¦
আতংকের নাম পদদলন

| প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৫

বাংলাদেশে বসবাস। আতংক আমাদের নিত্যসঙ্গী। রাস্তায় গাড়িচাপা বা মাথায় ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার আতংক, বাসে আগুন-পেট্রলবোমা-সাইকেলবোমা আতংক, ট্রেনে নাশকতার আতংক, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চের যাত্রী হয়ে সলিল সমাধির আতংক, বাসা-মার্কেট-কর্মস্থলে ভবন ধস আতংক, পুলিশি গ্রেফতার-হয়রানি-জিজ্ঞাসাবাদ আতংক, গুম-ক্রসফায়ার আতংক, নিরাপত্তার নামে তল্লাশী চালিয়ে হয়রানি আতংক, শিক্ষাঙ্গনে মারপিট আতংক- হরদম কত রকম আতংকের মধ্যে যে আমাদের বসবাস! এর সঙ্গে সর্বশেষ যুক্ত হল পদদলন-আতংক। ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে পুণ্যস্নানে এসে পদপিষ্ট হয়ে ১০ পুণ্যার্থীর নিহত ও অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনাই এ নতুন আতংকের কারণ। একইদিন ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নানে নেমে ডুবে মারা যায় ৮ম শ্রেণীর ছাত্র অন্তরচন্দ্র দাস। একই পুণ্যস্নানে গত বছর কর্ণফুলী নদীতে মারা যায় চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারের রাজীব ঘোষ নামে এক যুবক। এমনি এক পুণ্যস্নানে ২০০৫ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশে নর্মদা নদীতে ৫৮ জন ডুবে মারা যায়। আর পদদলিত হয়ে ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট একই প্রদেশের সাতনা জেলার চিত্রকুটের কামতানাথ মন্দিরে ১০ জন, ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর ওই প্রদেশের রতনগড় মন্দিরে ৩০ শিশুসহ অন্তত ১১৫ জন, ২০০৬ সালে ওই মন্দিরে ৫০ জন, ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কুম্ভমেলা উৎসব থেকে বাড়ি ফেরার পথে ২২ জন এবং ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর পাটনায় দুসেরা (রাবণ দহন বা রাবণ বধ) উৎসবে অন্তত ১৫ জন আহতসহ ৩২ জন পুণ্যার্থী মারা যায়। একইভাবে পদদলনে ২০০৪ সালে বেইজিংয়ে চীনা চন্দ্রবর্ষবরণে ৩৭ জন, ২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর কম্বোডিয়ার বর্ষবরণে ৩৪৯ জন, ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি চীনের ঝিজি শহরে একটি মসজিদে ১৪ জন এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের সাংহাই শহরে ইংরেজি বর্ষবরণে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়।
আগে উৎসব-পার্বণে পদদলনে বিচ্ছিন্নভাবে দুএকটা মৃত্যু হয়তো হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলো মৃত্যূ- এই প্রথম। এ ঘটনার রেশ সুদূরপ্রসারী। এমনিতে রমনা বটমূলে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা বাংলাদেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে একটা কলংকজনক অধ্যায় হয়ে আছে। এরপর মাঝখানে কখনও জঙ্গিগোষ্ঠী, কখনও ২০ দলীয় জোটের আচমকা চোরাগোপ্তা হামলা উৎসবমুখর মানুষের কপালে আনন্দপুরের বদলে আতংকপুরের টিপ পরিয়ে দিয়েছে। লাঙ্গলবন্দে ব্রিজ ভাঙার গুজবপ্রসূত ১০ মৃত্যুর ঘটনা উৎসবাকুল জনমনকে সারাক্ষণ অস্থির ও অরক্ষিত করে রাখবে। আগামীতে জাতিগত বা ধর্মীয় কোনো উৎসব-পার্বণ বা বড় কোনো জনসমাগম হলেই জনমনে নিরাপত্তার সহজাত আতংকের পাশাপাশি সদ্যজাত পদদলন আতংক বেশ ভালো প্রভাব ফেলবে। মানুষ বাসা হতে বের হওয়ার আগে অন্তত দশবার ভাববে।
দিনে দিনে যে হারে আতংক বাড়ছে, তাতে সময় এসেছে, সংবিধানে জীবনের অধিকারের পাশাপাশি স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার।
বিহঙ্গ চৌধুরী, আইনজীবী, ঢাকা জজ আদালত
[email protected]
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close