jugantor
সাবধান !

  এস এম আশিক ইকবাল  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

সার কৃষি উৎপাদনের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাটিতে প্রায় ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন। পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এসব পুষ্টি উপাদানকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. মুখ্য পুষ্টি উপাদান, ২. গৌণ পুষ্টি উপাদান।

দস্তা বা জিংক সার ফসলের একটি গৌণ পুষ্টি উপাদান। বাংলাদেশের মাটিতে দস্তার ঘাটতি খুব বেশি নয়। দেশীয় কাঁচামালের অপ্রতুলতা এবং স্ট্রেট সারের (ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ইত্যাদি) কারণে চাহিদা কম থাকায় দেশে সরকারিভাবে এ সারের বড় ধরনের কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এ সারের প্রতি কেজির বাজার মূল্য ১৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে, যা অন্য যে কোনো সারের দাম থেকে অনেকগুণ বেশি। এ অবস্থায় বেশি মুনাফা লাভের আশায় সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত এবং বেনামি অনেক প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ভেজাল জিংক সালফেট (হেপ্টা এবং মনো) সার তৈরি করছে, যেখানে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মাটি, সাদা রং, জিপসাম, ডলোমাইট পাউডার এবং ভাঙা সিরামিকের গুঁড়া। বাজারজাত করার জন্য চটকদার বিজ্ঞাপন এবং ফুল-ফল-ফসলের ছবিয্ক্তু আকর্ষণীয় প্যাকেট বেছে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাজারে জিংক সালফেট মনো সারকে গুঁড়া করে ‘চিলেচেড জিংক সার’ বলে বিক্রয় করা হচ্ছে। চিলেচেড জিংক সার সালফারমুক্ত ও সহজে দ্রবনীয়। তাই স্প্রে করলে পাতার স্টোমাটা (পাতার ছোট ছিদ্র) দিয়ে গাছ দ্রুত এবং সহজে গ্রহণ করতে পারে। এজন্য চিলেচেড জিংক সারের দাম জিংক সালফেটের তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি। এ কারণে এ সারে ব্যাপক হারে ভেজাল পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিম্নমানের ভেজাল দস্তা সারগুলো কিনে উচ্চমূল্যে কিনে আমাদের কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এর ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে। কাজেই সরকারের উচিত- সারের গুণগতমান নির্ধারণের পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (বিসিএস কৃষি), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট, কৃষি মন্ত্রণালয়

ashik303@gmail.com



সাবমিট

সাবধান !

 এস এম আশিক ইকবাল 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
সার কৃষি উৎপাদনের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাটিতে প্রায় ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন। পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এসব পুষ্টি উপাদানকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. মুখ্য পুষ্টি উপাদান, ২. গৌণ পুষ্টি উপাদান।

দস্তা বা জিংক সার ফসলের একটি গৌণ পুষ্টি উপাদান। বাংলাদেশের মাটিতে দস্তার ঘাটতি খুব বেশি নয়। দেশীয় কাঁচামালের অপ্রতুলতা এবং স্ট্রেট সারের (ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ইত্যাদি) কারণে চাহিদা কম থাকায় দেশে সরকারিভাবে এ সারের বড় ধরনের কোনো কারখানা গড়ে ওঠেনি। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় এ সারের প্রতি কেজির বাজার মূল্য ১৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে, যা অন্য যে কোনো সারের দাম থেকে অনেকগুণ বেশি। এ অবস্থায় বেশি মুনাফা লাভের আশায় সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত এবং বেনামি অনেক প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ভেজাল জিংক সালফেট (হেপ্টা এবং মনো) সার তৈরি করছে, যেখানে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মাটি, সাদা রং, জিপসাম, ডলোমাইট পাউডার এবং ভাঙা সিরামিকের গুঁড়া। বাজারজাত করার জন্য চটকদার বিজ্ঞাপন এবং ফুল-ফল-ফসলের ছবিয্ক্তু আকর্ষণীয় প্যাকেট বেছে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাজারে জিংক সালফেট মনো সারকে গুঁড়া করে ‘চিলেচেড জিংক সার’ বলে বিক্রয় করা হচ্ছে। চিলেচেড জিংক সার সালফারমুক্ত ও সহজে দ্রবনীয়। তাই স্প্রে করলে পাতার স্টোমাটা (পাতার ছোট ছিদ্র) দিয়ে গাছ দ্রুত এবং সহজে গ্রহণ করতে পারে। এজন্য চিলেচেড জিংক সারের দাম জিংক সালফেটের তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি। এ কারণে এ সারে ব্যাপক হারে ভেজাল পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিম্নমানের ভেজাল দস্তা সারগুলো কিনে উচ্চমূল্যে কিনে আমাদের কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এর ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে। কাজেই সরকারের উচিত- সারের গুণগতমান নির্ধারণের পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (বিসিএস কৃষি), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট, কৃষি মন্ত্রণালয়

ashik303@gmail.com



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র