¦
সার্টিফিকেট আটকে রেখে প্রধান শিক্ষিকার টাকা দাবি

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি | প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫

নীলফামারীর ডিমলায় অসহায় এক স্কুল ছাত্রীর এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট, প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট আটকে রেখেছেন প্রধান শিক্ষিকা। মারুফা আক্তার কাজল নামে ওই ছাত্রী সনদপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র  উদ্ধারে সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মারুফা বেগম লিজা তার প্রাক্তন ছাত্রী লতিফা আক্তার কাজলের ২০১০ সালে পাশকৃত এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট দীর্ঘদিন ধরে আটক করে রেখেছেন।
দীর্ঘদিনে থেকে বিদ্যালয়ে গেলেও তাকে এসএসসি পাশের সার্টিফিকেট, প্রশংসাপত্র ও মার্কশিট দিচ্ছেন না প্রধান শিক্ষিকা। ফলে অসহায় ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষিকা ছাত্রীকে বলেছেন, তোমার সাথে আমার অনেক বোঝাপড়া আছে। তাই তোমাকে সার্টিফিকেটসহ কোনো কিছুই দিব না।
জানা গেছে, ওই ছাত্রীর মা আছিয়া বেগম ডেসটিনি-২০০০-এর সদস্য হয়। পরে প্রধান শিক্ষিকা লিজা ডেসটিনি-২০০০ এর সদস্য হয়। এই সদস্য হওয়ায় প্রধান শিক্ষিকা ও তার মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা খোঁয়া যায় ডেসটিনিতে। ওই টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ছাত্রীর সার্টিফিকেটসহ কোনো কিছুই দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজ পত্রাদি উত্তোলন করতে না পেরে ছাত্রীর ভবিষৎ জীবন অন্ধকার হয়ে পড়েছে।
গত ১৭ ডিসেম্বর ছাত্রীসহ তার মা, বাবা ও ভাইসহ আরো অনেকে সার্টিফিকেট নিতে বিদ্যালয় গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে চলে যান।
পরে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি বিদ্যালয়ের কাজে বাইরে আছি।

অসহায় ছাত্রী বিচার চেয়ে রোববার ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিমের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ছাত্রীর মা আছিয়া বেগম বলেন, আমার মেয়ের সনদপত্রের জন্য কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ডেসটিনির টাকা আমার মেয়ে আত্মসাৎ করেনি, করেছে কোম্পানি।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা মারুফা বেগম লিজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডেসটিনিতে আমার খোয়া যাওয়া ৫০ হাজার টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমি ঐ ছাত্রীর সনদপত্রসহ কোনো কিছুই দিব না।
ডিমলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান হাবিব জানান, ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার পথ রুদ্ধ করে সার্টিফিকেট আটকানোর কোনো নিয়ম নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রীর লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছি। সার্টিফিকেট উদ্ধারে প্রযোজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণে তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close