jugantor
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
রেড স্কোয়ারে সৈন্যদের প্যারেড

  ভিক্তর মাৎসুলেনকো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

সোভিয়েত নেতাদের নেয়া ব্যবস্থার ফলে জার্মান অগ্রগতি ক্রমেই মন্থর হয়ে আসছিল। অক্টোবরের গোড়ায় নাৎসিদের আক্রমণ অভিযানের গতি ছিল দিনে ২৫ কিলোমিটার, কিন্তু মাসের শেষদিকে তা কমে গিয়ে ২-৩ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ৩০ অক্টোবর নাগাদ মজাইস্ক ও ভলকলামস্কের পূর্বে ফ্রন্টটি সুস্থিরতা লাভ করে। মস্কো অভিমুখে প্রথম জার্মান আক্রমণ অভিযানটি ব্যর্থ হয়। সোভিয়েত সৈন্যদের সুদৃঢ় প্রতিরক্ষার কারণে জার্মানরা বেশ দুর্বল হয়ে যায় আর তার আক্রমণকারী গ্রুপিংগুলো রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। মস্কো অভিমুখে জার্মান আক্রমণে দু’সপ্তাহের বিরতি শুরু হল।

সর্বোচ্চ সোভিয়েত সেনাপতিমণ্ডলী এই বিরতির পূর্ণ সুযোগ নেয়। সৈন্যদের প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করা হয়, তাদের জনবল বৃদ্ধি করে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হয়। মস্কোর নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোয় বহু যুদ্ধসীমা বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ চলতে থাকে।

৭ নভেম্বর মস্কোর রেড স্কোয়ারে সোভিয়েত সৈন্যদের ঐতিহ্যগত প্যারেডের বিপুল রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সোভিয়েত সৈন্যরা তিখভিন ও রস্তভের কাছে পাল্টা আক্রমণ আরম্ভ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল, ওখানে শত্রুর যুদ্ধরত আক্রমণকারী গ্রুপিংগুলোকে বিধ্বংস করা এবং শত্রুকে ওগুলোর সাহায্যে তার ‘সেন্টার’ গ্রুপের শক্তি বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত করা।

১৫-১৬ নভেম্বর জার্মান-ফ্যাসিস্ট বাহিনী মস্কো অভিমুখে দ্বিতীয়- এবং এটাই শেষ- আক্রমণ অভিযান শুরু করে। ৫১টি ডিভিশন- যার মধ্যে ছিল ১৩টি ট্যাংক ও ৭টি মেটোরাইজ্ড ডিভিশন- নিয়ে গঠিত ‘সেন্টার’ গ্রুপের বাহিনীগুলো দুটি শক্তিশালী আক্রমণকারী গ্রুপিং দিয়ে উত্তর বরাবর- ভালকলামস্ক অঞ্চল থেকে ইয়াখরোমা ও নগিন্স্কের দিকে (৩য় ও ৪র্থ ট্যাংক গ্রুপ) এবং দক্ষিণ বরাবর- তুলা অঞ্চল থেকে কাশিরা ও নগিন্স্কের দিকে (২য় ট্যাংক বাহিনী) মস্কোর চারপাশে এগোনোর এবং সোভিয়েত রাজধানীকে ঘিরে ফেলে এবং একসঙ্গে ফ্রন্ট দিক থেকে আঘাত হেনে তাকে দখল করে নেয়ার চেষ্টা করছিল। ফ্রন্ট দিক থেকে আক্রমণ চালাচ্ছিল ৪র্থ ফিল্ড আর্মি (১৮টি ডিভিশন)। ‘সেন্টার’ গ্র“পের আক্রমণকারী গ্র“পিংগুলোকে সমর্থন জোগানোর দায়িত্ব পড়ে উত্তর থেকে ৯ম বাহিনীর ওপর আর দক্ষিণ থেকে ২য় বাহিনীর ওপর।

সোভিয়েত সর্বোচ্চ সর্বাধিনায়কমণ্ডলীর সদর-দফতর যথাসময়ে জার্মানদের অবস্থা ও শক্তি আবিষ্কার করে তাদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পারে এবং জনবল, ট্যাংক, আর্টিলারি ও বিমান দিয়ে পশ্চিম ফ্রন্টটি সুদৃঢ়করণের উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার, বিশেষত ট্যাংকবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার, উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে এবং মস্কো অঞ্চলে রিজার্ভগুলো কেন্দ্রীভূত করার ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকতর দৃঢ় ও স্থায়ী হয়ে ওঠে। কিন্তু জনবলে ও যুদ্ধোপকরণে সাধারণ শ্রেষ্ঠতা তখনও ছিল জার্মানদের অনুকূলে : জনবলে প্রায় দ্বিগুণ, ট্যাংকে দেড়গুণ, আর্টিলারিতে আড়াই গুণ। কেবল বিমানের ক্ষেত্রে জার্মানরা সোভিয়েত সৈন্যদের চেয়ে দেড়গুণ পিছিয়ে ছিল।

অনুবাদ : বিজয় পাল




 

সাবমিট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

রেড স্কোয়ারে সৈন্যদের প্যারেড

 ভিক্তর মাৎসুলেনকো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

সোভিয়েত নেতাদের নেয়া ব্যবস্থার ফলে জার্মান অগ্রগতি ক্রমেই মন্থর হয়ে আসছিল। অক্টোবরের গোড়ায় নাৎসিদের আক্রমণ অভিযানের গতি ছিল দিনে ২৫ কিলোমিটার, কিন্তু মাসের শেষদিকে তা কমে গিয়ে ২-৩ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ৩০ অক্টোবর নাগাদ মজাইস্ক ও ভলকলামস্কের পূর্বে ফ্রন্টটি সুস্থিরতা লাভ করে। মস্কো অভিমুখে প্রথম জার্মান আক্রমণ অভিযানটি ব্যর্থ হয়। সোভিয়েত সৈন্যদের সুদৃঢ় প্রতিরক্ষার কারণে জার্মানরা বেশ দুর্বল হয়ে যায় আর তার আক্রমণকারী গ্রুপিংগুলো রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। মস্কো অভিমুখে জার্মান আক্রমণে দু’সপ্তাহের বিরতি শুরু হল।

সর্বোচ্চ সোভিয়েত সেনাপতিমণ্ডলী এই বিরতির পূর্ণ সুযোগ নেয়। সৈন্যদের প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করা হয়, তাদের জনবল বৃদ্ধি করে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হয়। মস্কোর নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোয় বহু যুদ্ধসীমা বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ চলতে থাকে।

৭ নভেম্বর মস্কোর রেড স্কোয়ারে সোভিয়েত সৈন্যদের ঐতিহ্যগত প্যারেডের বিপুল রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সোভিয়েত সৈন্যরা তিখভিন ও রস্তভের কাছে পাল্টা আক্রমণ আরম্ভ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল, ওখানে শত্রুর যুদ্ধরত আক্রমণকারী গ্রুপিংগুলোকে বিধ্বংস করা এবং শত্রুকে ওগুলোর সাহায্যে তার ‘সেন্টার’ গ্রুপের শক্তি বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত করা।

১৫-১৬ নভেম্বর জার্মান-ফ্যাসিস্ট বাহিনী মস্কো অভিমুখে দ্বিতীয়- এবং এটাই শেষ- আক্রমণ অভিযান শুরু করে। ৫১টি ডিভিশন- যার মধ্যে ছিল ১৩টি ট্যাংক ও ৭টি মেটোরাইজ্ড ডিভিশন- নিয়ে গঠিত ‘সেন্টার’ গ্রুপের বাহিনীগুলো দুটি শক্তিশালী আক্রমণকারী গ্রুপিং দিয়ে উত্তর বরাবর- ভালকলামস্ক অঞ্চল থেকে ইয়াখরোমা ও নগিন্স্কের দিকে (৩য় ও ৪র্থ ট্যাংক গ্রুপ) এবং দক্ষিণ বরাবর- তুলা অঞ্চল থেকে কাশিরা ও নগিন্স্কের দিকে (২য় ট্যাংক বাহিনী) মস্কোর চারপাশে এগোনোর এবং সোভিয়েত রাজধানীকে ঘিরে ফেলে এবং একসঙ্গে ফ্রন্ট দিক থেকে আঘাত হেনে তাকে দখল করে নেয়ার চেষ্টা করছিল। ফ্রন্ট দিক থেকে আক্রমণ চালাচ্ছিল ৪র্থ ফিল্ড আর্মি (১৮টি ডিভিশন)। ‘সেন্টার’ গ্র“পের আক্রমণকারী গ্র“পিংগুলোকে সমর্থন জোগানোর দায়িত্ব পড়ে উত্তর থেকে ৯ম বাহিনীর ওপর আর দক্ষিণ থেকে ২য় বাহিনীর ওপর।

সোভিয়েত সর্বোচ্চ সর্বাধিনায়কমণ্ডলীর সদর-দফতর যথাসময়ে জার্মানদের অবস্থা ও শক্তি আবিষ্কার করে তাদের দুরভিসন্ধি বুঝতে পারে এবং জনবল, ট্যাংক, আর্টিলারি ও বিমান দিয়ে পশ্চিম ফ্রন্টটি সুদৃঢ়করণের উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার, বিশেষত ট্যাংকবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার, উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে এবং মস্কো অঞ্চলে রিজার্ভগুলো কেন্দ্রীভূত করার ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকতর দৃঢ় ও স্থায়ী হয়ে ওঠে। কিন্তু জনবলে ও যুদ্ধোপকরণে সাধারণ শ্রেষ্ঠতা তখনও ছিল জার্মানদের অনুকূলে : জনবলে প্রায় দ্বিগুণ, ট্যাংকে দেড়গুণ, আর্টিলারিতে আড়াই গুণ। কেবল বিমানের ক্ষেত্রে জার্মানরা সোভিয়েত সৈন্যদের চেয়ে দেড়গুণ পিছিয়ে ছিল।

অনুবাদ : বিজয় পাল




 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র