¦
আর কোনো মৃত্যু নয় নিরাপদ সড়ক চাই

| প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ চোখে পড়ে। সাধারণভাবে এগুলোকে দুর্ঘটনা বলা হলেও এর বেশিরভাগই যে মানবসৃষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বেসরকারি সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে ২ হাজার ৭১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫৩৬ নিহত ও ১০ হাজার ৭৭০ মানুষ আহত হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি করা এ পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রকৃত দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হবে, তা বলাই বাহুল্য।
অপর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর শতকরা ৬০ ভাগই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, যাদের বয়স ১৬ থেকে ৪৫ বছর। অর্থাৎ শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রাণ হারাচ্ছে এবং পঙ্গুত্ববরণ করছে। বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রতিবছর সড়কপথে অন্তত ৫ হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে ৪ হাজার মানুষ, পঙ্গুত্ববরণ করছে এর দ্বিগুণ। আর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক সময় ভাংচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পায়। সড়কপথে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা যেমন কাম্য নয়, তেমনি একে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য ও জনভোগান্তির সূত্রপাত যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারেও সবার সচেতন থাকা উচিত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিচার্স ইন্সটিটিউটের (এআরআই) সড়ক দুর্ঘটনার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট দুর্ঘটনার শতকরা ৫৪ ভাগই ঘটে পথচারীর সঙ্গে সংঘর্ষজনিত কারণে। এছাড়া যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, পশ্চাদভাগে আঘাত এবং উল্টে যাওয়াজনিত দুর্ঘটনার হার যথাক্রমে ১৩, ১১ ও ৯ ভাগ। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৮৫ শতাংশ মৃত্যুই ঘটে এ চার ধরনের দুর্ঘটনার কারণে।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার ৯২ ভাগ কারণ চালকের অদক্ষতা। অশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিতদের হাতে গাড়ি তুলে দেয়া, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন লংঘন, ওভারটেক, সড়ক ব্যবস্থাপনাগত ত্র“টিসহ অনেক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। মোটকথা, আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এক কথায় ভয়াবহ। এ অব্যবস্থাপনার কারণেই একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালনার ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের খামখেয়ালিপনা ও নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর ফলেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। বেসরকারি সংগঠন পিপিআরসি ও ব্র্যাক-এর তথ্যমতে, দেশের মহাসড়কের ২০৮টি ব্ল্যাকস্পট আছে। এসব স্পটকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে যানবাহনের গতিসীমা ও অন্যান্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া থাকলেও বেশিরভাগ অশিক্ষিত চালক তা পড়তে অক্ষম। অসচেতনতাজনিত কারণে নির্দেশনা অমান্য করায় প্রতিনিয়ত মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। ফলে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় দোষী চালকের সাজার মেয়াদ ৭ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছরের সংশোধিত আইন অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে ৭ বছরের সাজা বহাল হয়েছে। তবে শুধু কঠোর শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। শাস্তির পাশাপাশি আমাদের আরও অনেক বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশিমতো যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের ওপর ম্যাক্সি-টেম্পো স্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাট-বাজার স্থাপন এবং পথচারীদের অসচেতনতাও সড়কপথে নানা ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এসব ক্ষেত্রে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সড়ক দুর্ঘটনা অপ্রতিরোধযোগ্য কোনো বিষয় নয়। তবে এজন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। সড়কপথের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। এর ফলে সড়কের সিলকোট ও সুরকি উঠে গিয়ে বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে দুর্ঘটনা ত্বরান্বিত করে। এদিকেও কর্তৃপক্ষের নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে চালকদের যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আইন মেনে চলার প্রবণতা সৃষ্টি ও লাইসেন্স প্রদানে রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর আরও সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।
মো. সাজ্জাদ ফারুক
শিক্ষার্থী, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close