¦
হরতাল ফ্যাসিজমে পরিণত হয়েছে

| প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৫

হরতাল শব্দটি গুজরাটি। হরিতাল বা সবুজাভ পীতবর্ণ থেকে শব্দটির উদ্ভব। সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির আমলে বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করা হতো কঠোরভাবে। হাটবাজারে হঠাৎ করে হাজির হতেন রাজ-কর্মচারীরা। তারপর বাজারের কেন্দ্রস্থলের একটি কাঠের বেড়া হরিতাল রঙে রঞ্জিত করা হতো, যা দিয়ে বোঝানো হতো এই হাটবাজারের কেনাবেচা এখন বন্ধ। এরপর রাজ-কর্মচারীরা দোকানপাটের মালামালের হিসাব নিতেন। ঠিক করে দিতেন দামদর। তারা যাওয়ার সময় ওই হরিতাল রঙ মুছে দিতেন। তারপর আবার শুরু করা হতো কেনাকাটা। সেই থেকে হাটবাজারে কেনাবেচা বন্ধের জন্য হরতাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে অহিংস আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে হরতালকে বেছে নেন। একাত্তরের মার্চে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়, ওই সময়ও হরতালকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। হরতাল পালনে বোমাবাজি, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর কোনো ঘটনা সে সময় ঘটেনি। কালের বিবর্তনে হরতাল অহিংস চরিত্র হারিয়েছে। এটি এখন ফ্যাসিজমেরই প্রতিকৃতি। নামে ভিন্ন হলেও হরতালের সঙ্গে অবরোধের গুণগত পার্থক্য নেই বললেই চলে।
কিন্তু গত তিন দশক ধরে হরতাল বা অবরোধের নামে ফ্যাসিস্ট কায়দায় জনগণকে তা পালনে বাধ্য করা হচ্ছে। হরতালে কেউ গাড়ি চালালে আগুন দেয়া হচ্ছে। ককটেল ও পেট্রলবোমা ছুড়ে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের মতে, একদিন হরতাল বা অবরোধ পালিত হলে দেশের অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা। তারা হরতাল বন্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এ দাবিতে কার্যত গণইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। কারণ হরতাল শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বনাশ ডেকে আনছে না, জননিরাপত্তাকেও জিম্মি করে ফেলেছে। এটি সাধারণ মানুষের মানবাধিকারও কেড়ে নিচ্ছে নিষ্ঠুরভাবে।
তবে আশার কথা হচ্ছে, বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজধানীসহ চট্টগ্রামকে হরতালের আওতামুক্ত রেখেছে। সাধারণ মানুষ আশা করে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিএনপি প্রায় তিন মাসের লাগাতার অবরোধ ও হরতালের পথ থেকে সরে আসবে। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির দিকে অগ্রসর হবে। গত পৌনে তিন মাসের মধ্যে ২৯ মার্চ রোববার সমগ্র দেশে প্রথমবারের মতো কোনো কর্মদিবসে হরতাল না ডাকার উদারতা দেখিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় এ রাজনৈতিক দলটি।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বিএনপি কোন পথে যাবে। যে যুক্তিতেই বিএনপি হরতাল থেকে বিরত থাকুক না কেন, তা একটি ইতিবাচক ঘটনা। দেশে সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে তাদের এ সংযমী মনোভাব অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। বিরোধী দলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বার্থে সরকারও সমঝোতার দিকে এগিয়ে আসবে- আমরা এমনটিই দেখতে চাই।
গণতন্ত্রের নামে হরতাল-অবরোধের অধিকার জিঁইয়ে রাখা দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেয়ার শামিল। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কর্তব্য পালনের স্বার্থেই সরকারকে হরতাল-অবরোধের চোরাবালি থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আরকে চৌধুরী
সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক, ঢাকা
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close