¦
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ড. একেএম শাহনাওয়াজ | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

২০৮
এবার মুক্তিবাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কর্নেল মুহম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়। মুক্তিবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা, পুলিশ, আনসার, ছাত্র, যুবক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী কর্মীসহ সব স্তরের বাঙালি। নতুন সরকারের কাছে স্পষ্ট ছিল, শুধু মাতৃভূমি মুক্ত করার তীব্র ইচ্ছাশক্তি থাকলেই চলবে না, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য মুক্তিবাহিনীরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ ব্যাপারে ভারত সরকার পূর্ণ সহযোগিতা দেয়। কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণে দেশপ্রেমের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা যোগ্য হয়ে ওঠেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।
সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে এক একজন সেক্টর কমান্ডারের হাতে প্রতি সেক্টরের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। জুনের শেষদিকে বিভিন্ন জেলায় মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছড়িয়ে পড়েন। গেরিলা পদ্ধতিতে পাকিস্তানিদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালাতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণ প্রচণ্ড রূপ নেয় অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে। পাকবাহিনী মরিয়া হয়ে দেশব্যাপী হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে থাকে।
মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক সশস্ত্র বাহিনীও গঠন করা হয়। এ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। এই বাহিনীর নাম হয় ‘বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্ট’, সংক্ষেপে বিএলএফ। পরে বিএলএফ ‘মুজিব বাহিনী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এ বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তারা দেশের ভেতরে পাকবাহিনীর যাতায়াত ও রসদ সরবরাহ বন্ধের জন্য ডিনামাইট দিয়ে ব্রিজ, কালভার্ট উড়িয়ে দিত। অতর্কিত আক্রমণ চালাত পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে।
মুক্তিবাহিনী ও মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে গেলেও এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। এভাবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সৈন্য এবং শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী গঠন করতে হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেক্টরগুলোয় মুক্তিবাহিনীর পাশে থেকে তারা আক্রমণ পরিচালনা করতে থাকে। নৌ মুক্তিযোদ্ধাদের আঘাতে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, বরিশাল ও চালনায় শত্র“পক্ষের অনেক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা পাকিস্তানের কয়েকটি নৌযানও দখল করে নেয়। বিমান বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় এয়ার কমোডর একে খন্দকারের ওপর। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সফল বিমান আক্রমণ চালায় এ বিমান বাহিনী।
মুক্তিবাহিনী, মুজিব বাহিনী ও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু বাহিনী গড়ে ওঠে। এসব বাহিনীও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইলে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কাদেরীয়া বাহিনী ও হেমায়েত বাহিনী অন্যতম। এভাবে সব বাহিনী মিলে কমপক্ষে ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া তালিকাভুক্ত না হলেও বাংলার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় বা মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিকভাবে
সহযোগিতা করে।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে পাকিস্তানি সৈন্যরা নিজেদের হাত শক্ত করার জন্য সুবিধাবাদী এদেশীয় দালালদের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সহযোগী বাহিনী গড়ে তোলে। পাকিস্তানপন্থী ও স্বার্থবাদী বাঙালি ছাড়াও এসব বাহিনীতে অবাঙালি বিহারিরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। নানা নামে এসব বাহিনী গঠন করা হয়। এগুলো হচ্ছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ইত্যাদি। বিভিন্ন অঞ্চলে, পাড়ায় মহল্লায় পাকিস্তানিদের তাঁবেদার কমিটিও গঠন করা হয়। এসব কমিটি শান্তি কমিটি নামে পরিচিত। এসব দালাল গোষ্ঠীর দায়িত্ব ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের খবর সংগ্রহ করা, সাধারণ বাঙালির ওপর অত্যাচার করে ভীতি সৃষ্টি করা, পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে সামরিক সহযোগিতা দেয়া এবং বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে বাঙালিকে মেধাশূন্য করে দেয়া।
 

সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close