¦
আগামীকাল মহান মে দিবস

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল: | প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৫

আগামীকাল শুক্রবার, মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, সোনার বাংলা গড়ে তুলি’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি, বিএনপি চেয়াপপারসন খালেদা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আজ থেকে ১২৯ বছর আগে ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়েই শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনটিকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরকারী ছুটি থাকে এ দিন। বাংলাদেশেও আগামীকাল সরকারী ছুটি।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিবর্তনশীল এবং তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করাসহ বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই। এ উপলক্ষে বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি।
বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালু করেছে। পোশাক শিল্পসহ ৩৮টি শিল্পখাতের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতর মজুরি ঘোষণা করেছে। জাতীয় শিশু শ্রমনীতি ২০১০ এবং জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২ প্রণয়ন করেছে।
ঐতিহাসিক মে দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দুদিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে মে দিবসের র‌্যালি, উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত মে দিবসের সকল কর্মসূচীর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বেধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় রাজউক এভিনিউস্থ শ্রম ভবনের সম্মুখ থেকে একটি র‌্যালি বের করা হবে। র‌্যালিটি দৈনিক বাংলা মোড় ও পল্টন হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক র‌্যালির নেতৃত্ব দিবেন।
মে দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ৪ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সকাল ও বিকালে দু’টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কাউন্সিল শক্তিশালীকরণ: ভূমিকা, প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যত করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ও লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও সেফটি এ্যান্ড রাইটস। বিকালে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণে আইনী সুরক্ষা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারটির যৌথভাবে আয়োজন করবে কর্মজীবী নারী ও ওশি ফাউন্ডেশন।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ভবন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লা-কার্ড দ্বারা সজ্জিত করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত কর্মসূচীর আলোকে জেলা পর্যায়েও মহান মে দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, জাতীয় শ্রমিক জোট, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, সিপিবি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, জাসদ, গণফোরাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close