¦
ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল

| প্রকাশ : ১০ মে ২০১৫

সারা দেশে বর্তমানে ৪২টি ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে ৪২টি ট্রাইব্যুনাল সংখ্যার হিসাবে কম নয়। তবে ট্রাইব্যুনালগুলোয় বিচারাধীন মামলাগুলোর কি নিষ্পত্তি হচ্ছে দ্রুত? বাস্তবতা হচ্ছে, ৪২টি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে মাত্র ১২টিতে নিয়মিত বিচারক আছেন। বাকিগুলো চলছে ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিয়ে। অভাব রয়েছে অন্যান্য লোকবলেরও। ফলে ট্রাইব্যুনালগুলোয় দিন দিন বেড়ে চলছে মামলার জট। সমস্যা আরও প্রসারিত। মামলার শুনানির তারিখ পড়ে ছয় মাস থেকে এক বছর পর পর্যন্ত। আবার পূর্বনির্ধারিত তারিখে দেখা যায় শুনানি হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, ট্রাইব্যুনালের রায়ে হেরে যাওয়ার পর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো জায়গা নেই। স্টেট অ্যাকুইজেশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট ১৯৫০ (২০০৪ সালে যা সংশোধিত হয়েছে)-এ আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা গঠন করা হয়নি।
বাংলাদেশে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের অন্ত নেই। মাঠ পর্যায়ে যারা ভূমি জরিপের কাজ করে থাকেন, তারা অর্থের বিনিময়ে প্রচুর অনিয়ম করেন, দায়িত্বে অবহেলারও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে তৈরি হয় ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা। এছাড়া ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অন্যের জমি হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও অসংখ্য। বিশেষত গ্রামের অশিক্ষিত দুর্বল শ্রেণী ভূমি নিয়ে চক্রান্তকারীদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেন না। ছোটখাটো অসামঞ্জস্য নিষ্পত্তির ব্যাপারে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেয়া থাকলেও তারা তা পালনে আন্তরিক নন। ফলে বঞ্চিতরা বাধ্য হয়েই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। কথা হচ্ছে, সেখানেও যদি তারা ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হন, তাহলে তারা যাবেন কোথায়? ভূমি জরিপ সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রত নিষ্পত্তি করতে হবে। এজন্য যেসব ট্রাইব্যুনালে নিয়মিত বিচারক নেই, সেখানে বিচারক নিয়োগ করতে হবে। বাড়াতে হবে লোকবলও। রোধ করতে হবে শুনানির তারিখ পরিবর্তনের ধারা। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ গাঁটের পয়সা খরচ করে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে শুনবেন, আজ শুনানি হবে নাÑ এমনটা চলতে পারে না। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়, গঠন করতে হবে আপিল ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে হলে যেতে হচ্ছে হাইকোর্টে। সেটা আরেক বিড়ম্বনা। সবশেষে আমরা মনে করি, এসিল্যান্ড, রাজস্ব কর্মকর্তা ও ভূমি আপিল বোর্ড তৎপর হলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার অনেকটাই নিরসন হবে।
সম্পাদকীয় পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close