¦
হিংস্র কায়দায় নারী নির্যাতন

| প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

গতকালের যুগান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত গাছের সঙ্গে বেঁধে এক নারীকে নির্যাতনের ছবিটি যারা দেখেছেন, তারা নিচের ক্যাপশনটি পড়ে শিউরে উঠেছেন। ক্যাপশনটি না পড়লে মনে হতে পারত, এ বুঝি কোনো সিনেমার দৃশ্য; ভিলেন নায়িকাকে নির্যাতন করছে। অবাক কাণ্ডই বটে, এই সার্বভৌম দেশে আইন-আদালত আছে, আছে আইনশৃংখলা বাহিনী, শিক্ষিত সচেতন মানুষ; অথচ দুর্গম কোনো পাহাড়ি এলাকা নয়, ঘনবসতির সমতল ভূমিতেই এক শিক্ষিত গৃহবধূকে এক গ্রাম মানুষের সামনেই খোলা প্রান্তরে নির্যাতন করেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তার অপরাধ প্রেমের বিয়ে সত্ত্বেও তাকে ঘরে তুলতে টালবাহানা করার একপর্যায়ে তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ববিতার সঙ্গে প্রেমের বিয়ে হয়েছিল নড়াইলের লোহাগড়া নিবাসী সেনাসদস্য শফিকুল শেখের। ববিতার মা ঘটনার পর বাদী হয়ে শফিকুল ও নির্যাতনে অংশগ্রহণকারী তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। এ মামলার পরিণতি কী হবে আমরা জানি না, তবে নির্যাতনকারী একজন সেনাসদস্য বলে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই তার কৃত অপরাধের জন্য বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে অবশ্যই। গুরুতর আহত ববিতা এখন নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সুচিকিৎসারও ব্যবস্থা নিতে হবে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
দেশে নারী নির্যাতনের বর্তমান চিত্র খারাপ বললে কম বলা হবে, চিত্রটি ভয়াবহ। পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে কোনো না কোনো ধরনের নারী নিগ্রহ অথবা নির্যাতন। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে। এ আইন থাকা সত্ত্বেও নারী নির্যাতন কেন কমছে না, তা এক প্রশ্ন বটে। আইনের কার্যকারিতার মধ্যেই কি রয়েছে কোনো গলদ, যে কারণে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না? অবশ্য শুধু আইনের জোরে নারী নির্যাতন ও নিগ্রহ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সুশিক্ষার বিস্তার। নারীকে একশ বছর আগে যে চোখে দেখা হতো, সভ্যতার বর্তমান পর্যায়েও তার বিশেষ হেরফের হয়নি। আসলে নারীকে সম্মানের পাত্র হিসেবে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব না হলে নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তাই নিতে হবে গণসচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close