¦
এ মৃত্যুর দায় কার?

| প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৫

রাজধানীর রামপুরায় দোতলা টিনশেড ঘর ঝিলে দেবে গিয়ে বেশকিছু মানুষের সলিল সমাধির ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এ নগরীতে বসবাসরত নিুআয়ের মানুষের জীবন কত অরক্ষিত। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। বুধবার দেবে যাওয়ার সময় ঘরের অধিকাংশ বাসিন্দা ছিলেন বিশ্রামে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। তাদের কাছে, বিশেষত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, এ মৃত্যুর দায় কার? যে ঝিলের ওপর টিনশেড ঘরটি নির্মিত, সেটি সরকারি জমির অংশ। অথচ ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই। জানা যায়, ঘরটির নির্মাতা একজন স্থানীয় যুবলীগ নেতা। আমাদের প্রশ্ন, সেজন্যই কি এটি বৈধতা পেয়ে গেছে? এ ধরনের বৈধতার পরিণতি কী হতে পারে, এ মর্মান্তিক ঘটনাই তার প্রমাণ।
এ ঝিলের ওপর এমন স্থাপনা আরও আছে, হয়তো বা একই পরিণতির অপেক্ষায়। শুধু ওই ঝিলে নয়, রাজধানীর নানা স্থানে খাস জমি দখল করে তার ওপর বস্তিঘর বানিয়ে সেগুলো নিুআয়ের মানুষের কাছে ভাড়া দিয়ে দিব্যি ব্যবসা ফেঁদে বসেছে কিছু মানুষ। খোঁজ নিলে জানা যাবে, তাদের অধিকাংশই সরকারি দল বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতা। এদের অতীত ঘাঁটলে আরও জানা যাবে, যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের পরিচয়েই রাজত্ব করে এরা। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পরিচয়ও পাল্টে যায়। আসলে এরা বসন্তের কোকিল। সবাই এটা জানে, বোঝে। শুধু বোঝে না সরকারি দলের লোকেরা। তাদের বিবেচনায় নিজেদের লোক হলে সাত খুন মাফ! এ দৃষ্টিভঙ্গিই ওদের টিকিয়ে রাখে বহাল তবিয়তে। চলতে থাকে খাস জমির ওপর অবৈধ কারবার। এ সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এ ধারা চলতেই থাকবে।
বুধবারের ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর যথারীতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হয়তো তারা একটি রিপোর্টও দেবে। কিন্তু তাতে প্রকৃত অপরাধীদের সাজা হবে কি? সবচেয়ে বড় কথা, রাজধানীতে এ ধরনের অপমৃত্যুর ঝুঁকি সামান্যও কমবে কি? আমরা সন্দিহান। যে পর্যন্ত না সরকারি জমির ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার প্রবণতা রোধ হচ্ছে আর সরকার এসব দেখেও না দেখার ভান করা বন্ধ করছে, সে পর্যন্ত এ ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাবে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে খাস জমির ওপর, সেহেতু সরকার কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। কাজেই শুধু এই একটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করলেই চলবে না, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যবস্থাও করতে হবে এবং তা জরুরি ভিত্তিতে। নয়তো কদিন না যেতেই অন্য অনেক ঘটনার মতো এ ঘটনাও সবাই ভুলে যাবে। নেয়া হবে না কোনো ব্যবস্থা। সমস্যাটি থেকে যাবে সেই তিমিরেই।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close