¦

এইমাত্র পাওয়া

  • ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেসে পেট্রল বোমা হামলা, দগ্ধ ১ || গাজীপুর চৌরাস্তায় বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ড. একেএম শাহনাওয়াজ | প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৫

১২৪
আঠারো শতকের প্রথম দিকে দিল্লির মোগল সম্রাটদের যখন ক্ষয়িষ্ণু দশা, তখন দরবারে আশ্রিত শিল্পীদের অনেকেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েন। তাদের প্রধান আগমন কেন্দ্র ছিল পাটনা, অযোধ্যা ও মুর্শিদাবাদ। এসব অঞ্চলের শাসনকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মোগল চিত্রশিল্পের ঘরানায় নতুন শিল্প সৃষ্টি হতে থাকে। এই ধারা প্রাদেশিক মোগল শৈলী হিসেবে পরিচিতি পায়। পলাশীর পর মুর্শিদাবাদের শিল্পীরা ইংরেজদের অনুগ্রহ নিয়ে কলকাতায় তাদের শিল্প সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, এ পর্যায়ে পাটনা ও অযোধ্যা থেকেও শিল্পীরা এসে কেন্দ্রীভূত হন কলকাতায়। এভাবে ইংরেজদের প্রয়োজনে, প্রভাবে ও নির্দেশনায় চিত্রকলার ক্ষেত্রে নতুন শৈলীর জন্ম হয়। এ শৈলী পরিচিতি পায় কোম্পানি শিল্প নামে। এ ধারার খ্যাতিমান শিল্পীরা হলেন শেখ জয়েনউদ্দিন, পীরবক্স, শেখ মুহম্মদ আমির প্রমুখ। কালীঘাটের পটচিত্রের কথা আগে বলা হয়েছে। এই চিত্রের গৌরবের কাল হিসেবে চিহ্নিত কোম্পানির শাসনপর্ব। এ সময় চিত্রকলার ক্ষেত্রে একটি নবযুগের সৃষ্টি হয়। এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে পারস্যের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল দশ শতক থেকে। এরই সূত্র ধরে পারসীয় চিত্রকলা ভারতীয়দের প্রভাবিত করতে থাকে। তেরো শতক থেকে পনেরো শতকের মধ্যে চমৎকার জলরং ও ড্রইং চিত্রের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপিগুলো চিত্রিত হতে থাকে। এ ধারা ক্রমে ভারত হয়ে বাংলাকে প্রভাবিত করে।
বাংলার মুসলিম শাসকদের প্রায় সবাই চিত্রশিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তারা পিতৃভূমির পূর্বসূরিদের কাছ থেকে এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। বাগদাদ বা দামেস্কের খলিফা, স্পেনের সুলতান, পারস্যের শাহ বা দিল্লির সম্রাট থেকে শুরু করে বাংলার নবাবরা চিত্রশিল্পের সমঝদার ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
ভারতে সত্যিকার অর্থে মিনিয়েচার চিত্রকলার যাত্রা শুরু হয় মোগল সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায়। মোগল সুবাদার ও শাসনকর্তার মধ্য দিয়ে তা বাংলার চিত্রকলাকেও প্রভাবিত করে। ষোল শতক থেকে আঠারো শতকের মধ্যে ভারতে মিনিয়েচার চিত্রকলা উৎকর্ষের চূড়ান্তে পৌঁছে। চিত্রকলার এ ধারা সাধারণভাবে মোগল চিত্রকলা রূপে পরিচিতি পায়। ক্ষুদ্রাকৃতি চিত্র হিসেবে পরিচিত মিনিয়েচার চিত্র সাধারণত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি চিত্রিত করা বা কাহিনী চিত্র অংকনে ব্যবহার করা হতো মোগল যুগে, বিশেষ করে আঠারো শতকের শেষ দিকে। ইংরেজ শাসন বাংলার স্থিতিশীল গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় ভাঙন ধরিয়েছিল। গ্রামের মাটিতে স্বশিক্ষিত যেসব পটুয়ার জন্ম হয়েছিল, এ অস্থিতিশীল সময়ে তাদের পেশায় আঘাত আসে। পটুয়ারা চলে আসেন কলকাতায়। তাদের অধিকাংশই অবস্থান নেন কালীঘাট মন্দিরের আশপাশে। এভাবে পটুয়াদের পরিচর্যায় মন্দির ঘিরে যে শিল্পশৈলী গড়ে ওঠে, তা কালে কালীঘাটের পটচিত্র নামে পরিচিতি পায়। প্রথমদিকে পটুয়াদের চিত্রের বিষয়বস্তু ছিল দেবমূর্তি। ক্রমে ইংরেজ সাহেব ও কলকাতার বাবুদের জীবনের খণ্ডচিত্রও এতে জায়গা করে নেয়।
উনিশ শতকে বাংলার চিত্রকলায় একটি পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। এ সময় পাশ্চাত্যের বাস্তবানুগ রিয়েলস্টিক চিত্র অংকনের ধারা প্রভাবিত করে বাঙালি চিত্রশিল্পীদের। এ ধারায় ছবি অংকনে দক্ষতা দেখান অন্নদাপ্রসাদ বাগচী ও শ্যামচরণ শ্রীমানি। তেলরঙে ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনী চিত্রিত করায় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন শিল্পী বামাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পশ্চিমা বাস্তবানুগ চিত্রশৈলীর ধারাতেই বিশ শতকে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন শিল্পী যামিনী প্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার, দেবীপ্রসাদ রায় চৌধুরী, অতুল বসু প্রমুখ শিল্পী।
বিশ শতকের শুরুতে অবনীন্দ্রনাথের প্রচেষ্টায় বাংলার চিত্রকলায় নতুন ঘরানার সৃষ্টি হয়। তার আর্ট স্কুল জন্ম দেয় নন্দলাল বসু, সুরেন্দ্রনাথ কর, শৈলেন্দ্রনাথ দে, সমরেন্দ্রনাথ গুপ্ত প্রমুখ প্রথিতযশা শিল্পীর। চিত্রকলার এই নতুন ঘরানা নব্যবঙ্গীয় শৈলী নামে পরিচিত হয়। ভারতের আধুনিক শিল্পশৈলীর এটিই প্রথম চিহ্নিত ধারা।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close