¦
প্রতিহিংসার রাজনীতি আমাদের সব অর্জন কেড়ে নিচ্ছে

| প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির নির্মম শিকারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৬ কোটি মানুষের সব অর্জন কেড়ে নিচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। অবরোধ-হরতালকেন্দ্রিক টানা সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ জনেরও বেশি। আহতের সংখ্যাও কয়েকশ ছাড়িয়ে গেছে। দেশের শিল্প, বাণিজ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীকে জিম্মি বানানোর চেষ্টা করছে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির কুশীলবরা।
দেশে ১৪ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় অবরোধ প্রত্যাহার না করে বরং বাড়তি আতংক হিসেবে ৭২ ঘণ্টার হরতালও ডাকা হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে বিরোধী দলের অবরোধের টার্গেট যে সরকার, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু দেশের মানুষ তাজ্জব হয়ে দেখছে, সরকার পতনের আন্দোলনের নামে কার্যত জনগণকেই টার্গেট করা হচ্ছে। রাজনীতির অপখেলায় তারা কোনো পক্ষে না থাকলেও প্রতিদিনই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। চাকরিজীবীদের জন্যও থাবা বিস্তার করছে নানামুখী সংকট। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।
দেশে যে সাংঘর্ষিক রাজনীতি চলছে, তাতে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই জনস্বার্থের দোহাই দিচ্ছে। যে কোনোভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো যোগসূত্র না থাকলেও চূড়ান্ত বিচারে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের জানমালের নিরাপত্তা কেড়ে নিচ্ছে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি। রাজনীতির লক্ষ্য জনকল্যাণ। দেশের চলমান রাজনীতির সঙ্গে জনস্বার্থ বা জনকল্যাণের কোনো সম্পর্ক না থাকায় সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড দানা বেঁধে উঠছে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার বদলে পেছনে নেয়ার আত্মঘাতী প্রবণতা রাজনীতিকে কলুষিত করছে। যেসব ইস্যু নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংঘাত চলছে, তার সমাধানে আলাপ-আলোচনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে পথে না যাওয়ার মানসিকতা সংকটকে গভীর থেকে গভীরতর করছে। এ সংকট থেকে জাতি মুক্তি চায় এবং মুক্তির একমাত্র পথ হল- প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিকে না বলা। যারা জনগণের জীবন-জীবিকাকে সংকটের মুখে ফেলছে, দেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলছে, তাদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
গণতান্ত্রিক রাজনীতির পূর্বশর্ত হচ্ছে, জনগণ সব ক্ষমতার অধিকারী এবং রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে শুধু জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে এবং দরকার হলে নেতাকর্মীরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনবে সাধারণ মানুষের শান্তি। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নেতারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কেউ কারও বিরোধিতা করবে না। শুধু যুক্তিসঙ্গত কারণেই বিরোধিতা করবে এবং এতেই ফিরে আসবে সত্যিকারের শান্তি। হরতাল-অবরোধের নামে আগুন দেয়া, জানমালের ক্ষতি করার মতো নৈরাজ্য সৃষ্টি করা কারও কাম্য নয়। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। হরতাল পালনে অন্যদের বাধ্য করা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল বা অবরোধ করা যুক্তিসঙ্গত রাজনৈতিক অধিকার হতে পারে না। রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাবই সহিংস আন্দোলনের উৎস। এ বিষয়টির ওপর সবারই নজর দেয়া দরকার।
হরতালনির্ভর রাজনীতি দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এ অবস্থায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি বেছে নেয়ার জন্য রাজনীতিকদের আহ্বান করছি। হরতালের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় জননিরাপত্তা যখন হুমকির সম্মুখীন, দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা যখন ভেঙে পড়ার উপক্রম, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা যখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে হরতালের বিকল্প নিয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দরকার। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ডাকা হরতাল পালন করতে দেশবাসীকে বাধ্য করা হয়। হরতালের নামে গাড়ি পুড়িয়ে, দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টির সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকারের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।
ইফতেখার আহমেদ টিপু
[email protected]
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close