¦
একুশে ফেব্রুয়ারি ও বাংলা ভাষা

| প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

হয়তো আমাদের রাষ্ট্রভাষা হয়ে যেত উর্দু। লিখতে, পড়তে, কথা বলতে হতো উর্দুতে। কিন্তু তা হয়নি। বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে কেড়ে নিতে পারেনি বিজাতীয়রা। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষাকে রক্ষা করে পৃথিবীতে প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাঙালিরাই। বাংলা ভাষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। যে ভাষাকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছেন, জীবন দিয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে, সে ভাষার গুরুত্ব কি বাঙালি বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম সঠিকভাবে দিতে পারছে? তারা কি ভাষাকে নির্ভুলভাবে ব্যবহার করছে? অথবা তারা কি সঠিক নির্দেশনা পাচ্ছে আগের প্রজন্মের কাছ থেকে? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে চাইলে কয়েকটি ক্ষেত্রে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
প্রথমে গণমাধ্যমের দিকে তাকানো যাক। বর্তমানে এফএম রেডিও প্রায় সব স্তরের মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। অধিকাংশ রেডিও জকিকে বাংলা-ইংরেজির মিশেলে এক অদ্ভুত ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। বাংলা উচ্চারণের ত্র“টিও সেখানে লক্ষণীয়। অনেকে ব্যঙ্গ করে একে এফএমিও ভাষাও বলে থাকেন। এ অবস্থা টেলিভিশন চ্যানেলের কিছু কিছু অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সেখানেও অনেককে এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। আবার টেলিভিশন চ্যানেলের স্ক্রলেও অনেক সময় দেখা যায় ভুল বানান। এছাড়া নাটকের সংলাপে প্রমিত বাংলা বলতে গেলে একেবারেই অনুপস্থিত হয়ে যাচ্ছে। সংবাদপত্রে বানান ভুল সেভাবে দেখা যায় না ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ সংবাদপত্রের নিজস্ব বানান রীতি থাকে। ফলে দেখা যায়, একই শব্দের বানান একেক সংবাদপত্রে একেক রকম। অনেক সময় ছোটদের সংবাদপত্র দেখিয়ে পড়া ও বানান শেখানো হয়। এক শব্দের একাধিক বানান রীতি ওদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না এ রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বাঙালি মাত্রই সে বাংলায় কথা বলে। কিন্তু কথা বলার পাশাপাশি বাংলা বানানরীতি, বাক্য গঠন, উচ্চারণ ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানতে হয়। এসব জানানোর গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষকের ওপর। কিন্তু আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের অবস্থা দেখে মনে হয়, এ দায়িত্বটি শুধুই যেন বাংলা শিক্ষকের। অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের ভাষা ব্যবহারের দিকে আলাদা দৃষ্টি দিচ্ছেন, বানান ভুল লিখলে শুদ্ধ করে দিচ্ছেন- এ রকমটা দেখাই যায় না। বাংলা একাডেমি সীমিত পরিসরে বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও গ্রন্থ প্রণয়নে কিছুটা ভূমিকা রাখছে। তবে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে যে খুব আন্তরিক, তেমনটি বলার উপায় নেই। বাংলা ভাষার উন্নয়নে এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে সবাই আন্তরিক না হলে আমরা আমাদের আত্মপরিচয় হারাব- এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
শাহলা শাহনাজ দ্যুতি শিক্ষার্থী, জাবি, সাভার, ঢাকা
[email protected]
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close