চেয়ে দেখ, অপরাধীদের কী পরিণাম হয়ে থাকে’ (সূরা আরাফ : ৮৪)। পাপাচারীদের ওপর পাথর কুচি ও শীলাখণ্ডের বৃষ্টি বর্ষণ বিভিন্ন সময় হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আল্লাহপাক আরও বলেন, ‘আর আমি তাদের ওপর এক বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। আর যাদের সতর্ক করা হয় তাদের ওপর বর্ষিত বৃষ্টি অতি ক্ষতিকর হয়ে থাকে’ (সূরা শুরা : ১৭৩)। তাই আমাদের কর্মের দুর্বলতার জন্য যেন আল্লাহপাকের বৃষ্টির পানি ক্ষতির কারণ না হয় সে জন্য সর্বদা তার দরবারে দোয়ারত থাকতে হবে, যেহেতু নির্জীব পৃথিবীকে তিনি সজীব করেন আবার তিনিই মরুভূমিতে পরিণত করতে পারেন আর এ জন্য কোনোভাবেই যেন আমরা আল্লাহপাকের বিশেষ এ নিয়ামত পানির অপচয় না করি সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক : মাহমুদ আহমদ

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close