¦
সংকট নিরসনের উদ্যোগ

| প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা সোমবার দেশের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে পৃথক পৃথক চিঠি দিয়েছেন। এসব চিঠিতে তিনি তিনজনকেই চলমান সংকট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে লেখা চিঠিতে তিনি তাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভিভাবক হিসেবে সংলাপের শুভ উদ্যোগ গ্রহণে বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি প্রায় একই অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে লেখা চিঠিতে তিনি তাকে সংলাপের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংলাপ অনুষ্ঠানে সহায়তা করার আবেদন জানিয়েছেন।
বস্তুত মাসাধিককাল থেকে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা চরম নৈরাজ্যকর। এ নৈরাজ্যে প্রায় প্রতিদিন আগুনে দগ্ধ হয়ে পুড়ছে মানুষ, তাদের কেউ কেউ ঢলে পড়ছেন মৃত্যুর কোলে। শুধু তা-ই নয়, দেশ বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মানুষ এক ধরনের অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে। দূরপাল্লার যাত্রা অতি সীমিত হয়ে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য সরবরাহে বিঘœ ঘটায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে। শিক্ষাক্ষেত্র স্থবির হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া মানুষ নিপতিত হয়েছে মহাদুর্বিপাকে। গ্রামীণ কৃষক সমাজের জীবন শোচনীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তি চাচ্ছে দেশের প্রত্যেক নাগরিক। অথচ তাদের কাক্সিক্ষত মুক্তি দিতে এগিয়ে আসছে না রাজনৈতিক নেতৃত্ব। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, অবরোধ ও হরতাল পালনকারীরা টার্গেট করছে নিরপরাধ মানুষ। তাদের ওপরই নিক্ষিপ্ত হচ্ছে পেট্রলবোমা। অথচ এই নিরীহ মানুষেরা রাজনৈতিক বিবাদের কোনো পক্ষ নয়। আমাদের প্রশ্ন, ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্বের বলি হতে যাবে কেন অরাজনৈতিক নাগরিক সম্প্রদায়? বস্তুত বিবদমান দুই পক্ষই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা যত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যাবে, দেশ ততই জানমালের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
তবে দেশে সহিংসতা-নাশকতা অব্যাহত থাকায় সংকট নিরসনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চিঠি কতটা ফলদায়ক হবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নাগরিক সমাজের প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে নাশকতাকারীদের আড়াল করে তাদের সঙ্গে সরকারকে এক কাতারে দাঁড় করানো হচ্ছে। সংলাপে বসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ দরকার নিশ্চয়ই। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়ার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রয়োজন রয়েছে নাশকতার অবসান ঘটানোরও। সে বিবেচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে লেখা চিঠিতে সংলাপের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির যে অনুরোধ করা হয়েছে, তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থাৎ তাকে অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারপূর্বক নাশকতা বন্ধ হতে পারে এমন উদ্যোগ নিতে হবে। তেমনি সংলাপের উদ্যোগটি আসতে হবে সরকারের পক্ষ থেকেই। কিন্তু উভয় পক্ষ যদি যার যার অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে দেশে শান্তি আসবে কীভাবে? চলমান পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত সব পক্ষের কাছ থেকেই।
 

সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close