¦
মিথেন গ্যাসের আগুনে দগ্ধ মা-মেয়ের মৃত্যু

সিলেট ব্যুরো, ৪ এপ্রিল: | প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৫

সিলেটে মিথেন গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। শুক্রবার রাতে নগরীর মিরের ময়দানে বাথরুমের ভেতরে মিথেন গ্যাস থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে তারা দগ্ধ হন।
নিহতরা হচ্ছেন সিলেট নগরীর মিরের ময়দান অর্ণব ৭ নং বাসার মরহুম আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫) ও তার কন্যা জাহিদা আক্তার (২০)। জাহিদা সিলেট নগরীর মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। আগুনে দগ্ধ পুত্র জাকির হোসেনের অবস্থা উন্নতির দিকে বলে জানা গেছে।
নিহতের পুত্র অগ্নিদগ্ধ জাকির হোসেন জানান, মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে মা ও একমাত্র বোন মারা যান।
জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর মিরের ময়দানে বাথরুমের ভেতরে মিথেন গ্যাস থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে তারা দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মা-মেয়েকে প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের শরীরের ৬০/৭০ ভাগ পুড়ে যায় বলে ওসমানী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাবেদ হোসেন মো: তারেক জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মিরের ময়দান অর্ণব ৭ নম্বর বাসার বাসিন্দা গৃহকত্রী মনোয়ারা বেগমের কন্যা জাহিদা বিদ্যুত না থাকায় মোমবাতি নিয়ে বাথরুমে যান। বাথরুমের কমোডের ঢাকনা তোলা মাত্রই হাতের মোমবাতি থেকে বাথরুমে আগুন ধরে যায় এবং বিকট শব্দ হয়। আগুনের হাত থেকে জাহিদাকে রক্ষা করতে গিয়ে মনোয়ারা ও তার পুত্র জাকির হোসেনও দগ্ধ হন।
মূলত মিথেন গ্যাস থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে বাথরুমের ফরমিকার দরজা ছাড়াও বাসার কিছু আসবাবপত্র ও কিছু মালামাল পুড়ে যায়। বাসার ভেতর মানুষের চিৎকার ও আগুন দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ারসার্ভিস ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপালী জানান, মনোয়ারা বেগম ও তার মেয়ে জাহিদার শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। অবস্থা খারাপ হওয়ায় গতকাল ভোররাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর