¦
সাংস্কৃতিক জোটের সম্পাদককে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

ছাত্রলীগের বিজয় র‌্যালিতে অংশ না নেয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিমুলকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলে এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা ওই হলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার অনুসারী বলে জানা গেছে। মারধরের শিকার আবু বকর সিদ্দিক শিমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মাদার বখ্শ হলের আবাসিক ছাত্র।
ছাত্রলীগের যেসব কর্মী শিমুলকে পিটিয়েছে তারা হলেন- মেহেদী রাজ (অর্থনীতি, ২য় বর্ষ), আব্দুর রাজ্জাক (সমাজবিজ্ঞান, ২য় বর্ষ), ইমরান হোসেন (ভাষা বিভাগ), নাইম ইসলাম (ভাষা বিভাগ) ও রুবেল আহদে (ভাষা বিভাগ)। তারা সবাই মাদার বখ্শ হলের অনাবাসিক ছাত্র।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানায়, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতে মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগ একটি র‌্যালির আয়োজন করে। র‌্যালিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে ছাত্রলীগের কর্মীরা হলের প্রতিটি রুমে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের র‌্যালিতে আসতে বলে। র‌্যালিতে অংশ না নিলে ‘শিবির আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেয়া হবে’ বলে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।
এরই ধারবাহিকতায় শিমুলের ৩২২ নম্বর কক্ষে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে র‌্যালিতে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার তার চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় শিমুল র‌্যালিতে যেতে পারবে না বলে জানায়।
পরে রাত পৌনে ১টার দিকে আবার ওই কক্ষে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা শিমুলকে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। শিমুল প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী রাজ যুগান্তরকে বলেন, শিমুল আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। তাই হাতাহতির ঘটনা ঘটেছে। মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, র‌্যালিতে অনেক ডাকাডাকি করা হলেও শিমুল আসেনি। এ নিয়ে একটু বাকবিতন্ডা হয়েছে।
রাবি কেন্দ্রীয় সাংকৃতিক জোটের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, সাংস্কৃতিক জোটের একজন নেতাকে মারধরের বিষয়টি ন্যাক্কারজনক। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ওই হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবো।
হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close