¦
ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ আমদানি

| প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট রিপ্যাকিং (পুনঃমোড়কজাতকরণ) করে বাজারজাত করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। জানা গেছে, চীনসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল-ক্লিনিকে ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট পুনঃমোড়কজাত করে বাংলাদেশে এনে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী তা বাজারজাত করছে। শুধু তাই নয়, অসাধু ব্যবসায়ীরা কাগজপত্রে অন্য পণ্যের নাম ঘোষণা দিয়ে জীবণরক্ষাকারী ওষুধসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও আমদানি করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, একই সুই-সিরিঞ্জ একাধিকার ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস, এইডস, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজের অজান্তেই মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। আরও দুশ্চিন্তার বিষয় হল, একশ্রেণীর অসৎ নার্স, আয়া, বয় ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে সিরিঞ্জসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা পরে পরিষ্কার করে পুনঃব্যবহারের জন্য বাজারজাত করা হচ্ছে। রাজধানীর অনেক ছিন্নমূল শিশু দূষিত ও জীবাণুযুক্ত এসব বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিষ্কার করতে গিয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। শুধু তারাই নয়, মাদকাসক্তসহ যারা এসব সিরিঞ্জ পুনঃব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত হন, তাদের সবার জীবনই বিপন্ন হওয়ার আশংকা তৈরি হয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ব্যবহৃত বর্জ্যগুলো কোনোভাবেই বাইরে যাওয়ার কথা নয়। ব্যবহারের পর এসব বর্জ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার পর পুড়িয়ে নষ্ট করার জন্য রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এ খাতে খরচ করা হচ্ছে বিপুল অর্থ। তারপরও এ ঘটনা কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটের অবৈধ আমদানি রোধ করার পাশাপাশি হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুনিয়ন্ত্রিত করা প্রয়োজন।
গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চয়তা না থাকায় অবৈধভাবে আমদানি করা ওষুধ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশংকা থাকে। যে কোনো ওষুধের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের বিষয় জড়িত। কাজেই ওষুধ প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়া ওষুধ আমদানির সুযোগ নেই। সুই-সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ডিভাইস। এসব আমদানি করতে হলে অবশ্যই পূর্বানুমতি নেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ডিসপোজেবল নিডল ও সিরিঞ্জ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এগুলো আমদানির অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করছে বটে। তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার যেভাবে চিন্তা করছে, বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটছে না। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও আন্তরিকতা সত্ত্বেও দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ও স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিকে যুগোপযোগী ও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অবৈধ পন্থায় আমদানি করা ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ, স্যালাইন সেট, ওষুধ এবং দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মধ্য দিয়ে সে চিত্রটিই পরিস্ফুট হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে এ অবস্থা বিরাজ করলে মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে নিপতিত হবে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে, যা মোটেই কাম্য নয়।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close