¦
আলবদর কমান্ডারের ফাঁসি

| প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

অবশেষে অনেক জল্পনা-কল্পনা-সন্দেহ-সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের অন্যতম জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ডাদেশ শনিবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল শেষ সময় পর্যন্তও। দেশের ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলো শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ভিড় জমায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে। উদ্দেশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করা। কিন্তু ওইদিন রাত ১০টা নাগাদ ক্যামেরা গুটিয়ে তাদের ঘরে ফিরতে হয়। শনিবারও রাত ১০টায় রায় কার্যকর করা হয়েছে বলে কয়েকটি চ্যানেল সংবাদ প্রচার করে। কিন্তু বাস্তবত, রায় কার্যকর অর্থাৎ ফাঁসিতে তাকে ঝোলানো হয় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এবং বলা চলে সব সংশয়ের অবসান ঘটে এ সময়। এর আগে রায় কার্যকর করা নিয়ে এমন সংশয়, দোলাচল সৃষ্টি হয়েছিল প্রথম ফাঁসির দণ্ডাদেশে মৃত্যু ঘটা আরেক যুদ্ধাপরাধী মিরপুরের কসাইখ্যাত কাদের মোল্লার ক্ষেত্রেও।
১৯৭১ সালে দেশের বিরুদ্ধে, দেশের জনসাধারণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীরূপে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিকাণ্ডে সহায়তাকারী, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামান জামালপুরে গঠন করেন কুখ্যাত আলবদর বাহিনী। জামালপুরে আলবদর বাহিনীর সাতটি ক্যাম্প স্থাপন করে সেসব ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক নিরীহ মানুষকে ধরে এনে অত্যাচার-নির্যাতন করে হত্যা করেন। পাক হানাদার বাহিনী এ দেশে তাদের কাপুরুষোচিত হত্যা, লুণ্ঠনে যেসব সহযোগী দালাল বাহিনী গঠন ও পত্তন করে তার মধ্যে ছিল রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি। এসব বাহিনী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিলে নৃশংসতায় মেতে ওঠে। এমনকি এরা লিখিত প্রামাণিক দলিলে নিজেদের সাক্ষাৎ আজরাইল বলে পরিচয় দিতে দ্বিধা করেনি। তাদের সেসব ঔদ্ধত্য বুকে ধরে রেখেছে তাদের দলীয় মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম তার পৃষ্ঠায়। সেই আজরাইল বাহিনীর অন্যতম সংগঠক কামারুজ্জামান ফাঁসিতে ঝোলার আগে বলেছেন, প্রাণের মালিক আল্লাহ, প্রেসিডেন্ট নন- নির্ভেজাল এ সত্যি কথাটি আলবদরপ্রধান যদি ১৯৭১-এ সত্যি বলে জানতেন, বুঝতেন আর উপলব্ধি করতেন তাহলে সোহাগপুরে ১৪৪ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে বিধবাদের গ্রাম তৈরি করার কোনো অবকাশ পেতেন না। তার গড়া আলবদর বাহিনী কত না মানুষের প্রাণ হরণ করেছে আজরাইলরূপে। এমনকি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে যখন বাঙালি জাতি, ঠিক তার দুই-তিন দিন আগেও এই আলবদর বাহিনী ঘর থেকে ধরে নিয়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে জাতির মেধাবী সন্তান, শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের। আর এসবই তারা করেছে শান্তির ধর্ম ইসলামের দোহাই দিয়ে। সেদিন যেমন আলবদরপ্রধান ইসলামের নামে ইসলামকে কলংকিত করেছেন, তার পক্ষে বিজয় চিহ্ন প্রদর্শন করে তার সন্তানরা আবারও একই কাজ করেছে। প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লার পরিবারও বিজয় চিহ্ন প্রদর্শন করে একই কাণ্ড করেছিল।
একথা সত্যি, হত্যার জবাব হত্যা নয়, কিন্তু গণহত্যার অপরাধীকে তো নিবৃত্ত করতেই হবে। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পর দেশ যখন সেই গণহত্যার দায় মোচনের জন্য সেসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে দণ্ড প্রদান করছে, দেখা যাচ্ছে তখনও পাপের ছায়া তাদের ছেড়ে যেতে চাইছে না। অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এ আজরাইলদের শেকড়। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে দেয়া পরবর্তী রায়গুলো কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমরা আর সংশয়-সন্দেহ-দ্বিধা দেখতে চাই না। বিষবৃক্ষের শেকড় উৎপাটন করে রক্ষা করতে হবে এই দেশ, দেশের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close