jugantor
অফিসিয়াল পাসপোর্ট জালিয়াতি
দুর্নীতিবাজের সাজা নিশ্চিত করতে হবে

   

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। এদিনই যুগান্তরে এক বড় দুর্নীতিবাজ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুন্সি মুয়ীদ ইকরাম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে জালিয়াতির মাধ্যমে অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেয়ার রীতিমতো ‘কারবার’ খুলে বসেছিলেন। একটি দুটি নয়, তার ২২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে বিপুল অংকের টাকা! এসব অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ঘুষের অর্থ। যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জমা হয়েছে তার অ্যাকাউন্টে। ঘুষের বিনিময়ে তিনি সাধারণ মানুষকে সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে মানব পাচারের জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে অফিসিয়াল পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছেন। তার ঘুষের রেট পাসপোর্টপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা!

এই চরম দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিটি একাধারে দুটি অপরাধ করেছেন- পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং মানব পাচারে সহায়তা। এজন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু সংশয় দেখা দিয়েছে, এত বড় অপরাধের পরও তার আদৌ উপযুক্ত শাস্তি হবে কি? কারণ এ দেশে টাকার জোরে পার পেয়ে যাওয়ার নজির কম নেই। যে ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা কামিয়েছেন, তিনি টাকা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করবেন, এমন আশংকা অমূলক নয়। তাই বিচারের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সম্প্রতি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার অপরাধের তুলনায় এ শাস্তি নগণ্য।

এ দেশে রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এর সামান্যই গণমাধ্যমে উঠে আসে। এক প্রধান বনরক্ষকের কথা আমরা জানি, যিনি বন রক্ষার পরিবর্তে দুর্বৃত্তদের বন ধ্বংস করার সুযোগ করে দিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনেক বেশি সতর্ক। তাই তিনি ডজন ডজন ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা গচ্ছিত রাখার ঝুঁকি নেননি। টাকা রেখেছিলেন নিজ বাসায় বালিশের ভেতর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার বিচার হয়েছে, সাজা ভোগ করছেন। আমরা চাই মুন্সি মুয়ীদ ইকরামের মতো দুর্নীতিবাজদেরও উপযুক্ত বিচার ও সাজা হোক, যাতে দুর্নীতিবাজদের মনে ভীতি সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি রুখতে হবে কঠোরভাবে। এক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।



সাবমিট

অফিসিয়াল পাসপোর্ট জালিয়াতি

দুর্নীতিবাজের সাজা নিশ্চিত করতে হবে
  
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। এদিনই যুগান্তরে এক বড় দুর্নীতিবাজ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাসপোর্ট অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুন্সি মুয়ীদ ইকরাম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে জালিয়াতির মাধ্যমে অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেয়ার রীতিমতো ‘কারবার’ খুলে বসেছিলেন। একটি দুটি নয়, তার ২২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া গেছে বিপুল অংকের টাকা! এসব অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ঘুষের অর্থ। যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জমা হয়েছে তার অ্যাকাউন্টে। ঘুষের বিনিময়ে তিনি সাধারণ মানুষকে সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে মানব পাচারের জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে অফিসিয়াল পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছেন। তার ঘুষের রেট পাসপোর্টপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা!

এই চরম দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিটি একাধারে দুটি অপরাধ করেছেন- পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং মানব পাচারে সহায়তা। এজন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু সংশয় দেখা দিয়েছে, এত বড় অপরাধের পরও তার আদৌ উপযুক্ত শাস্তি হবে কি? কারণ এ দেশে টাকার জোরে পার পেয়ে যাওয়ার নজির কম নেই। যে ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা কামিয়েছেন, তিনি টাকা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করবেন, এমন আশংকা অমূলক নয়। তাই বিচারের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সম্প্রতি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার অপরাধের তুলনায় এ শাস্তি নগণ্য।

এ দেশে রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এর সামান্যই গণমাধ্যমে উঠে আসে। এক প্রধান বনরক্ষকের কথা আমরা জানি, যিনি বন রক্ষার পরিবর্তে দুর্বৃত্তদের বন ধ্বংস করার সুযোগ করে দিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনেক বেশি সতর্ক। তাই তিনি ডজন ডজন ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা গচ্ছিত রাখার ঝুঁকি নেননি। টাকা রেখেছিলেন নিজ বাসায় বালিশের ভেতর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার বিচার হয়েছে, সাজা ভোগ করছেন। আমরা চাই মুন্সি মুয়ীদ ইকরামের মতো দুর্নীতিবাজদেরও উপযুক্ত বিচার ও সাজা হোক, যাতে দুর্নীতিবাজদের মনে ভীতি সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি রুখতে হবে কঠোরভাবে। এক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শনের সুযোগ নেই।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র