¦
ওসমানী হাসপাতালে ৩২ মৃত্যু

| প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

দেশে চলমান সহিংসতার মাঝে সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ৩২ জনের মৃত্যুর সংবাদে আঁতকে উঠেছে মানুষ। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। একটি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা প্রত্যাশী ৩২ জন রোগীর মৃত্যু অবশ্যই অনাকাক্সিক্ষত। এটা চিকিৎসক সমাজও মনে করে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, কিংবা হাসপাতালে স্থানাভাবের কারণে সংক্রমণজনিত রোগেও তারা মৃত্যুর শিকার হতে পারেন বলে যে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হোক। সুষ্ঠু তদন্তে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হবে এবং দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে কারও মৃত্যু হয়ে থাকলে দোষীরা শাস্তি পাবেন, এটাই কাম্য।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের সেবা প্রদানের উদাসীনতা, অবহেলা, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অনাদিকালের। আমাদের দেশে যে কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাংচুর চালান, ডাক্তার-নার্সদের ওপর চড়াও হন- এমন উদাহরণ যেমন আছে, তেমনি মানবসেবার মহান পেশায় নিয়োজিত কিছু চিকিৎসক ও সেবিকার উন্নাসিকতা-অবহেলার নজিরও রয়েছে।
বস্তুত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ অনেক। আছে পদে পদে বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার বাস্তবতাও। তা সত্ত্বেও অস্বীকার করার উপায় নেই- শত সীমাবদ্ধতার ভেতরও এদেশের চিকিৎসক, সেবক-সেবিকা, স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করে চলেছেন মানুষকে। ২০-২৫ বছর আগেও ডায়রিয়ার মতো সাধারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যেত। এর সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগেরও প্রকোপ দেখা যেত এবং প্রাণহানি ঘটত উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই। এখন এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যন্ত স্যানিটেশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করছেন। ফলে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু অনেক কমে এসেছে। এতসব ইতিবাচক অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সীমিত সাধ্যের ভেতর আমাদের ডাক্তারদের আন্তরিকতা অবশ্যই প্রশংসার্হ।
শুধু ডাক্তারদের ওপর দোষ চাপানোর আগে মানুষের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও ভাবা প্রয়োজন। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর ইনসেনটিভ কেয়ারে পর্যন্ত আমরা দল বেঁধে ঢুকে পড়ি। সরকারি হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি হলে ওয়ার্ডে আমরা রীতিমতো সংসার পেতে বসি এবং বলাই বাহুল্য, ন্যূনতম যেটুকু স্বাস্থ্যবিধি, সাবধানতা অবলম্বন করে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করা প্রয়োজন, আমরা তারও ধার ধারি না। কাজেই অনেক ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই কি অতি উৎকণ্ঠায় রোগীর ক্ষতির কারণ হচ্ছি না?
শিশুসহ ৩২ জনের মৃত্যুতে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহাপরিচালক তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এ কমিটির তদন্তেই এতজন রোগীর মৃত্যুর সঠিক কারণ বেরিয়ে আসবে। যদি ডাক্তারদের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে এটা ঘটে থাকে তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলে হাসপাতালের মহাপরিচালক প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। মানুষ বিশেষ করে মৃতদের স্বজনরা এ প্রতিশ্র“তির বাস্তবায়ন দেখতে চান।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close