¦
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ড. একেএম শাহনাওয়াজ | প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০১৫

১৭০
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-১৯২৪) : ভারতবাসীকে সন্তুষ্ট করতে চাইলেও ১৯১৯ সালের সংস্কার আইন ভারতীয়দের সমর্থন আদায় করতে পারেনি। এ পর্যায়ে ব্রিটিশবিরোধী বেশ কয়েকটি আন্দোলনে ব্রিটিশ সরকার দমননীতি চালায়। এটি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে। এ সূত্রেই সংঘটিত হয় খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন। এ দুটি আন্দোলন ছিল প্রথম সর্বভারতীয় গণআন্দোলন। বাংলার জনগণ এসব আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। সাময়িকভাবে হলেও এ দুই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী ঐক্য গড়ে ওঠে।
খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯) : বিশ শতকের প্রথম দুই দশকের মধ্যে ভারত এবং ভারতের বাইরে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মুসলমানরা বিপন্ন বোধ করতে থাকে। এ কারণে তারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পথ খুঁজতে থাকে। বঙ্গভঙ্গ রদের বছরেই তুরস্কের ওপর ইতালি আক্রমণ পরিচালনা করে। আবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্রিটেন অংশ নেয়। বিষয়টি মুসলমানদের ওপর প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশ্বের মুসলমানরা এ সময় তুরস্কের সুলতানকে খলিফা হিসেবে মান্য করত। মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের প্রতীক ছিলেন তুরস্কের খলিফা। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সময় মুসলমানরা ব্রিটিশ সরকারের অনুগত ছিল। যুদ্ধাবস্থায় কংগ্রেসের মতো মুসলমানরাও ব্রিটিশ সরকারকে সাধ্যমতো সাহায্য করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক পরাজিত হলে তুরস্কের ভূখণ্ড ইউরোপীয় শক্তিগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় ১৯২০ সালে সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা এবং তুর্কি খিলাফতের পবিত্রতা রক্ষার জন্য ভারতের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার চিন্তা থেকে খিলাফত আন্দোলনের সূচনা হয়। এ আন্দোলন ‘তুর্কি খিলাফত’ রক্ষার প্রধান বিষয় ছিল বলে এর নাম হয় ‘খিলাফত আন্দোলন’।
খিলাফত আন্দোলনের কার্যক্রম : খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রথম যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হচ্ছেন মওলানা মোহাম্মদ আলী, মওলানা শওকত আলী, ড. এমএ আনসারী প্রমুখ। উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রাদেশিক শাখার বিধানসহ মুম্বাই শহরে একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি গঠন করা হয়। ১৯২০ সালে খিলাফত ইস্তেহার ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি তুরস্কের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সহায়তা দান এবং দেশে খিলাফত আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য একটি তহবিল গঠন করে।
এদিকে ১৯১৯ সালের ১৭ অক্টোবর খিলাফত দিবস পালন করা হয়। খিলাফত আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলো ছিল- ১. তুরস্কের খলিফার পদ সমুন্নত রাখতে হবে; ২. খলিফার সাম্রাজ্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে; ৩. মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো খলিফার তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে; ৪. আরব দেশে খলিফার সাম্রাজ্যের অন্তর্গত অঞ্চলগুলো সব সময় তুরস্কের শাসনের অধীনে রাখতে হবে।
মহাত্মা গান্ধী খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন এবং কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটির সদস্য হয়েছিলেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত খিলাফত সম্মেলনে ব্রিটিশ সরকারের দেয়া খেতাব ও চাকরি বর্জন এবং প্রয়োজনে খাজনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। খিলাফত আন্দোলনের প্রতি গান্ধীর সমর্থনের বিনিময়ে মুসলমান নেতৃবৃন্দ গান্ধীর অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। এভাবে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে গান্ধী খিলাফত আন্দোলন বন্ধ করে দিলেও খিলাফত আন্দোলন নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে। ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্ক থেকে খিলাফতের ধারণা উঠিয়ে দেন। তার বদলে সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। খিলাফত কার্যকর না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এ আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে।
 

সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close