¦
উপর্যুপরি হরতাল-অবরোধ

| প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচিতে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০ দলীয় জোট আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতালের সময় বৃদ্ধি করায় গতকালের নির্ধারিত পরীক্ষা শনিবার গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী তৃতীয় পরীক্ষাটি আগামী রোববার নেয়ার কথা। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ ফেব্র“য়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কবলে পড়ায় তা পিছিয়ে শুক্রবারে নির্ধারণ করা হয়। এদিকে বিএনপি ও ছাত্রদল বুধবার থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত খুলনা বিভাগের নয় জেলায় হরতাল ডেকেছে। এর ফলে যশোর বোর্ডের অধীনে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এসএসসিসহ অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষা দেশে-বিদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে যশোর বোর্ডে ছন্দপতন ঘটলে তার বিপরীতে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে- সে বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। তবে এর ফলে ছুটির দিনেও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
হরতালের কারণে পূর্বনির্ধারিত রুটিন তছনছ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের টানা পরীক্ষা দিতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পরপর পরীক্ষায় অংশ নিলে পরীক্ষার মান খারাপ হওয়ার আশংকা থাকে। এ পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এইচএসসিতে ভর্তির বিষয়টিও এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকরা মনে করছেন, এভাবে ছুটির দিনে পরীক্ষা না নিয়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো ঘোষিত রুটিনের পর নতুন করে নেয়া হোক। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হলেও বিরোধী পক্ষের ডাকা হরতাল-অবরোধ তাতে বাদ সেধেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিহার করা উচিত।
উপর্যুপরি হরতাল-অবরোধ পরীক্ষা পরিচালনায়ই বিঘ্ন ঘটছে না, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনও অনিরাপদ করে তুলেছে। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি পেট্রলবোমায় দগ্ধ হচ্ছে নিরীহ মানুষ। শুধু তাই নয়, চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি দেশের পরিবহন, পর্যটন, কৃষি, শিল্প, বীমাসহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প তথা অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, যা মোটেই কাম্য নয়। রাজনীতির সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। কাজেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতায় আসার কোনো বিকল্প নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা শুধু পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরই নয়, সমগ্র দেশবাসীর। রাজনৈতিক অস্থিরতা একদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন গ্রাস করছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদহানি ঘটছে। সন্দেহ নেই, এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। আরও ক্ষতি এড়াতে হলে অবিলম্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়া উচিত।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close