¦
বিক্রি চলছে ভিটামিন ‘এ’ বিহীন ভোজ্যতেল

বাহাউদ্দিন | প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫

ভিটামিন ‘এ’ বিহীন ভোজ্যতেল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়ার সময় বেঁধে দেয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে তা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের এ নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না। খুচরা বাজার থেকে আমদানি করা পর্যন্ত ভোজ্যতেলের অধিকাংশই ভিটামিন ‘এ’ বিহীন রয়েছে। তবে বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, ভিটামিন ‘এ’ বিহীন ভোজ্যতেল বিক্রি, মজুদ ও রিফাইনারির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর বাজার থেকে ভিটামিন ‘এ’ বিহীন ভোজ্যতেল তুলে নিতে ব্যবসায়ীদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। নির্ধারিত সময়ের পর ভিটামিন ‘এ’ বিহীন ভোজ্যতেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া হয়। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভিটামিন ‘এ’ বিহীন ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে আগের মতো। খোলা বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত তেলেও নেই ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ নির্দিষ্ট লোগো, যা দেখে ক্রেতারা বুঝতে পারবেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এখনও বাজারে আসেনি তবে কোম্পানির কাছে মজুদ আছে সেগুলো রিফাইনারি করা সম্ভব। তবে বাজারে চলে আসা ভোজ্যতেল তুলে নিয়ে রিফাইনার করা কঠিন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআই উপ-পরিচালক সেলিম রেজা যুগান্তরকে বলেন, আমরা তদারকির কাজ করছি। ইতিমধ্যে তিনটি কোম্পানিকে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল বিক্রির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কোম্পানি বিএসটিআইয়ের পরীক্ষাগারে ভোজ্যতেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফল পেলে লাইসেন্সসহ ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেলের নির্দিষ্ট বোতলের গায়ে ব্যবহার করতে পারবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান তিনটি হল সুনসিন এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড ও সয়াবিন তেলের ব্রান্ড পুষ্টি। তিনি আরও বলেন, বাজার থেকে এক সঙ্গে সব তেল উঠিয়ে নেয়া যাবে না। এতে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ তেল বাজারে আসবে এবং ভিটামিন ‘এ’ বিহীন তেল তুলে নিতে হবে।
জানা গেছে, জাতিসংঘের গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) এবং ইউনিসেফের সহায়তায় বিশ্বব্যাপী দরিদ্র জনগণের পুষ্টিমান উন্নয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও এটি গ্রহণ করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেলের জোগান নিশ্চিত করতে ‘ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন-২০১৩’ পাস করেছে। কিন্তু কোনো কোনো রিফাইনারি মালিক আইনটির বিরোধিতা করে আদালতে রিট করেছিলেন। যেহেতু এটি আদালতে বিচারাধীন ছিল ফলে মাঝখানে আমাদের কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তবে জনস্বার্থে আদালত এ রিট খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে কোম্পানিগুলো বাধ্যতামূলক ভোজ্যতেলের সঙ্গে ভিটামিন এ মেশাতে হবে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২২টি রিফাইনারির মধ্যে ১৬টি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তাদের ১৮ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ভিটামিন ‘এ’ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তেলের সঙ্গে ভোজ্যতেল মেশানোর যন্ত্রও দেয়া হয়েছে।
সঠিক মানের সয়াবিন তেল নির্ণয় করতে এর রং, এসিড ও আয়োডিন ভ্যালু, রেজিস্টিভ ইনডেক্স ও মেল্টিং পয়েন্ট পরীক্ষা করা হয়। যেসব তেল সঠিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরিশোধন করা হয়, সেগুলোয় এসিড ভ্যালু কম থাকে। সেগুলো পরিশোধন ছাড়াই বা স্বল্প পরিশোধনে বাজারজাত করা।
বর্তমানে দেশে প্রতি বছর ১৮-২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ চাহিদার বিপরীতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২-৪ লাখ টন। ফলে চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, ভোজ্যতেলের ৬০-৭০ শতাংশই খোলা বা লুজ আকারে বিক্রি হয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা ভোজ্যতেল পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ ও খাওয়ার উপযোগী করতে হয়। কিন্তু বেশ কিছু কোম্পানি খরচ বাঁচাতে সঠিকভাবে তেল পরিশোধন করছে না। সে জন্য যারা আমদানিকারক তাদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সরকার থেকে ভিটামিন ‘এ’ ও যন্ত্র দেয়া হয়েছে। নিজেরা ভিটামিন ‘এ’ কিনলেও প্রতি লিটার ভোজ্যতেলে ২০ পয়সা খরচ হবে। ফলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল বিক্রি না করার কোনো কারণ নেই ব্যবসায়ীদের। এই অংশটি বাদ দিয়ে কেবল বোতলজাত ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করলে কোনো কাজ হবে না।
এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য ইনন্সটিটিউট (আইপিএইচ) পরিচালিত ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে (এনএফএসএল) পরীক্ষায় ভোজ্যতেলে ভেজালের বিষয়টি ধরা পড়েছে। গবেষণা সূত্র বলছে, দেশে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলের ৫০ থেকে ৮৭ শতাংশই ভেজাল। এসব ভোজ্যতেলে ফ্রি ফ্যাটি এসিডের (অলিক এসিড) মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। পাশাপাশি তেলের গুণগতমানও বেশ নিচু।
আইপিএইচ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মাথাপিছু দৈনিক প্রাপ্ত ক্যালরির মাত্র ৯ শতাংশের উৎস হচ্ছে ভোজ্যতেল। আর মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিডেরও উৎস হতে পারে ভোজ্যতেল। কিন্তু অতিমাত্রায় ভেজালের কারণে কাক্সিক্ষত মাত্রায় মিলছে না এসব উপাদান। বরং হিতের বিপরীত হচ্ছে, বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ মানহীন তেলে স্বল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 

অর্থনীতি পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close