¦
মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন ও আমাদের নিরাপত্তা

মো. শরীফুর রহমান আদিল | প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৫

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালে অথবা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যে খবরটি প্রায়ই ভেসে আসে তা হল, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু। এ দুর্ঘটনাগুলোর প্রায় ৯২ শতাংশ ঘটে মহাসড়কে। অর্থাৎ একই সড়কে অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন ও কম গতিসম্পন্ন যানবাহনের চলাচলই মূলত এজন্য দায়ী। আমরা কি পৃথিবীর এমন কোনো দেশ দেখাতে পারব, যেখানে একই রাস্তার মধ্যে এত ধরনের গাড়ি রয়েছে! আবুধাবিতে একটা রোড আছে, যেখানে কোনো যানবাহন ১০০ কিলোমিটারের কম গতিতে চালানো যায় না। অথচ আমাদের দেশে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৭৫ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে রওনা দিলে ২-৩ ঘণ্টায় পৌঁছার কথা, সেখানে লাগছে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা। এর কারণ হিসেবে যেসব বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে- তার মধ্যে তিন চাকার রিকশা, অটোরিকশা, নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি। এক জরিপে দেখা গেছে, ঈদের পাঁচ দিন আগ থেকে ঈদের পরের সাত দিনে সবমিলে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর ৭৫ ভাগ মৃত্যুর মূলে রয়েছে মহাসড়কে সদ্য নিষিদ্ধ এসব যানবাহন। সরকার ১ আগস্ট থেকে মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় শুরু হয় বিপত্তি। এসব পরিবহনের মালিক, ড্রাইভার ও হেলপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাংচুর ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সাধারণ দৃষ্টিতে সরকারের আচরণে আমাদের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন জাগতে পারে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে জনগণ কি সুবিধা পাচ্ছে না? অর্থনীতিতে কি তারা অবদান রাখছে না? লাখ লাখ মানুষের কি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না? সরকার কি এসব যানবাহন আমদানির অনুমতি দেয়নি? সরকারকে কি তারা কর দেয়নি? তবে কেন তারা এখন বঞ্চিত হবে? কেনই বা তারা আজ তাদের পরিবার-পরিজন বাঁচানোর জন্য মহাসড়কে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে? সরকার কেন প্রায় সব সিএনজি পাম্প মহাসড়কের পাশে করার অনুমতি দিল? কেনইবা সরকার অপরিকল্পিতভাবে সড়ক তৈরি করে তা মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিল? এসব বিষয় সরকারের অপরিকল্পনা আর অদূরদর্শিতার প্রমাণ দেয় না কি?
মহাসড়কে চলাচল করার অধিকার সবার। সেখানে কেউ পায়ে হেঁটে যাবে, কেউ তিন চাকার যানবাহন চালাবে, আবার কেউ দ্রুতগতিসম্পন্ন দূরপাল্লার বাস চালাবে। সুতরাং তিন ধরনের চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে মহাসড়কে। তবে এটাও মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশে সড়কের আয়তন প্রায় আড়াই লাখ কিলোমিটার আর সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মাত্র ৩ হাজার ৫৭০ কিলোমিটারে। এতে করে তিন চাকার যানবাহনের তেমন ক্ষতির আশংকা নেই। কিন্তু গত ৩-৪ দিন শ্রমিকদের মনোভাব আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। এ অবস্থায় আমাদের আশংকা- সরকারের এ মহৎ পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে না তো? সরকারের এ পরিকল্পনা সফল করার জন্য নিুোক্ত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
১. সড়ক-মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল ট্রাফিক কন্ট্রোলিং ব্যবস্থা করা।
২. সরকারের এ নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো অঞ্চলে মহাসড়কের সঙ্গে ইউনিয়ন বা জেলার সড়ক সংযোগ রয়েছে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার, আবার কোনো অঞ্চলে ৫০ কিলোমিটার। সুতরাং একই নিয়ম সর্বত্র প্রয়োগ না করে স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করে আইনটিকে বাস্তবায়ন করা যায়।
৩. বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। সড়ক পথকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়ার ফলে নদীপথ ও রেলপথ আজ চরমভাবে অবহেলিত। বাকি দুটি যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সমান গুরুত্ব দেয়া হলে এ ধরনের সংকট সৃষ্টি হতো না।
৪. মানুষকে সচেতন করতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে, বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে হবে।
৫. সবচেয়ে ভালো উপায়- চার লেনের পাশাপাশি আরও একটি লেন করা, যাতে সেখান দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করতে পারে।
৬. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে এ ধরনের যানবাহনগুলোকে মহাসড়কে উঠতে না হয়।
৭. এ ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের কিছু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
৮. সার্ভিস লেন, কান্ট্রি লেন ও রিকভারি লেন প্রভৃতির ব্যবস্থা রেখে সড়ক পরিকল্পনা করা।
৯. সিএনজি স্টেশনগুলো এমন জায়গায় স্থাপন করা, যাতে অটোরিকশা এবং বাস উভয়ের যাতায়াতে কোনো সমস্যা না হয়।
১০. গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো এবং এর মান বৃদ্ধি করা।
১১. মহাসড়কে তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন চলাচলের বিকল্প রাস্তা তৈরির আগ পর্যন্ত মানবিক বিবেচনায় অসুস্থ রোগী বহন করার জন্য চলাচলের অনুমতি দেয়া।
১২. হঠাৎ করে সর্বত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে পর্যায়ক্রমে এ আইন বাস্তবায়ন করলে সুফল পাওয়া যাবে। মহাসড়কে নিরাপদে চলাচলের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা করা উচিত।
প্রভাষক, যুক্তিবিদ্যা বিভাগ
আমিরাবাদ বিসি লাহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ
নবাবপুর, সোনাগাজী, ফেনী
[email protected]
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close