¦
তদন্ত কাজে বাধাগ্রস্ত দুদক

| প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৫

দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে যখন কমিশনে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, তখন সবার মধ্যে একটা আশাবাদ জেগেছিল যে, এবার বুঝি সত্যি সত্যি দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু দুর্নীতি দমন ব্যুরো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) রূপ পাওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতির চালচিত্রে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং বলা চলে, দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। ফলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, একটি স্বাধীন কমিশন কেন কাক্সিক্ষত পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না? প্রচলিত আইনের কয়েকটি ধারা এবং দুদকের একটি আদেশ এর একটি বড় কারণ অবশ্যই। এ দুই কারণে বিশেষত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল দফতর এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দুদকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ ও সাক্ষ্য প্রদানে গড়িমসি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতার কারণে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই দায়সারাগোছের অনুসন্ধান অথবা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বাধ্য হচ্ছেন দুদক কর্মকর্তারা। এতে আদালতে প্রমাণ করা যাচ্ছে না দুর্নীতির অভিযোগ।
প্রচলিত যেসব আইনের কারণে দুদক বিভিন্ন সংস্থা থেকে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পাচ্ছে না, সেগুলো হল ১৮৯১ সালের ব্যাংকার্স এভিডেন্স অ্যাক্ট এবং ১৮৯৮ সালের কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর। এ দুই আইনের কয়েকটি ধারা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রদানে বাধ্য নয়। কথা হচ্ছে, দুদক যদি অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব যথাযথভাবে জানতে না পারে, তাহলে মামলা সাজাবে কীভাবে? দুর্নীতি মানে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত। দুদকের হাতে সেই চিত্রই যদি না থাকে, তাহলে দুর্নীতির তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব নয়, যা বলাই বাহুল্য।
দুদকের কার্যকারিতা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেককে এখন এটাও বলতে শোনা যায়, দুদক অভিযুক্তের শাস্তি নয়, দায়মুক্তি প্রদানের একটি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। দুদকের স্বাধীন সত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে প্রচলিত কোনো আইনের কারণে দুদক যদি সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। সেক্ষেত্রে সেই আইন কিংবা আইনের ধারা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বৈকি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ১৯(১) (ঘ) ধারায় পাবলিক রেকর্ড তলব করার ক্ষমতা রয়েছে দুদকের। কিন্তু এই ক্ষমতা থেকে কী লাভ? অন্যান্য আইনের সঙ্গে দুদক আইন যদি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, তখন জটিলতা সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা মনে করি, দুদকের সুষ্ঠু কার্যকারিতার স্বার্থে দেশের অন্যান্য আইনের যেসব ধারা দুদক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলোর সংশোধন বা পরিমার্জন জরুরি।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close