¦
এরপর বুঝতে বাকি থাকে না আইএস কাদের সৃষ্টি

মো. শরীফুর রহমান আদিল | প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৫

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আতংকের নাম আইএস। মুক্তিপণ আদায়, শিরশ্ছেদ করে ভিডিও প্রকাশ, নারী পাচার ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত কথিত এ ইসলামী জঙ্গি সংগঠনটিকে নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ এসব কাজের কোনোটিই ইসলাম সমর্থন করে না। তাহলে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক- কেন তারা ইসলামিক নাম ধারণ করেছে? কী তাদের মূল উদ্দেশ্য? অর্থ ও অস্ত্রের জোগানই বা আসে কোত্থেকে? আরেক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা গোপন স্থান থেকে মাঝে মধ্যে তাদের খবরাখবর উপস্থাপন করলেও ইসলামের নামে ইহুদি এ সংগঠনটি প্রতিনিয়ত তাদের বীভৎস কর্মকাণ্ডের খবরাখবর পৃথিবীর শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে অবলীলায় উপস্থাপন করে যাচ্ছে! আর এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো। এ ধরনের প্রচার কার্যক্রম আর মার্কিন জোটের বারবার পরিচালিত আইএসের বিরুদ্ধে পরিচালিত নিষ্ফল আক্রমণ বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়। এগুলোর মধ্যে প্রথম প্রশ্ন হল, আইএস কাদের সৃষ্টি?
এ ব্যাপারে বলা হচ্ছে, আইএস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সৃষ্টি। আর এটাকে পরোক্ষভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রো স্পষ্ট করেই বলেছেন, আইএসের উত্থানের পেছনে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দায়ী। আবার গত কয়েকদিনে আমেরিকান ফ্রি প্রেসে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তাতে আইএসকে মোসাদের সৃষ্টি বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফ্রি প্রেসের ভাষ্য মতে, আইএসের খলিফার দাবিদার বোগদাদিকে দীর্ঘ সময় ধরে মোসাদের তত্ত্বাবধানে যাবতীয় সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
ইরাক কিংবা আফগানিস্তানে ইঙ্গ-মার্কিন হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, এসব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা এবং শাসন ক্ষমতায় পুতুল সরকার বসিয়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন, সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি শক্তি আরও বৃদ্ধি করা। কিন্তু পুতুল সরকার বসিয়েও ইঙ্গ-মার্কিন যখন তাদের সব এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদ পুরোপুরি গ্রাস করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে ভিক্ষুকে পরিণত করতে পারেনি, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ অস্ত্র-অর্থ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহযোগে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সম্পদশালী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আইএসকে সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, আইএস যে ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, তা ইসরাইল ফিলিস্তিন যুদ্ধে এবং আমেরিকা আফগান যুদ্ধে ব্যবহার করেছে। অন্যান্য যেসব অস্ত্র আইএসের হাতে রয়েছে, তা কেবল আমেরিকা কিংবা ইসরাইলের কাছেই রয়েছে। সুতরাং এ থেকে বোঝা যায়, আইএস আমেরিকার ও ইসরাইলের সৃষ্টি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তা আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের ২১ পৃষ্ঠার চিঠিতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাকে হত্যার পর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের বাসভবনে এ চিঠিটি পাওয়া যায়। চিঠিতে তিনি আইএস ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ব্যাপারে আল কায়দাকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
আইএসের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, তেল সম্পদ আত্মসাৎ করে আরব বিশ্বকে ভিক্ষুকে পরিণত করা। এই উদ্দেশ্য নিয়েই আইএস এগিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা সফল হতে ইরাক ও সিরিয়ার যেসব অঞ্চলে তেলকূপ ও শোধনাগার রয়েছে, সেসব অঞ্চল দখল করে সেখানকার তেল মিত্রদের কাছে বিক্রি করছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইএস সিরিয়া ও ইরাকের মোট ১৪টি তেলকূপ ও শোধনাগার দখল করেছে। দখল করা এসব তেলকূপ থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হয় ৫২ হাজার ব্যারেল তেল। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি হলেও এসব তেল তারা বিক্রি করছে মাত্র ২৫-৫০ ডলারে! তারপরও তেল বিক্রি থেকে আইএসের দৈনিক আয় প্রায় তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে প্রাপ্ত সাহায্যের পরিমাণ অন্তত ১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া নারী পাচার ও ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিক্রি করে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। এসব অর্থ দিয়ে সাধারণ মানুষকে লোভে ফেলে দলে টানে আইএস। সম্প্রতি প্যারিস হামলার সঙ্গে জড়িত তিনজনের একজন আর্থিক লোভে আইএসে যোগদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
এ বছরের অক্টোবরের শুরুর দিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আইএস দমনে সিরিয়ায় ১৩০ বারেরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আইএসের লক্ষ্যবস্তুতেই তারা আঘাত করতে পারেনি। যে উদ্দেশ্যে অর্থাৎ আইএসকে দুর্বল করার জন্য হামলা চালানো হলেও বরং এ থেকে আইএস শক্তিশালী হয়েছে। তারা আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে পারেনি মানে হামলা করেনি। অন্যদিকে রাশিয়া নেতৃত্বাধীন জোট মাত্র ২-৩টি হামলায় আইএসের লক্ষ্যবস্তু ও তাদের ঘাঁটিতে হামলা করতে সমর্থ হয়। এ থেকে কি প্রমাণ হয় না, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আতংক সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন আইএস আমেরিকার সৃষ্টি?
আইএস দমনে রাশিয়া বারবার স্থল অভিযান চালানোর আহ্বান জানালেও তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সায় দেয়নি। এমন কী গত ১৮ অক্টোবর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আবার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিলে তাতেও তিনি রাজি হননি! কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য আইএস দমন নয়, বরং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে নিঃশেষ করা। একইসঙ্গে সমগ্র সিরিয়ার অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে পরনির্ভরশীল বানানো।
এসব বিশ্লেষণ থেকে মার্কিন-আইএসের নিগূঢ় সম্পর্ক স্পষ্ট হলেও বর্তমানে ফ্রান্স আইএসবিরোধী জোট গঠনের যে আহ্বান জানাচ্ছে, মুসলিম ও মানবতাবাদী দেশগুলোর তাতে সাড়া দেয়া উচিত।
শিক্ষক
[email protected]
দৃষ্টিপাত পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close