¦
নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা

| প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও বিএনপি সমর্থিত তিন সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকেই গ্রেফতার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ নানাভাবে তাদের হয়রানি করছে। এর বিপরীতে সরকারি দলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর আনুকূল্যও লাভ করছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। জানা গেছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা থাকায় বিএনপি সমর্থিত বেশিরভাগ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছেন না। গোপনে যাতে কেউ বাসায় আসতে না পারেন সেজন্য প্রার্থীর বাড়ির সামনে ও আশপাশে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারদলীয় ক্যাডাররাও ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে প্রচারকার্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
আমরা সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বারবার বলে আসছি। দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মুখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। দলের সমর্থন পেয়েও হয়রানি ও গ্রেফতার আতংকে প্রকাশ্যে গণসংযোগ চালাতে না পারলে প্রার্থীদের সমান সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা অধরাই থেকে যাবে। নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে বিরোধী দলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের আইনি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ইতিবাচক পদক্ষেপ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ অর্থবহ করে তোলার জন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বও কম নয়।
এ সরকারের অধীনে স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হলে ধ্বংসাত্মক আন্দোলন পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে আসতে বিএনপির ওপর এক ধরনের নৈতিক চাপ তৈরি হবে। প্রতিটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতির কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু বিরোধী দলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের বিমাতাসুলভ আচরণ অব্যাহত থাকলে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা, যে-কারও মনে এ সন্দেহ দানা বাঁধতে পারে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপারে অনুদার ও অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং কার্যকলাপ অব্যাহত থাকলে নির্বাচন হবে একতরফা, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা হবে প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার ইচ্ছা করলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি বজায় রেখে সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনতে পারবে। কিন্তু তা করা আদৌ ঠিক হবে কি? গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখার স্বার্থে দেশে স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল পরিবেশ অপরিহার্য। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিরোধী দলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীদের ওপর অবিলম্বে দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধ করে তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ করে দেয়া হবে- এটাই প্রত্যাশা।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close