¦
বিদেশী ষড়যন্ত্র ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্ধ ১৬০০ গার্মেন্ট

গাজীপুর প্রতিনিধি | প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৬

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে যমুনা কমপ্লেক্সে ইংরেজি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম
বিশিষ্ট শিল্পপতি, যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে দেশের গার্মেন্টের অবস্থা খুবই খারাপ।
তিনি বলেন, বিদেশী ষড়যন্ত্র ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের প্রায় ১ হাজার ৬০০ গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশিষ্ট এই শিল্পপতি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, 'গার্মেন্ট কারখানাগুলো যদি এভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমরাও আস্তে আস্তে উন্নতির পথ থেকে সরে এসে গরিব হতে থাকবো।'
তিনি বলেন, 'গার্মেন্ট শিল্প আমাদের দেশের বেকার ভাই-বোনদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। দেশের প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে এই খাতে। তাই দেশে গার্মেন্ট শিল্পকে ধরে রাখতে পণ্যের মান বজায় রেখে নিখুঁত ও সুন্দরভাবে পণ্যের উৎপাদন করতে হবে।'
'নিজেদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিদেশীরা যদি আসে, তারা যেন বুঝতে পারে- এদেশের শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো আছে, শান্তিতে আছে' যোগ করেন নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে যমুনা কমপ্লেক্সে ইংরেজি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
শ্রমিকদের উদ্দেশে যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান বলেন, 'তোমাদের ওপর নির্ভর করে দেশের ভবিষ্যৎ। তোমরাই একটি শিল্প কারখানা ও গ্রুপের ভবিষ্যৎ। তোমরাই পার একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে, একটা কোম্পানির অবস্থানকে ভালো করতে।'
তিনি বলেন, 'তোমরা যে যে পেশাতেই আছ, সেটাকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তোমাদের স্থান বাংলাদেশের আরও যে শ্রমজীবী মানুষ আছে, তাদের চেয়ে অনেক ওপরে।'
শ্রমিক কর্মচারীদের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম বলেন, 'তোমরা যমুনা গ্রুপ তথা যমুনা পরিবারের সদস্য। তোমরা যে যেখানে আছো, সেখান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। যমুনা গ্রুপের সম্পদ তোমাদের সবার। আপন ভেবে এর রক্ষনাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করবে।'
এ সময় শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সরকার যে দিন তোমাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করবে, আমি সবার আগে সরকারের সেই বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করবো।'
যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যান বলেন, 'হেলপার অপারেটরদের বেতন ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা হওয়া উচিত। শ্রমিক হেলপাররা যে ৪-৫ হাজার টাকা বেতন পায়, এটা দিয়ে তাদের চলে না। তাদের বেতন আরও বাড়ানো উচিত।'
তিনি বলেন, 'আমি ইচ্ছে করলে একা সবার বেতন বাড়াতে পারবো না। হয়তো কিছু লোককে বাড়তি টাকা দিতে পারবো। আমি একা ৫-১০ হাজার লোককে বেতন বাড়িয়ে দিলে প্রতিযোগিতার এ বাজারে আমার কারখানার উৎপাদিত পণ্য টিকে থাকবে না।'
বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বলেন, 'শ্রমিকদের এই কথাগুলো আমি যেখানেই সুযোগ পাই, সেখানেই বলি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন এ শ্রমিকদের বেতনও ১০-২০ হাজার টাকা হবে।'
তিনি বলেন, 'এমন দিন আসবে আমরা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। আমাদের শ্রমিক ভাইদের অবস্থার অবস্থার পরিবর্তন হবে। আগামী ৫-১০ বছরে আমরা আরও এগিয়ে যাবো।'
নুরুল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে আমাদের নিজস্ব কোনো কল-কারখানা ছিল না। সব ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের। দেশ স্বাধীন হওয়ার কারণে আমরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছি। হাজার হাজার শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছি।'
তিনি বলেন, 'যমুনা ফিউচার পার্ক বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম শপিং মল। দেশ স্বাধীন হওয়ার কারণেই এদেশের মানুষের ভ্যাগের পরিবর্তন হয়েছে।'
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- যমুনা কমপ্লেক্সের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মো. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন- যমুনা অটোমোবাইল কারখানার টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর (এইচআর) মিসেস লিও, জেনারেল ম্যানেজার জেডিজিএল মো. মোস্তাফিজুল হক, জেনারেল ম্যানেজার মো. বাহজাদ, যমুনা গ্রুপের প্রধান প্রকৌশলী এরশাদ হোসেন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার স্বপন শর্ম্মা, জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুলা শ্রীকান্ত, মো. আবুল হাসেম ও মো. মোকছুদের রহমান মনির, ডিজিএম মো. জয়দার আলী, মো. আমির আলী ও মো. মামুনুর রশীদ মিলটন, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল হাসেম, মো. সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মন্ডল।
পরে প্রধান অতিথি নববর্ষ উপলক্ষে লাকীকূপন বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। বিকালে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সর্বশেষ খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close