jugantor
ভুক্তভোগীদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ সাব-রেজিস্ট্রাররা

  ঢাকা  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:৪১:৫০  | 

২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর নামজারির মিস কেস করেছিলেন রাজধানীর উত্তরখানের সোহেল। তেজগাঁওয়ের এসি (ল্যান্ড) নাজমা নাহার তাকে নানা অজুহাতে ৯ মাস ঘোরান।
কোতোয়ালির সাইদুর রহমানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তৎকালিন এসি (ল্যান্ড) রফিকুল ইসলাম। টাকা দিতে না পারায় সময়মতো তার নামজারি হয়নি।
বৈধ রেকর্ডপত্র থাকা সত্ত্বেও কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমানের বাড়িটি এখন ‘সরকারি সম্পত্তি’র তালিকায়। তার নাতি সালেহীন আইনী লড়াই চালাচ্ছেন  বাড়িটির দখলদারিত্ব বজায় রাখতে।
নিহত জাসদ নেতা কাজী আরেফের নামে প্রতিষ্ঠিত কে.এম. দাস লেনের স্কুলটি গ্রাস করতে চাইছে স্থানীয় ভূমিদস্যু। জেলা প্রশাসন এটির দখল বুঝিয়ে দিলেও রেজিস্ট্রি করে দেননি।  তার ভাই কাজী মাসুদ আহমেদ পরিবারের সম্মান, সম্ভ্রম ও জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে খন্ড জমিটি সরকাকে ফিরিয়ে দিতে চান।  সেই সঙ্গে নিজের এবং কাজী আরেফ পরিবার সদস্যদের প্রাণভিক্ষা চান।
ভুক্তভোগীদের মুখে এভাবেই ঢাকার এসি (ল্যান্ড) ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ভেতরকার দুর্নীতি, হয়রানি ও দৌরাত্মের উৎকট বাস্তবতা উঠে আসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত  গণশুনানিতে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ শুনানি। শুনানিতে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ তুলে ধরেন তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও হয়রানির কথা।
জবাব দেন রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান ও কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারি কমিশনাররা (ভূমি)। অনেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে মেলে সমাধানের আশ্বাসও।
তবে ফ্লোর কেড়ে নিয়ে বেশির ভাগ উত্তরই দেয়ার চেষ্টা করেন সঞ্চালকের ভূমিকায় আশীন ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাতুর্যের সঙ্গে থামিয়ে দেন অভিযোগকারীকে।
টানা তিন ঘন্টা ধরে বাহাস চলে ভুক্তভোগী বনাম এসি (ল্যান্ড), সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে।
এ সময় দর্শক সারিতে ছিলেন, দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, জাইকার কনসালট্যান্ট ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাইকার ‘সুশাসন’ বিভাগের উপদেষ্টা হিরোকী ওয়াতানাবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. মাকসুদুল হাসান পাটোয়ারি, নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহা-পরিদর্শক খান আব্দুল মান্নান, দুদকের মহা-পরিচালক,পরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি।
জবাবদিহিতার ‘কাঠগড়ায়’ ছিলেন, গুলশান সার্কেলের এসি (ল্যান্ড) মোসাদ্দেক  মেহেদী ইমাম, কোতোয়ালি সার্কেলের মো. আসলাম উদ্দীন, তেজগাঁও সার্কেলের নাজমা নাহার। সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে ছিলেন, তেজগাঁওয়ের মো. আকবর আলী, গুলশানের কামাল হোসেন খান এবং সূত্রাপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম।  
অভিযোগকারীরা সীমাহীন হয়রানির কথা তুলে ধরেন। অনলাইনে রাজস্ব আদায় পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেন তারা।
এর আগে গণশুনানির উদ্বোধনী পর্বে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণশুনানিতে আমরা আশাব্যঞ্জক ফল পাচ্ছি। তবে এ শুনানিই শেষ নয়। সরকারি অন্যান্য বিভাগকেও গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বলেন, গণশুনানি করেই দায়িত্ব শেষ নয়। ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে কি ফল পেলেন সেটিও আমরা মনিটরিং করবো।

সাবমিট

ভুক্তভোগীদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ সাব-রেজিস্ট্রাররা

 ঢাকা 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০৯:৪১ পিএম  | 

২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর নামজারির মিস কেস করেছিলেন রাজধানীর উত্তরখানের সোহেল। তেজগাঁওয়ের এসি (ল্যান্ড) নাজমা নাহার তাকে নানা অজুহাতে ৯ মাস ঘোরান।
কোতোয়ালির সাইদুর রহমানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তৎকালিন এসি (ল্যান্ড) রফিকুল ইসলাম। টাকা দিতে না পারায় সময়মতো তার নামজারি হয়নি।
বৈধ রেকর্ডপত্র থাকা সত্ত্বেও কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমানের বাড়িটি এখন ‘সরকারি সম্পত্তি’র তালিকায়। তার নাতি সালেহীন আইনী লড়াই চালাচ্ছেন  বাড়িটির দখলদারিত্ব বজায় রাখতে।
নিহত জাসদ নেতা কাজী আরেফের নামে প্রতিষ্ঠিত কে.এম. দাস লেনের স্কুলটি গ্রাস করতে চাইছে স্থানীয় ভূমিদস্যু। জেলা প্রশাসন এটির দখল বুঝিয়ে দিলেও রেজিস্ট্রি করে দেননি।  তার ভাই কাজী মাসুদ আহমেদ পরিবারের সম্মান, সম্ভ্রম ও জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে খন্ড জমিটি সরকাকে ফিরিয়ে দিতে চান।  সেই সঙ্গে নিজের এবং কাজী আরেফ পরিবার সদস্যদের প্রাণভিক্ষা চান।
ভুক্তভোগীদের মুখে এভাবেই ঢাকার এসি (ল্যান্ড) ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ভেতরকার দুর্নীতি, হয়রানি ও দৌরাত্মের উৎকট বাস্তবতা উঠে আসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত  গণশুনানিতে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ শুনানি। শুনানিতে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ তুলে ধরেন তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও হয়রানির কথা।
জবাব দেন রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান ও কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারি কমিশনাররা (ভূমি)। অনেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে মেলে সমাধানের আশ্বাসও।
তবে ফ্লোর কেড়ে নিয়ে বেশির ভাগ উত্তরই দেয়ার চেষ্টা করেন সঞ্চালকের ভূমিকায় আশীন ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাতুর্যের সঙ্গে থামিয়ে দেন অভিযোগকারীকে।
টানা তিন ঘন্টা ধরে বাহাস চলে ভুক্তভোগী বনাম এসি (ল্যান্ড), সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে।
এ সময় দর্শক সারিতে ছিলেন, দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, জাইকার কনসালট্যান্ট ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাইকার ‘সুশাসন’ বিভাগের উপদেষ্টা হিরোকী ওয়াতানাবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. মাকসুদুল হাসান পাটোয়ারি, নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহা-পরিদর্শক খান আব্দুল মান্নান, দুদকের মহা-পরিচালক,পরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি।
জবাবদিহিতার ‘কাঠগড়ায়’ ছিলেন, গুলশান সার্কেলের এসি (ল্যান্ড) মোসাদ্দেক  মেহেদী ইমাম, কোতোয়ালি সার্কেলের মো. আসলাম উদ্দীন, তেজগাঁও সার্কেলের নাজমা নাহার। সাব-রেজিস্ট্রারদের মধ্যে ছিলেন, তেজগাঁওয়ের মো. আকবর আলী, গুলশানের কামাল হোসেন খান এবং সূত্রাপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম।  
অভিযোগকারীরা সীমাহীন হয়রানির কথা তুলে ধরেন। অনলাইনে রাজস্ব আদায় পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেন তারা।
এর আগে গণশুনানির উদ্বোধনী পর্বে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণশুনানিতে আমরা আশাব্যঞ্জক ফল পাচ্ছি। তবে এ শুনানিই শেষ নয়। সরকারি অন্যান্য বিভাগকেও গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বলেন, গণশুনানি করেই দায়িত্ব শেষ নয়। ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে কি ফল পেলেন সেটিও আমরা মনিটরিং করবো।

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র