¦
আদি পর্বের মানুষ

ফিওদর করোভকিন | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

প্রাচীন মিসরে কারিগরদের অবস্থা
ফারাও ও অন্যান্য ধনাঢ্য দাস-মালিকের মালিকানাধীনে যেসব কর্মশালা ছিল সেখানেই অধিকসংখ্যক কারিগর কাজ করত। খবরদারির জন্য তাদের পেছনে লেগে থাকত খুঁতখুঁত ও কড়া স্বভারের পরিদর্শকরা। কারিগর বা হস্তশিল্পীদের জীবন সম্পর্কে প্রাচীন জনৈক মিসরীয়র বর্ণনা এ রকম : ‘তাঁতীকে সারাটা দিন তার তাঁতের সামনে কী কষ্ট করেই না বসে থেকে কাজ করতে হতো, নিঃশ্বাস নিতে হতো শণের আঁশ মেশানো ধুলোবালিতেই। সে নিজের ক্ষুধার অন্ন দিয়ে দিত পরিদর্শককে, যাতে সে কিছুক্ষণের জন্য অন্তত তাকে বাইরে উন্মুক্ত আলো-হাওয়ায় গিয়ে একটু দাঁড়ানোর অনুমতি দেয়। সারা দিনের যতটুকু কাজ হওয়ার কথা তার কম হলেই তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হতো। চাষীদের চেয়েও বেশি পরিশ্রম হতো ছুতোরদের। মানুষের হাত দিয়ে যতখানি পরিশ্রম করা সম্ভব, তার চেয়েও বেশি না খেটে তার উপায় ছিল না। এমনকি রাতেও ছুতোরকে কাজ করতে হতো। রাজমিস্ত্রি, যারা বিশাল বিশাল প্রসাদ নির্মাণে নিয়োজিত থাকত, তাদের কপালে এক টুকরা রুটি পর্যন্ত জুটত না, আর তাদের পোশাক- জীর্ণ শতচ্ছিন্ন একটুকু বস্ত্রখণ্ড। তাদের মারধর করা হতো, রেহাই পেত না তাদের ছেলে-পিলেরাও।’ ‘মার কাকে বলে সে আমি দেখেছি বটে, মার আমি দেখেছি বটে’- এ মর্মন্তুদ সত্যভাষণ থাকত ওই প্রাচীন মিসরীয়র বর্ণনার মধ্যে।
দরিদ্র ও দাসদের অভ্যুত্থান : প্রাচীন মিসরের কৃষক, কারিগর ও দাসরা কি ফারাও ও দাস-মালিকদের এ অসহ্য অত্যাচারের জোয়াল চিরটাকাল মুখ বুজে সহ্য করে গেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রাপ্ত দলিল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মিসরে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। ঘটনাটি খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ অব্দের কাছাকাছি সময়ে ঘটেছিল।
প্রাপ্ত নথিতে কোথাও বলা হয়নি কী পরিণতি ঘটেছিল দাস ও দরিদ্র-অভ্যুত্থানের; তবে বোঝা যায়, রাষ্ট্রক্ষমতার সব শক্তি কাজে লাগিয়ে দাস-মালিকরা অভ্যুত্থান দমন করে ফারাওদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রশাসকরা পালিয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচায়। আমলারা প্রাণে মারা পড়ে। হিসাবের খাতা, যা দেখে খাজনা আদায় করা হতো, সেসব ধ্বংস করে ফেলা হয়। গরিবের দল বিশাল প্রাসাদগুলোয় ঢুকে পড়ে। যারা হালকা-পাতলা কাপড়ে সুবেশিত ছিল তাদের লাঠি দিয়ে প্রহার করতে থাকে। জমকালো পোশাকে অভ্যস্ত দাস-মালিকরা শতচ্ছিন্ন কাপড়-চোপড় পরে ছিল। ধনসম্পদের অধিকারী যারা ছিল, তারা নিঃস্ব হয়ে যায়।
অন্যদিকে যাদের একজোড়া বলদ পর্যন্ত ছিল না, তারা হয়ে গেল এক পাল পশুর মালিক। যারা শস্য আদায় করেছিল এককালে, তারা এখন তা নিজে থেকেই দিয়ে দিতে লাগল। দাসেরা নিজেরাই আবার অন্য দাসদের মালিক হয়ে দাঁড়াল।
অনুবাদ : হায়াৎ মামুদ
 

সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close