¦
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ড. একেএম শাহনাওয়াজ | প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

২০৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনেক রক্তের পথ ধরে বাঙালি নেতৃত্বের হাতে পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা আসবে- এমন এক মুহূর্তে বাঙালির আকাঙ্ক্ষাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা। মুহূর্তেই জ্বলে উঠল পূর্ব পাকিস্তান। মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। শেখ মুজিব এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে ২ মার্চ ঢাকা শহরে ও ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করেন। একই সঙ্গে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এ সময় থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসনের আশা করা বৃথা। ফলে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে থাকে। এর মধ্যে হরতাল কর্মসূচিগুলো সফলভাবে পালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের এক সভায় সংগ্রামী ছাত্রসমাজ ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। হরতালের দিনে ঢাকায় গুলিবর্ষণ হলে মানুষের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এবার প্রত্যক্ষ প্রতিরোধে নামে জনতা। কারফিউ ভেঙে মিছিল বেরোয় পথে। সেনাবাহিনীর চলাচলের পথে ব্যারিকেড দেয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ইয়াহিয়া খান ১০ মার্চ ঢাকায় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক আহ্বান করেন। কিন্তু সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে শেখ মুজিব এ বৈঠকে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
৩ মার্চ পল্টনের বিশাল জনসভায় শেখ মুজিব ৬ মার্চ হতে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে ২টা পর্যন্ত একটানা হরতাল ঘোষণা করেন। এ সময় কোর্ট-কাচারি, সরকারি অফিস, কলকারখানা, রেল, স্টিমারসহ সবকিছু বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়। সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার ও জনগণের দাবি না মানা পর্যন্ত সবরকম খাজনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। পল্টনের এই সভায় ‘স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্র প্রচার করে। ৭ মার্চের ভাষণে প্রচ্ছন্নভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল, যা মুক্তিপাগল বাঙালির বুঝতে অসুবিধা হয়নি।
এ অবস্থায় এক গোপন পরিকল্পনা করেন ইয়াহিয়া খান। এদেশে গণহত্যা করে বাঙালিকে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। তাই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রয়োজনীয় সৈন্যবাহিনী আর অস্ত্র আনতে থাকে এদেশে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ যাতে পরিকল্পনা আঁচ করতে না পারে এবং নিজেদের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য যাতে কিছু সময় পাওয়া যায় সেজন্য একটি নাটকের আয়োজন করে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য শেখ মুজিবকে অনুরোধ জানান ইয়াহিয়া খান। ১৬ মার্চ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক হয়। একপর্যায় জুলফিকার আলী ভুট্টোকেও বৈঠকে ডাকা হয়। কিন্তু সংকট সমাধানের বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শাসকদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে সারা দেশে মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে থাকে। নেতৃবৃন্দের আহ্বানে শ্রমিকরা চট্টগ্রামে জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে অস্বীকার করে। ২৩ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সব ধরনের প্রস্তুতির পর ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন। ঢাকা ছাড়ার আগে বাঙালির আন্দোলন চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য তিনি সেনাবাহিনীকে গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে যান।
 

সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close